Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

হাসিনাসহ অভিযুক্তরা নির্বাচনে অযোগ্য

আ.লীগের বিচার প্রক্রিয়া শুরু

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আ.লীগের বিচার প্রক্রিয়া শুরু

শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

Advertisement

জুলাই আন্দোলনে গণহত্যার দায়ে রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। এরই মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তও শুরু হয়ে গেছে। কর্মকর্তা দ্রুত এ সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাবেন। প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে দল হিসাবে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগের বিচারের ব্যাপারে আগেরই আবেদন ছিল। যেহেতু সব আবেদন একসঙ্গে নিষ্পত্তি করা সম্ভব না, তাই ক্রমান্বয়ে হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়া আদালতে সাক্ষীদের দেওয়া বিভিন্ন জবানবন্দি এক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক দলিল হিসাবে কাজ করবে। সাক্ষ্যগুলো অন্যতম প্রমাণ হিসাবে গণ্য হবে। এছাড়া এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর মামলায় সাক্ষ্য দেন কনস্টেবল রাশেদুল ইসলাম (৪৬)।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। অর্থাৎ, তিনি জাতীয় নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অংশ নিতে পারবেন না। একইভাবে সেই ব্যক্তি কোনো সরকারি চাকরি করতে পারবেন না। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩-এ আনা সংশোধনীতে এসব বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। এতে অধ্যাদেশে ২০(সি) ধারা সংযোজন করা হয়। ৬ অক্টোবর ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট ১৯৭৩ সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়। প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যে ফরমাল চার্জ দাখিল হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে বিচারও শুরু হয়েছে। ফলে হাসিনাসহ অভিযুক্তরা নির্বাচনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

দল হিসাবে আওয়ামী লীগের বিচার প্রসঙ্গে তাজুল ইসলাম বলেন, দলকে তো আর সাজা দেওয়া যাবে না। তবে দলকে কী ধরনের সাজা দেওয়া যাবে, সেটা আইনে বলা আছে। যেমন দলকে নিষিদ্ধ করা বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় সাজা দেওয়া বা তাদের নেতাকর্মীর ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা ইস্যু করা, এসবই আইনে আছে। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে দল হিসাবে আওয়ামী লীগের ব্যাপারেই তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া সাপেক্ষে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরও যেসব দল এতে জড়িত ছিল, তাদের ব্যাপারেও যদি তদন্তের প্রয়োজন হয় তবে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে তদন্ত সংস্থা। 

আপনার হাত খালি আছে, লাশগুলো ঢেকে দেন : মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর মামলায় সাক্ষ্য দেন কনস্টেবল রাশেদুল ইসলাম (৪৬)। জবানবন্দিতে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তিনি ঢাকার আশুলিয়া থানায় ড্রাইভার কনস্টেবল হিসাবে কর্মরত ছিলেন। সাক্ষ্যে তিনি জানান, ওইদিন তার কোনো ডিউটি ছিল না। থানা ভবনের চতুর্থতলায় অবস্থান করছিলেন। বিকাল ৪টা থেকে সাড়ে ৪টায় থানা ভবনের জানালা দিয়ে দেখেন, নিচে লোকজন হইচই করছে। এ সময় গুলির শব্দও শোনেন।

সেখানে থাকা নিরাপদ মনে না করে নিচে নেমে আসেন এবং থানার মূল গেটের বামদিকে রাস্তায় একটি ভ্যানের ওপর লাশের স্তূপ দেখতে পান। কনস্টেবল রাশেদুল বলেন, “আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি সায়েদ স্যার বলেন, ‘রাশেদ আপনার হাত খালি আছে, লাশগুলো ঢেকে দেন।’ পাশে থাকা নীল রঙের ব্যানার দিয়ে লাশগুলো ঢেকে দিই।” ওসি সায়েদের সঙ্গে পরিদর্শক (তদন্ত) মাসুদুর রহমান, পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস, এএসআই বিশ্বজিৎ, কনস্টেবল মুকুল চোকদার, ডিবি ইনস্পেকটর আরাফাতও ছিলেন বলে সাক্ষ্যে রাশেদুল বলেন।

তিনি বলেন, ‘তারপর থানার পশ্চিম পাশে আটতলা একটি ভবনের নিচে আনুমানিক ১ ঘণ্টা অবস্থান করি। ওই ভবনের নিচ তলার একটি ছেলে, যার বাড়ি জামালপুর, তাকে আমি অনুরোধ করি আমাকে একটি পাঞ্জাবি ও টুপি দাও। আমি ওই পাঞ্জাবি ও টুপি পরে কাইচাবাড়ি রোড হয়ে জামগড়া রূপায়নে বন্ধুর বাসায় অবস্থান করি। পরে শুনতে পাই, আশুলিয়া থানার ভ্যানভর্তি লাশগুলো পুলিশের গাড়িতে তুলে পুড়িয়ে দিয়েছে।’ রাশেদুল ইসলামের বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মেদুর পশ্চিমপাড়া গ্রামে। তিনি এ মামলার ১২ নম্বর সাক্ষী।

এদিকে জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরকে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো জেরা করেছেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।


Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরার অপতৎপরতা নিয়ে ‘সন্দেহ’ জামায়াতের

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরার অপতৎপরতা নিয়ে ‘সন্দেহ’ জামায়াতের

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দিনক্ষণ সামনে রেখে নানা অপতৎপরতা শুরু

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার দিনক্ষণ সামনে রেখে নানা অপতৎপরতা শুরু

জুলাই অভ্যুত্থানের তিন মামলায় হাসিনাসহ ১১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

জুলাই অভ্যুত্থানের তিন মামলায় হাসিনাসহ ১১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার গুঞ্জন নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমরাও চাই হাসিনা আসুক, দেশের মানুষ তার বিচার দেখতে চায়: শাহে আলম

আমরাও চাই হাসিনা আসুক, দেশের মানুষ তার বিচার দেখতে চায়: শাহে আলম

শেখ হাসিনা কেন মুখ দেখান না? মিলল ব্যাখ্যা

শেখ হাসিনা কেন মুখ দেখান না? মিলল ব্যাখ্যা

আরও পড়ুন

টার্গেট ডিসেম্বর রাজনীতি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কারা

আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কারা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন রূপরেখা প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব উচ্চকক্ষ থেকে

প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব উচ্চকক্ষ থেকে

থাইল্যান্ডে বসে চালাচ্ছেন দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র শেখ পরিবারের ‘ঘনিষ্ঠ’ রাজী ফখরুল এখনো বেপরোয়া

শেখ পরিবারের ‘ঘনিষ্ঠ’ রাজী ফখরুল এখনো বেপরোয়া

হামলার আশঙ্কায় বন্ধ ব্যাংক-ভূমিসেবাসহ বহু ওয়েবসাইট সাইবার সুরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

সাইবার সুরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম