সবুজ শক্তির বাস্তবায়ন
আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনার অন্যতম উপায়
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
প্রতীকী ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জীবাশ্ম জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে লাগাতার অস্থিরতা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য গভীর সংকট তৈরি করেছে। আমাদের জ্বালানি খাতের প্রায় ৬৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ উৎস থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা ‘গ্রিন এনার্জি’র বিকল্প নেই। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে মোট চাহিদার ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের একটি সুদূরপ্রসারী কৌশলপত্র হাতে নিয়েছে। এ কৌশলপত্রের সফল বাস্তবায়ন হতে পারে জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে আনার অন্যতম উপায়।
বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় সবুজ শক্তির বিকাশ কেবল পরিবেশ রক্ষার বিষয় নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির নিরাপত্তার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার বছরে ১২ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বস্তির বিষয় হলো, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বায়ুবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য উৎস থেকেও বিদ্যুৎ যুক্ত করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। বাড়ি বাড়ি সোলার প্যানেল জনপ্রিয় করতে এবং এক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এসএমই খাতে দেড় হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ বরাদ্দ এবং সোলার যন্ত্রাংশের ওপর আমদানি শুল্ক মাত্র ১ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী।
তবে শুধু নীতিমালার ঘোষণা বা প্রণোদনা দিলেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হবে না। অভিজ্ঞতা বলে, সঠিক মনিটরিং ও জনসচেতনতার অভাবে অনেক উদ্যোগ মাঝপথে থমকে যায়। বিশেষ করে নেট মিটারিং ব্যবস্থার প্রচার, গ্রাহকদের আস্থায় আনা এবং সরকার কর্তৃক সাড়ে ১০ টাকা দরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ক্রয়ের মতো বিশেষ প্যাকেজগুলোর সুফল তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সবুজ শক্তির বাস্তবায়নকে উৎসাহিত করতে ব্যাংক খাতের জটিলতা দূর করে সহজ শর্তে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি, বায়ুবিদ্যুতের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে এ খাতকে সব ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে মুক্ত রাখতে হবে। গ্রিডের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানো গেলে সাধারণ মানুষ নিজ উদ্যোগেই সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ হবে।
আমদানিনির্ভরতার শৃঙ্খল ভেঙে একটি আত্মনির্ভরশীল ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাত গড়ে তুলতে সরকারের এ কর্মপরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন অপরিহার্য। সময় এসেছে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সবুজ শক্তির বিপ্লব ঘটিয়ে দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার।
