Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

প্রতিশ্রুতিতেই আটকা ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ

২৫টি বিভাগের জন্য রয়েছে মাত্র দুটি একাডেমিক ভবন * আবাসিক হলের অভাবে ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থীকে মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে হয়

Advertisement

Icon

অনিকেত মাসুদ, বরিশাল

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতিশ্রুতিতেই আটকা ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ

Advertisement

প্রতিষ্ঠার ১৬ বছরেও বাড়েনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) আয়তন। ৫০ একর জমির ক্যাম্পাসে ১০ সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম চলছে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে। জমি অধিগ্রহণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, উপাচার্য ও শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস, সবই এসেছে। তবে এখনো নেওয়া হয়নি ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের উদ্যোগ। প্রতিশ্রুতিতেই আটকে আছে তা।

২০১১ সালে বরিশাল জিলা স্কুলের কলেজ শাখার ভবনে অস্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের মধ্য দিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু। পরে সদর উপজেলার কর্ণকাঠীতে ৫০ একর জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ আংশিক শেষ হলে ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কার্যক্রম সেখানে স্থানান্তর করা হয়। এরপর এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ক্যাম্পাসের আয়তন বাড়েনি। বর্তমানে ৫০ একর ক্যাম্পাসেই ১০ সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগের জন্য দুটি একাডেমিক ভবন এবং একটি প্রশাসনিক ভবনে শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র ৩৬টি। চারটি আবাসিক হলে আসন ১৮০০। ফলে ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থীকে হলের বাইরে মেস ও ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে।

এছাড়া পর্যাপ্ত গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, অডিটোরিয়াম, জিমনেশিয়াম ও চিকিৎসাসেবার অভাব রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ-প্রয়োজনীয় জমি না থাকায় একাডেমিক ও আবাসিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। এতে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান সংকটের সমাধান হচ্ছে না। শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

এই সংকট নিরসনে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ওই সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন বাড়াতে দ্রুত ১৫০ একর জমি অধিগ্রহণের দাবি জানান। শুধু জমি অধিগ্রহণের আশ্বাস নয়, কোথা থেকে কত একর জমি নেওয়া হবে, অধিগ্রহণের কাজ কত দিনের মধ্যে শেষ হবে, এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশেরও দাবি তোলেন তারা। পাশাপাশি সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানান। আন্দোলনের মুখে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম দ্রুত জমি অধিগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক কার্যক্রমও শুরু করেছিলেন তিনি। তবে তার মেয়াদে জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

এরপর ২০২৬ সালের ২৫ জুন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে আসেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক মো. মামুন অর রশিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহণ এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের (ডিপিপি) বিপরীতে বরাদ্দ দাবি করেন। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বর্তমান ৫০ একরের ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন। প্রয়োজনে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাসও দেন মন্ত্রী। তবে, পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে কমপক্ষে এক থেকে দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। উপাচার্য অধ্যাপক মামুন অর রশিদ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ করে সংকট কাটাতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বগুড়ার ধাপ সুলতানগঞ্জ হাট খাস আদায়ের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

খাস আদায়ের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা মীরসরাইয়ে সূর্যের আলোয় পাতকুয়ো

মীরসরাইয়ে সূর্যের আলোয় পাতকুয়ো

রাজশাহীতে সক্রিয় ৩৫ কিশোর গ্যাং

রাজশাহীতে সক্রিয় ৩৫ কিশোর গ্যাং

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিশ্রুতিতেই আটকা ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ

প্রতিশ্রুতিতেই আটকা ক্যাম্পাস সম্প্রসারণ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম