অপমৃত্যুই কি নিয়তি?
ইনানির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক
Advertisement
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইনানির সমুদ্রসৈকতের নিকটস্থ একটি রিসোর্টে যা ঘটে গেল, তাতে পুরো দেশবাসী শোকাভিভূত হয়ে পড়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো এক অনিবার্য নিয়তি হয়ে পড়েছে আমাদের? প্রশ্নটা এ জন্যই যে, অনেক বছর ধরে গার্মেন্টস কারখানা, পুরোনো ঢাকার রাসায়নিক গুদামসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থাপনায় নিয়মিতভাবে অগ্নিকাণ্ডে মানুষের প্রাণহানি ঘটার পর শত পরামর্শ সত্ত্বেও এ নিয়তি থেকে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিটি অগ্নিকাণ্ডের পর পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার বাণ নিক্ষিপ্ত হলেও সেই বাণে কর্তৃপক্ষগুলো বিদ্ধ হচ্ছে না।
কী মর্মান্তিক এই ঘটনা! শনিবার সকাল ৭টার দিকে ইনানির সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন টুপটুপ রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। সেই আগুন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন বেলা ১১টার দিকে, ততোক্ষণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিঃশেষ হয়ে গেছে ১০ প্রাণ। আগুনে রিসোর্টের কাঠের ঘরটি পুরোপুরি ভষ্মে পরিণত হয়ে যায়। মৃত ১০ জনের মধ্যে রয়েছে একই পরিবারের ৬ জন। সবার শরীর এতটাই পুড়ে গিয়েছে যে, লাশ শনাক্ত করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। হতভাগ্য ১০ জনের মধ্যে ৮ জনই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
এটা কোনোভাবেই মানা যায় না, রিসোর্টটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ফায়ার সার্ভিস এ ব্যাপারে নোটিশও জারি করেছিল। শুধু তাই নয়, রিসোর্টটি পরিচালনার কোনো অনুমোদন ছিল না। তাহলে প্রশ্ন উঠবেই, অনিয়মের মধ্যে এটি চলছিল কীভাবে? কোনো স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের পর আমাদের প্রায়ই শুনতে হয়, অনুমোদন ছিল না অথবা ছিল না অগ্নিনির্বাপণের যথাযথ ব্যবস্থা। কথা হচ্ছে, অনুমোদন ছিল না, কথাটা পরে শুনতে হবে কেন? অনুমোদন অথবা প্রাসঙ্গিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিশ্চিত না করে একটি প্রতিষ্ঠান চলে কীভাবে? এসব দেখভাল করার দায়িত্ব কার? একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কি সেই প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কিছু পরীক্ষা করে দেখে না? স্থানীয় প্রশাসনই বা কী করে? প্রকৃতপক্ষে, এই রাষ্ট্রের কর্ণধার অথবা প্রশাসকরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন না। আর তাদের এই দায়িত্বহীনতার খেসারত দিতে হয় সাধারণ মানুষকে এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে। এভাবে একটি রাষ্ট্র চলতে পারে না। জনগণ রাষ্ট্রকে ট্যাক্স দিচ্ছে, বিনিময়ে সুযোগ-সুবিধা দূরের কথা, তাদের প্রাণও রক্ষা করা যাচ্ছে না। আমরা আবারও বলছি, অনুমোদনহীন কোনো প্রতিষ্ঠান এ দেশে আর চলতে পারবে না। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, স্থাপনা ঠিকঠাক রয়েছে কিনা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে তা নিয়মিত মনিটর করতে হবে এবং নিয়ম অমান্যকারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হবে।
