Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

জনমুখী শাসনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত

Advertisement

Icon

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

রাষ্ট্রপরিচালনার প্রচলিত ও আমলাতান্ত্রিক ধারা ভেঙে কোনো প্রকার আগাম ঘোষণা বা চোখধাঁধানো প্রটোকল ছাড়া সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট ও নাগরিক সেবার মান স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করা এবং সে অনুযায়ী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া আমাদের দেশের জন্য ছিল অচিন্তনীয় বিষয়। শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঠিক সেটিই করে জনমুখী নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। গত শনিবার মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টার ঝটিকা অভিযানে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি আবাসিক এলাকা এবং হকারমুক্ত ফুটপাতসহ মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি কোনো ধরনের দাপ্তরিক প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি চিকিৎসাধীন রোগী, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পথচারী এবং সরকারি কর্মচারীদের মুখোমুখি হন। কোথাও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য কঠোর অসন্তোষ প্রকাশ করে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া, আবার কোথাও তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তিনি প্রশাসনিক জবাবদিহির এক স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেছেন।

সরকারপ্রধানের এই মাঠপর্যায়ের তৎপরতা জনমনে আশার আলো সঞ্চার করার পাশাপাশি প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটাতে এক ইতিবাচক অনুঘটক হিসাবে কাজ করবে বলে আশা করা যায়। যে কোনো গণমুখী গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় প্রধান নির্বাহী যখন নিজে মাঠপর্যায়ে নেমে আসেন, তখন গোটা প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর এক ধরনের ইতিবাচক মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি হয়। স্বাস্থ্য খাতের মতো সংবেদনশীল জায়গায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ঘুরে ঘুরে আইসিইউ, অস্ত্রোপচার কক্ষ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা তদারকি করেছেন, এমনকি দায়িত্বে অবহেলার অপরাধে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বরখাস্তের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন। কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে পরিবেশের মানোন্নয়নে সাত দিন এবং আজিমপুর স্টাফ কোয়ার্টার পরিষ্কারে দুই সপ্তাহের আলটিমেটাম প্রদান প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরানোর ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ।

এতদিন ধরে যে সরকারি দপ্তরগুলো ফাইলবন্দি প্রতিবেদনে সব ‘অল ইজ ওয়েল’ দেখিয়ে নিজেদের দায় সারত, সরকারপ্রধানের এই আকস্মিক পরিদর্শন সেই আমলাতান্ত্রিক প্রবণতায় যে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে, তা বলাই বাহুল্য। তবে এ ধরনের ঝটিকা পরিদর্শনের মূল সুফল এবং জনগণের প্রত্যাশা টিকিয়ে রাখা নির্ভর করবে ধারাবাহিকতা ও প্রশাসনিক ফলোআপের ওপর। অভিজ্ঞতা বলে, সরকারপ্রধান বা শীর্ষ কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের পর কিছুদিন প্রশাসন সচল থাকলেও কালক্রমে তা আবার পূর্বের ঢিলেঢালা অবস্থায় ফিরে যায়। তাই প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সাত দিন বা দুই সপ্তাহের আলটিমেটামগুলো নির্ধারিত সময়ে কতটুকু বাস্তবায়িত হলো, তা নিয়মিত তদারকির জন্য একটি বিশেষ নজরদারি টিম বা ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিক ইচ্ছাকে দৃষ্টান্ত মনে করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সচিব, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং বিভাগীয় প্রধানদেরও নিজ নিজ আওতাধীন এলাকায় নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তরুণ ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়া, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণের যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি আমরা। প্রধানমন্ত্রীর এই দৃষ্টিভঙ্গি ও সরাসরি তদারকির ধারা যদি মাঠপর্যায়ে সার্বিক প্রশাসনিক সংস্কৃতির স্থায়ী অংশে পরিণত হয়, তবেই একটি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব আধুনিক বাংলাদেশের বিকাশ সম্ভব হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী

অপমৃত্যুই কি নিয়তি?

অপমৃত্যুই কি নিয়তি?

অধরা কিশোর গ্যাং

অধরা কিশোর গ্যাং

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইলিশ শিকার

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইলিশ শিকার

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম