শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তৎপরতা দমন
কঠোর অভিযানের বিকল্প নেই
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
প্রতীকী ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে জমি দখলসহ বিভিন্ন সহিংস তৎপরতা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় নাগরিকদের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সুফল থেকে ফায়দা তুলে অপরাধীচক্রগুলোকে আগের চেয়েও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রোপার্টিজ, মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী রাড্ডা ক্লিনিক, মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এবং আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ের মতো স্পর্শকাতর স্থানগুলোয় একের পর এক হামলা, ভাঙচুর ও দখলের ঘটনা দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ আছে, এসব অপরাধের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে মূলত বিদেশে পলাতক ও আত্মগোপনে থাকা পুরোনো শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। মঙ্গলবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ, অপরাধীদের এমন বেপরোয়া অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তার মারাত্মক বিঘ্ন ঘটার প্রেক্ষাপটে সরকার ২০০২ সালের ‘অপারেশন ক্লিন হার্টের’ আদলে একটি বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালনার কথা বিবেচনা করছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে হতে পারে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও জরুরি পদক্ষেপ।
লক্ষণীয়, দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলেও সন্ত্রাসী চক্রের অপরাধ সংঘটনের কৌশল বদলায়নি; বরং তারা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় ও ব্যক্তিস্বার্থ কাজে লাগিয়ে আগের চেয়েও সূক্ষ্ম ও সুপরিকল্পিতভাবে অতৎপরতা চালাচ্ছে। বলা বাহুল্য, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং পুলিশের কার্যকর তৎপরতার অভাবে যদি ভূমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে অবৈধ অস্ত্রধারী ক্যাডাররা প্রকাশ্যে তাণ্ডব চালাতে থাকে, তাহলে তা সার্বিক রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের নেতিবাচক বার্তা বহন করে, যা পুরো সমাজের জন্যই হুমকিস্বরূপ।
এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে কালবিলম্ব না করে অত্যন্ত শক্ত হাতে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করি আমরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাকধারী সদস্য ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে যৌথ অভিযান জোরদার করার যে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে, তা কেবল পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের পথে যেতে হবে। এক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়াই বেছে নেওয়া হোক না কেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়াকে তোয়াক্কা না করে সব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে সমানভাবে অভিযান চালাতে হবে। বিশেষ করে যারা দেশের বাইরে বসে ইন্টারনেটের ডিজিটাল প্রযুক্তি ও আধুনিক মাধ্যম ব্যবহার করে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সচল রাখছে, তাদের নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করতে প্রযুক্তিগত নজরদারি বহুগুণ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে গড়ে ওঠা কিশোর গ্যাং এবং ক্যাডারভিত্তিক সন্ত্রাসী চক্রগুলোকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করাও সময়ের দাবি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের পেশাদারি ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই চালাতে হবে এ অভিযান। অনেক স্থানে সন্ত্রাসীরা পুলিশের নীরবতা ও বিলম্বিত ভূমিকার সুযোগ নিচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের মনে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা অবিলম্বে দূর করা প্রয়োজন। তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে নেপথ্যের মূল উসকানিদাতা, অর্থের জোগানদাতা ও মদদদাতাদের খুঁজে বের করে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানো অত্যন্ত জরুরি। মানুষের মনে স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনার সরকারের এ প্রচেষ্টা সফল হবে, এটাই প্রত্যাশা।
