কাঠমান্ডুর হোটেলে হামলার শিকার বাংলাদেশি পরিবার
রাষ্ট্রদূতের গাড়িতেও হামলা ফিরেছেন আটকে পড়ারা
Advertisement
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেপালে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বিক্ষোভকারীদের হামলা ও লুটপাটের শিকার হয়েছে এক বাংলাদেশি পরিবার। মঙ্গলবার রাতে কাঠমান্ডুর একটি পাঁচতারকা হোটেলে বিক্ষোভকারীদের ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সময় এ ঘটনা ঘটে।
কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার হোমনার বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবু ইউসুফ, তার স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান ফাহিম হোটেল গ্রান্ড হায়াতে অবস্থান করছিলেন। বিক্ষোভকারীরা তাদের জিম্মি করে মারধর করে এবং সঙ্গে থাকা নগদ ডলার, রুপি, দুটি আইফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে। পরে হোটেলে তারা আগুন ধরিয়ে দিলে পরিবারের সদস্যরা তৃতীয় তলা থেকে লাফ দিয়ে কোনোমতে প্রাণে বাঁচেন।
হামলার শিকার পরিবারকে হোটেল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও নিরাপত্তার কারণে তারা আর সেখানে থাকতেই রাজি হননি। পরে বাংলাদেশ দূতাবাস তাদেরকে রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে স্থানান্তর করে।
এদিকে একই দিনে জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের সহায়তা দিতে যাওয়ার পথে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের গাড়িতেও হামলা চালানো হয়। তবে ওই গাড়িতে তখন কোনো যাত্রী ছিলেন না বলে দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়া নেপালের পর্যটকদের বহনকারী একটি গাড়ি বিক্ষোভের মধ্যে পড়ে গেলে বিক্ষোভকারীরা গাড়িটি পুড়িয়ে দেয়। ওই গাড়িতে একজন বাংলাদেশি তরুণী ছিলেন। তিনি সুস্থ আছেন। তবে গাড়িতে রাখা তার ব্যাগ পুড়ে গেছে। ব্যাগে তার পাসপোর্ট ও অর্থ ছিল। দূতাবাস সূত্র জানায়, চলমান সংকটের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩০ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এবং ২০ জনকে কাঠমান্ডুর বিভিন্ন স্থান থেকে সরিয়ে আনা হয়। তারা সবাই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যাত্রী হিসাবে দেশে ফিরবেন।
বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে ফিরেছে আটকে পড়াদের একাংশ : বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটে নেপালে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের একাংশ দেশে ফিরেছে। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে কাঠমান্ডুতে আটকে পড়া যাত্রীদের ফিরিয়ে আনতে বৃহস্পতিবার বিকালে এ বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়।
নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাস এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যেসব যাত্রী ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর কাঠমান্ডু থেকে ঢাকায় ফেরার কথা ছিল, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে ফিরতে পারেননি, তারা বিশেষ ফ্লাইট বিডি-৩৭৪-এ ভ্রমণ করবেন। এর আগে দূতাবাস জানায়, যাত্রীদের দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে বিমানবন্দরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়ে এবং সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ ফ্লাইটে ১০৮ জন যাত্রী ছিলেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এবিএম রওশন কবীর যুগান্তরকে বলেন, দুই দিনের স্থগিতাদেশের পর আজ থেকে ঢাকা-কাঠমান্ডু-ঢাকা রুটে নিয়মিত ফ্লাইটও চালু হয়েছে। বেলা ১২টা ৩০ মিনিটে নিয়মিত ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছাড়ে এবং ১০৮ জন যাত্রী নিয়ে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় ফিরে আসে।
নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে সেখানে শিক্ষাসফরে থাকা ডিফেন্স কলেজের ৫১ সদস্যের প্রতিনিধিদল রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও এনজিওতে কর্মরত প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশি এবং আনুমানিক ৪০০ পর্যটক নেপালে অবস্থান করছেন। এদিকে বিকালের বিশেষ ফ্লাইটে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলও ঢাকায় ফিরেছে।
