Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

মাদক কারবারিকে ক্রসফায়ারের চেষ্টা এসআই রবিউলের

ইয়াবা ও নগদ টাকা আদায় করে ছাড়

Advertisement

Icon

এমএ কাউসার, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

চট্টগ্রামে এক মাদক কারবারিকে নির্জন স্থানে নিয়ে ক্রসফায়ারের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে নগরীর আকবরশাহ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রবিউল হোসেনের বিরুদ্ধে। ২৮ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রাম ডিসি পার্কের পাশে নির্জন স্থানে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। পরে ওই মাদক কারবারির কাছ থেকে ইয়াবা ও নগদ টাকা আদায় করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় তার কাছ থেকে কোনো ইয়াবা উদ্ধার বা টাকা নেওয়া হয়নি-এমন স্বীকারোক্তিও নেওয়া হয়।

জানা গেছে, ২৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় নগরীর অলংকার থেকে বাগেরহাটের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ‘এসপি গ্রিনলাইন’ বাসে উঠেন স্বঘোষিত মাদক কারবারি সোহেল হাওলাদার। তার বাড়ি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি থানার সরিষাবাড়ি গ্রামে। বাসটি সিটি গেট এলাকায় পৌঁছালে আকবর শাহ থানার একটি দল তল্লাশির জন্য থামায়। সোহেলকে বাস থেকে নামায় পুলিশ। তার দেহ তল্লাশি করে কোনো কিছু না পেয়ে পুলিশের গাড়িতে উঠানো হয়। পরে তাকে এক্স-রে করার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় সিটি গেট সংলগ্ন গোল্ডেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

এক্স-রে রিপোর্টে সোহেলের বিশেষ অঙ্গের স্থানে কোনো কিছু রয়েছে দেখে এক কনস্টেবল গিয়ে বিষয়টি এসআই রবিউলকে জানান। ওই সময় তিনি গাড়িতে বসে ছিলেন। এসআই রবিউল এক্স-রে কক্ষে যান। তারা সোহেলকে নিয়ে নিচে নামেন। এ সময় সোহেলের তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে নেন পুলিশ কনস্টেবল হালিম। পরে তাকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গাড়িটি বের হয়ে যায়।

বিষয়টি স্বীকার করে সোহেল বলেন, গোল্ডেন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পুলিশ আমাকে গাড়িতে করে টোল রোডে অবস্থিত ডিসি পার্কের পাশে নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে আমাকে ক্রসফায়ার দেওয়ার কথা বলে এবং কি আছে বের করতে বলে। প্রাণে বাঁচতে আমার কাছে থাকা ১৬শ পিস ইয়াবা ও নগদ ৮১ হাজার টাকা বের করে দিই। পরে দৌড় দিতে বলে।

দৌড় না দিয়ে এসআইয়ের পায়ে ধরে জীবন ভিক্ষা চাই। এরপর আমাকে নগরীর একে খান মোড়ে আল আমিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে আবার এক্স-রে করা হয়। ওই রিপোর্টে আর কিছু দেখা যায়নি। গোল্ডেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের এক্স-রে অপারেটর আপেল মোহাম্মদ বলেন, তার শরীরের বিশেষ অঙ্গের স্থানে বেশ কিছু প্লাস্টিকের প্যাকেট ছিল। এটি এক্স-রেতে দেখা গেছে। পুলিশকে জানানোর পর ওই ব্যক্তিকে নিয়ে তারা চলে যান।

আল আমিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সোহেল বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বের হওয়ার পর আবার আমাকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে আমাকে শেষ সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানায়। এজন্য আমার কাছ থেকে কোনো ইয়াবা পাওয়া যায়নি এবং আমার কাছ থেকে তারা কিছু নেয়নি-এমন স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও নেন কনস্টেবল হালিম। পরে সিমগুলো রেখে আমার মোবাইলগুলো ফেরত দেওয়া হয়। রাত সাড়ে ৯টায় ফৌজদারহাট নার্সিং কলেজের সামনে আমাকে নামিয়ে দেয়।

আকবরশাহ থানার ডিউটি বণ্টন তালিকা অনুযায়ী দেখা যায়, ২৮ অক্টোবর থানার এসআই রবিউল ডিউটিতে ছিলেন। তার সঙ্গীয় ফোর্স হিসাবে একজন চালক (কনস্টেবল হালিম) ও তিনজন কনস্টেবল ছিলেন। তবে সোহেলকে আটক এবং ছেড়ে দেওয়া পর্যন্ত এই দলের সঙ্গে একজন বহিরাগত সোর্স ছিলেন বলে জানা গেছে।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে এসআই রবিউল যুগান্তরকে বলেন, সন্দেহজনক আচরণ করায় বাস থেকে এক ব্যক্তিকে নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্স-রে করানো হয়। কিছু না পাওয়ার ভিডিও বক্তব্য রেখে ওই ব্যক্তিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু হয়নি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

রাজশাহী সুগার মিলস হাজার কোটি লোকসান নিয়ে শুরু হচ্ছে উৎপাদন

হাজার কোটি লোকসান নিয়ে শুরু হচ্ছে উৎপাদন

ফ্রিজ ভাড়া দিয়ে মাসে ২ লাখ টাকা আয়

ফ্রিজ ভাড়া দিয়ে মাসে ২ লাখ টাকা আয়

ব্যাংক কর্মকর্তাকে অপহরণ, মারধর মুক্তিপণ আদায়ের পর ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা

মুক্তিপণ আদায়ের পর ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা

মাদক কারবারিকে ক্রসফায়ারের চেষ্টা এসআই রবিউলের

মাদক কারবারিকে ক্রসফায়ারের চেষ্টা এসআই রবিউলের

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম