Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

হরমুজ খুলল, রওয়ানা দিল বাংলার জয়যাত্রা

ইরানের বন্দরে অবরোধ অব্যাহত থাকবে-ট্রাম্প * বিশ্ববাজারে ১৩ শতাংশ কমল জ্বালানি তেলের দাম

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হরমুজ খুলল, রওয়ানা দিল বাংলার জয়যাত্রা

হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে শুরু করেছে বাংলাদেশের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ -সংগৃহীত

Advertisement

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর শুক্রবার হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিয়েছে ইরান। তেহরানের এই ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ১৩ শতাংশ কমে গেছে। এদিকে বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিনা সাকার বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ ওই প্রণালি পাড়ি দিতে রওয়ানা হয়েছে। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে পারস্য উপসাগর থেকে রওয়ানা হয় জাহাজটি। জাহাজে বাংলাদেশের ৩১ জন নাবিক রয়েছেন। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) এই জাহাজটিতে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার রয়েছে। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক রাতে সংবাদমাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে বাংলার জয়যাত্রা হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে। শুক্রবার রাত তিনটায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার কথা রয়েছে জাহাজটির।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ উন্মুক্ত হলেও চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধ অবসানের চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। তবে আলোচনার চূড়ান্ত সময়সূচি নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। এদিকে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে নিজ নিজ বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপে ফিরছেন লেবাননের বাসিন্দারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, লেবাননে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, জাহাজগুলোকে অবশ্যই ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থার পূর্বঘোষিত সমন্বিত রুট ধরে চলাচল করতে হবে। 

আরাগচির পোস্টের পর এক্সে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প বলেন, হরমুজ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও ব্যবসার জন্য প্রস্তুত। তবে ইরানের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরে অবরোধ বজায় রাখবে। ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন ১০০% সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত শুধু ইরানের জন্য এই নৌ অবরোধ। এর আগে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আগামী সপ্তাহে শেষ হতে যাওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে, তবে তেহরান চুক্তিতে আগ্রহী হওয়ায় হয়তো তার আর প্রয়োজন হবে না। তিনি আরও বলেন, আমরা দেখব কী ঘটে। তবে আমার মনে হয় আমরা ইরানের সঙ্গে চুক্তির খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। তিনি জানান, যদি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে সেই উপলক্ষ্যে তিনি সেখানে যেতে পারেন। তবে ইরানি সূত্রগুলো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে এখনো কিছু ব্যবধান মেটানো বাকি রয়েছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, গত সপ্তাহে ইসলামাবাদের যে স্থানে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, শুক্রবার সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেলেও রাস্তাঘাট খোলা ছিল। সরকার আগের মতো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কোনো নির্দেশ দেয়নি। খবর রয়টার্স, তাসনিম নিউজ, আলজাজিরা ও বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের।

পর্দার আড়ালের কূটনীতিতে অগ্রগতি : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী এক পাকিস্তানি সূত্র শুক্রবার জানিয়েছে, পর্দার আড়ালের কূটনীতিতে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। আগামী বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে, যার পর ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি হবে। সূত্রটি জানায়, দুই পক্ষই নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে, এখন শুধু কারিগরি বিষয়গুলো বাকি।

গত সপ্তাহের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব ছিল ২০ বছরের জন্য পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত করা, আর ইরান তিন থেকে পাঁচ বছরের প্রস্তাব দেয়। এছাড়া ইরান তাদের ওপর থেকে সব আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চাপ দিচ্ছে। ইরানি সূত্র বলছে, এই ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে তেহরান কিছুটা ছাড় দিতে পারে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের বাইরে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইরান আমাদের কাছে পারমাণবিক ধূলিকণা ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে। 

লেবাননে ধ্বংসস্তূপে ফিরছে বাসিন্দারা : ইসরাইল ও ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি লেবাননে শুক্রবার কার্যকর হতে দেখা গেছে। যদিও লেবাননের সেনাবাহিনী ইসরাইলের বিরুদ্ধে কিছু লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, লেবাননে সমান্তরাল যুদ্ধবিরতি ইরান চুক্তির একটি অপরিহার্য অংশ। 

