রাজশাহীতে যুবলীগ নেতার সংবাদ সম্মেলন
বাড়ি দখল চেষ্টায় হামলা-ভাঙচুর হত্যার হুমকি
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহীতে এক জামায়াত সমর্থক আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে যুবলীগ নেতার বাড়ি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মহানগর যুবলীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক দুরুল হোদার বাড়িটি দখলে নিতে তিনি নাশকতার ১০ মামলার আসামিকে নিয়ে কয়েক দফা হামলা চালিয়েছেন। করেছেন ভাঙচুর। বাড়ি না ছাড়লে দুরুল ও তার পরিবারের সদস্যদের গুলি করে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছেন। এ ঘটনায় দুরুল মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
তিনি জানান, গত বছর ১৩ এপ্রিল তিনি মহানগরীর বিসিক মোড় এলাকায় লাকি বেগমের কাছ থেকে সোয়া পাঁচ কাঠা জমি কেনেন। লাকি পার্শ্ববর্তী পবা নতুনপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এরপর তিনি ওই বছর ৪ জুলাই জমিটি নিজের নামে খারিজ করে নেন। একই বছর সেপ্টেম্বরে জমিটিতে সীমানা প্রাচীর এবং বাড়ি নির্মাণ শুরু করেন। এরপরই মহানগরীর শিরোইল এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বারী তার ভাড়াটে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বাধা প্রদান করেন। এ সময় বারী জমিটি নিজের বলে দাবি করেন। বারীকে এ সময় তার মালিকানার স্বপক্ষে কাগজপত্র দেখানোর জন্য বলা হয়। কিন্তু তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। সংবাদ সম্মেলনে দুরুল হোদা বলেন, গত বছর ৮ অক্টোবর বারীর নির্দেশে সপুরা বিসিক মোড় এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী জিয়ার নির্দেশে আমার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তিনটি ঘর ভাঙচুর করে। এছাড়া বাড়ির আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়। আমি এ ঘটনায় বারী ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান জিয়াসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় মামলা করি। জিয়ার বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর এবং নাশকতার মোট ১০টি মামলা রয়েছে। জিয়ার পরিবারের সদস্যরা সবাই জামায়াত-শিবির এবং বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। এছাড়া আমার জমি দখলের মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুল বারী জামায়াতের কট্টর সমর্থক ও অর্থ জোগানদাতা। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা বিষয়টি তদন্ত করলেই সত্যতা পাবে। আমি মামলা করার পর জিয়া দম্ভোক্তি দেখিয়ে আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি পোস্ট করেন। ছবিটি ভাইরাল হলে জিয়াকে গত ১৩ অক্টোবর পুলিশ গ্রেফতার করে। কিন্তু জামিনে ছাড়া পেয়ে তিনি ২৩ ডিসেম্বর আবারও আমার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় জিয়ার সঙ্গে যুক্ত হন মহানগরীর আলিফ লাম মিম ভাটার মোড় এলাকার বিশু শেখের ছেলে রঞ্জু শেখ। এ ঘটনার আমি আবারও পরের দিন বোয়ালিয়া থানায় মামলা করি।
দুরুল হোদা বলেন, আমার জমির দাতা লাকি বেগম উত্তরাধিকার সূত্রে তার নানি সাপিনা বেগমের কাছ থেকে জমিটি পান। কিন্তু জমিটির জাল দলিল তৈরির জন্য বারী কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি জমির দলিলে অন্য ব্যক্তির আঙুলের ছাপ ব্যবহার করেন। বিষয়টি সিআইডি পুলিশের ঢাকা ফরেনসিক ল্যাবরেটরির মতামতে সিআইডির ইন্সপেক্টর ও আঙুলাংক বিশারদ শাহানা বানু তার রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া জমিটির বিষয়ে লাকি বেগম রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র বরাবর একটি আবেদন করেন। এরপর মেয়র চার কাউন্সিলরের মাধ্যমে একটি সালিশি কমিটি করে দেন। নির্ধারিত দিনে লাকি বেগম সালিশ কমিটির সামনে তথ্য প্রমাণসহ হাজির হলেও বারী হাজির হননি। ফলে সালিশি কমিটি লাকির পক্ষে রায় দেয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্যের জন্য আব্দুল বারীর সঙ্গে বেশ কয়েকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। ফোন না ধরার কারণে ক্ষুদেবার্তাও পাঠানো হয়। তারপরও ফোন না ধরায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
