ফ্রিজ ভাড়া দিয়ে মাসে ২ লাখ টাকা আয়
অভাবে নিজের ফ্রিজটি ভাড়া দিয়েছিলেন খায়রুল। এখন সেই ফ্রিজই ঘুরিয়ে দিয়েছে তার জীবনের চাকা
Advertisement
এসএন পলাশ, বরিশাল
প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অভাবে পড়ে নিজের ফ্রিজটি ভাড়া দিয়েছিলেন খায়রুল ইসলাম। সেই থেকে শুরু। এখন সেই ফ্রিজ ভাড়াই ঘুরিয়ে দিয়েছে তার জীবনের চাকা। প্রতি মাসে ফ্রিজ ভাড়া দিয়ে আয় করেন দুই লাখ টাকারও বেশি। বরিশাল সদর উপজেলার কুন্দইল পাড়া গ্রামের ফজলে আলি হাওলাদারের ছেলে খায়রুলের ফ্রিজ ভাড়া ব্যবসা এখন আলোচনার কেন্দ্রে। একটি ফ্রিজ দিয়ে শুরু করা ব্যবসা এখন চার শতাধিকে পৌঁছেছে। বর্তমানে বরিশাল নগরীর কলেজ অ্যাভিনিউ এলাকায় দোকান ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করছেন ব্যতিক্রমী এই ব্যবসা।
অধিকাংশ শিক্ষার্থী এসব ফ্রিজ ভাড়া নেন। আকার অনুযায়ী প্রতিটি ফ্রিজ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দেওয়া হয়। নিয়মিত সার্ভিসিং করার জন্য পাঁচজন কর্মচারী রয়েছে খায়রুলের। পুরাতন ফ্রিজ ক্রয় করার পর সেগুলো মেরামত করে মাসিক চুক্তিতে ভাড়া দেন তিনি। ভাড়ার টাকা সংগ্রহ ও কোনো ফ্রিজে সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে সেটা মেরামত করেন খায়রুল ও তার লোকজন।
তবে শুরুটা অনেক অনেক কষ্টের ছিল বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে খায়রুল জানান, সাত ভাই-বোনের সংসারে তিনিই সবার ছোট ছিলেন। বাবা একটি স্কুলের দপ্তরি ছিলেন। ২০০৮ সালে এসএসসি পরীক্ষার পর সংসারের অভাব-অনটনে একটি মুদি দোকান দেন তিনি। এতে আট বছরে আট লাখ টাকা লোকসানে পড়েন খায়রুল। এরপর অভাবে পড়ে ওই মুদি দোকানে থাকা ফ্রিজটি প্রতি মাসে ৩০০ টাকা চুক্তিতে একজনের কাছে ভাড়া দেন। তখন ধারদেনায় জীবন অনেকটা অচল অবস্থায় কাটে তার। এরপর বরিশাল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) থেকে ফ্রিজ মেরামতের কাজ শেখেন খায়রুল। ২০১৯ সালে আরও তিনটি পুরাতন ফ্রিজ কিনে মেরামত করে ভাড়া দেন তিনি। এরপর একে এক বাড়তে থাকে খায়রুলের ফ্রিজ, বর্তমানে প্রায় চার শতাধিক ফ্রিজ ভাড়ায় রয়েছে বলে জানান তিনি। এত অল্প টাকায় ফ্রিজ ভাড়া পেয়েও খুশি কয়েক শতাধিক শিক্ষার্থী।
খায়রুল আরও জানান, ফ্রিজ ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অধিক মুনাফা আয়ের চিন্তা করেন না। তাই প্রতিটি ফ্রিজ যারা ভাড়া নিচ্ছেন, তাদের থেকে জামানত হিসাবে এক হাজার করে টাকা রাখেন তিনি। ফ্রিজটি যখন ফেরত দেওয়া হয় তখন ওই এক হাজার টাকা নিয়ে যান সেবাগ্রহীতা। এক সময়ে বরিশাল নগরীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করলেও বর্তমানে কোটি টাকা ব্যয়ে কাশিপুর এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করছেন তিনি।
তার সঙ্গে কাজ করা জাহিদ, আফপান, বিপ্লব, রাহাত ও রিফাত বলেন, পুরাতন ফ্রিজ ক্রয় ও মেরামত করে যে ব্যবসা করা যায় খায়রুল তার অন্যতম উদাহরণ। মাত্র সাত বছরে তিনি চমক দেখিয়েছেন। তাছাড়া উপকৃত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরাও। শিক্ষার্থীরা ছাড়াও অনেক পরিবারে এই ভাড়ার ফ্রিজ রয়েছে বলে জানান তারা।
শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার বলেন, মাসে ৫০০ টাকায় ফ্রিজ ভাড়া নিয়ে আমরা কয়েকজন শিক্ষার্থী একসঙ্গে ব্যবহার করে আসছি মাসের পর মাস। কয়েকশ টাকায় ফ্রিজের সুবিধা পেয়ে আমাদের জীবন আরও সহজ হয়ে গেছে। নগরীর কাউনিয়ার বাসিন্দা মৌ ইসলাম বলেন, ফ্রিজ কিনে ব্যবহার করার অর্থনৈতিক সক্ষমতা নেই। তাই কয়েকশ টাকায় ফ্রিজ ভাড়ায় নিয়ে ব্যবহার করছি।
বরিশাল সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, খায়রুল ব্যবসার মাধ্যমে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এতে তার সংসার চালানোর অর্থের জোগানের পাশাপাশি অর্থ সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদেরও জীবন সহজ হচ্ছে।