এদিন বাস্তুচ্যুত মানুষ তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে অনেকের মনেই শঙ্কা-এই যুদ্ধবিরতি কতটা টিকবে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাবাতিয়েহতে ফিরে কিছু বাসিন্দা বলেছেন, তারা সেখানেই থাকবেন। তবে ফাদেল বদরেদ্দিন নামে এক বাসিন্দা তার স্ত্রী ও ছোট ছেলেকে নিয়ে ফিরে বলেন, এখানে কেবলই ধ্বংসস্তূপ এবং বসবাসের অযোগ্য। আমরা আমাদের জিনিসপত্র নিয়ে আবারও চলে যাচ্ছি। আল্লাহ আমাদের মুক্তি দিন এবং এই পুরো বিষয়টা চিরতরে শেষ হোক।

গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে উত্তর ইসরাইলে হামলা চালালে লেবাননে সংঘাত শুরু হয়। এর জবাবে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। 

৪০ দেশের বৈঠক : হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল ফিরিয়ে আনতে মিত্ররা যে প্রস্তুত, যুক্তরাষ্ট্রকে সেই বার্তা দিতে শুক্রবার প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করে ফ্রান্স ও ব্রিটেন। প্যারিসের এ বৈঠকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তারা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন। বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে তা নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আমন্ত্রিত দেশগুলোকে পাঠানো একটি নোট অনুযায়ী, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য প্রণালির মধ্য দিয়ে অবাধ নৌচলাচলের প্রতি পূর্ণ কূটনৈতিক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ। আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৩০টির বেশি জাহাজ চলত, এখন সেখানে হাতেগোনা কয়েকটি জাহাজ পার হচ্ছে। ট্রাম্প এর আগে যুদ্ধে মিত্রদের অংশ না নেওয়ার সমালোচনা করেছিলেন।

হরমুজ পাড়ি দিতে নোঙর তুলছে সব জাহাজ : ইরানি কর্তৃপক্ষ শুক্রবার এই প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ অতিক্রম করতে পারবে বলে ঘোষণা দেয়। এরপরই নোঙর তুলতে শুরু করে একের পর এক জাহাজ। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মেরিন ট্রাফিকের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, শতাধিক জাহাজ পূর্ণ গতিতে হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। হরমুজমুখী জাহাজের স্রোতের শুরুর দিকেই রয়েছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজটি। ঘণ্টায় ৯ নটিক্যাল মাইল গতিতে হরমুজ পাড়ি দিচ্ছে এটি।

জাহাজটির ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম খান শুক্রবার রাতে জানান, ইরানি বাহিনীর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তারা হরমুজের দিকে যাচ্ছেন। বিএসসির এই জাহাজ ২ ফেব্রুয়ারি থেকে পারস্য উপসাগরে রয়েছে। সেখানে এক বন্দর থেকে আরেক বন্দরে পণ্য পরিবহণে নিয়োজিত ছিল। গত ১১ মার্চ জাহাজটি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএসসি। তবে সেবার অনুমতি না পেয়ে হরমুজ পার হওয়া যায়নি। অনুমতি না পেয়ে সৌদি আরবের রাস আল খাইর বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার বোঝাই করা হয় জাহাজটিতে। এই সার নেওয়া হবে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন বন্দরে। তবে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর দ্বিতীয় দফায়ও অনুমতি চেয়ে পায়নি জাহাজটি। এরপর থেকেই হরমুজের কাছাকাছি পারস্য উপসাগরে নোঙর করেছিল জাহাজটি। এবার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় অনিশ্চয়তা কাটল।


Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বিশ্বজুড়ে ইমেজ সংকট প্রশ্নবিদ্ধ বাংলাদেশিদের গ্রহণযোগ্যতা

প্রশ্নবিদ্ধ বাংলাদেশিদের গ্রহণযোগ্যতা

চার দিনের সফরে জাপানে প্রধানমন্ত্রী ২৫০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তির সম্ভাবনা

২৫০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তির সম্ভাবনা

স্থানীয় সরকার নির্বাচন জামায়াতের একলা চলো নীতিতে জোটে অসন্তোষ

জামায়াতের একলা চলো নীতিতে জোটে অসন্তোষ

অগ্নিগর্ভ ফ্রান্স, পুড়ছে ইউরোপ

অগ্নিগর্ভ ফ্রান্স, পুড়ছে ইউরোপ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম