Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

বিশ্বজুড়ে ইমেজ সংকট

প্রশ্নবিদ্ধ বাংলাদেশিদের গ্রহণযোগ্যতা

Advertisement

হক ফারুক আহমেদ

হক ফারুক আহমেদ

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রশ্নবিদ্ধ বাংলাদেশিদের গ্রহণযোগ্যতা

Advertisement

একসময় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উঁচু ভবন হিসাবে পরিচিত ছিল শিকাগো শহরের সিয়ার্স টাওয়ার। ভবনটির স্থপতি এফআর খান ছিলেন বাংলাদেশি। সুউচ্চ ভবনটির নাম উচ্চারিত হলে বাংলাদেশিরা গর্ব অনুভব করতেন। অথচ কিছু মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে এই বাংলাদেশিদের গ্রহণযোগ্যতা এখন প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

যদিও বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিরা উন্নত বিশ্বের আধুনিক সমাজে নিজেদের অবস্থানও তৈরি করেছেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে নানা কর্মকাণ্ডের জেরে বিদেশে বাংলাদেশিদের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশির ভাগ বিশ্লেষকই এজন্য কিছু বাংলাদেশির কর্মকাণ্ডকেই দায়ী করছেন। তারা বলছেন, বিভিন্ন দেশের ভিসা আবেদনে জাল নথি, ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট, মিথ্যা তথ্য প্রদান, ভুয়া সার্টিফিকেট জমা দেওয়া এর অন্যতম কারণ। গত কয়েক বছর ধরে ক্রমাগতভাবে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় শুধুই পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। যেসব দেশে আগে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ‘অন অ্যারাইভাল’ ভিসা ছিল, তাদের অনেকেই এখন সহজে বাংলাদেশিদের ভিসা দিচ্ছে না। গত কয়েক বছরে সাইবেরিয়া হয়ে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পাড়ি জমানোর চেষ্টার শীর্ষেও বাংলাদেশিরা। এমনকি ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রবেশের চেষ্টার কারণেও দেশটি বাংলাদেশিদের ভিসা ইস্যুতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে। বিদেশের মাটিতে গিয়ে রাজনৈতিক দলাদলি, আইন না মানা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় না রাখার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিদের দুর্নাম রয়েছে। ট্যুরিস্ট ভিসায় বিদেশে গিয়ে দেশে না ফিরে আশ্রয়ের আবেদন এবং সেক্ষেত্রেও নানা প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে বিশ্বের ছোট-বড় নানা দেশে বাংলাদেশিদের গ্রহণযোগ্যতা আগের চেয়ে কমে গেছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, বাইরের পৃথিবীতে বাংলাদেশিদের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে একটা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। তার প্রধান কারণ আমাদের অভ্যন্তরীণ সুশাসনের ঘাটতি। বাইরের পৃথিবী বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছে, আমাদের দেশের কাঠামোর মধ্যে নানা ধরনের জটিলতা আছে, সক্ষমতার সমস্যা আছে। একটা প্রজন্ম তৈরি হচ্ছে যাদের জন্য আমরা কোনো সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারছি না। এখানে কোনো ‘রেগুলেটরি মেকানিজম’ কাজ করছে না, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আছে। এই বিষয়গুলোর কারণেই বাইরের বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি এবং একই সঙ্গে গ্রহণযোগ্যতার জায়গায় প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার ঘাটতি, জনশাসন, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পর্যায়ের ঘাটতিগুলো নিয়ে আমরা দেশে যেভাবে কাজ করে থাকি, বিদেশেও সেভাবে আচরণ করি। দেশের রাজনৈতিক বিভাজন রাজনৈতিক দলগুলোরই নানা প্ররোচনায় বাইরের পৃথিবীতে সংক্রমিত হয়েছে। যে কারণে বাইরের পৃথিবীতে বাংলাদেশের নাগরিকদের বিভিন্ন দলের প্রতিনিধি হিসাবে বিভক্ত হয়ে রাস্তায় নানা জটিলতা তৈরি করতে দেখা যায়। এসব ঘটনা স্থানীয় মানুষদের কাছে আমাদের অবস্থান তুলে ধরে। তিনি বলেন, সরকার এবং জনগণের মধ্যে যদি বিশ্বাসের জায়গা শক্তিশালী করা যায়, সামাজিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধি করা যায়, অর্থনীতি সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সংরক্ষণ করবে-এমন জায়গায় যদি নিয়ে যাওয়া যায় তাহলে এই অবস্থা থেকে উত্তরণের সুযোগ আসবে।

পাসপোর্টে শুধুই পিছিয়ে পড়া : বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় ক্রমাগতভাবে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রকাশিত হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৭। অথচ বছরের শুরুর দিকে বাংলাদেশের পাসপোর্টের এই সূচক ছিল ৯৫তম স্থানে। সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে ভিসামুক্ত সুবিধায় বিশ্বের ৩৫টি দেশে ভ্রমণ করতে পারছে। অথচ ২০২৫ এবং জানুয়ারি ২০২৬ সালের সূচকে এ সংখ্যা ছিল ৩৭টি দেশ। সেদিক থেকে মাত্র ৬ মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ দুটি ভিসামুক্ত সুবিধার দেশ হারিয়েছে। সূচক অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট মালদ্বীপের অবস্থান ৫২তম।

ভিসা আবেদনে জাল নথি ও ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভিসা আবেদনের জন্য জাল নথি ও ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট ব্যবহার করার কারণে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি খারাপ হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে পশ্চিমা বিশ্বের ১৩টি দেশ ভিসার আবেদনে ভুয়া নথি, লাইসেন্সবিহীন এজেন্ট এবং অননুমোদিত অর্থ লেনদেন না করতে বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছে। দেশগুলো হলো-অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্য। দেশগুলোর বাংলাদেশে অবস্থিত সংশ্লিষ্ট হাইকমিশন ও দূতাবাসগুলোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌথ এই বার্তা প্রকাশ করা হয়। ভুয়া নথি ব্যবহার করলে ভিসা প্রক্রিয়ায় দেরি, আর্থিক ক্ষতি, প্রবেশে বাধা কিংবা গুরুতর আইনি শাস্তির মতো পরিণতির কথা এতে উল্লেখ করে সতর্ক করা হয়। কিন্তু এসব বার্তার পরেও থামেনি ভিসার আবেদনে ভুয়া নথি ও ব্যাংক স্টেটমেন্টের ব্যবহার।

বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী প্রতিবছর উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যায়; যাদের বড় একটি অংশ ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট জমা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং কনসালট্যান্সি ফার্ম ২ থেকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের এই সুবিধা দেন। তারা ব্যাংকে ৫০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা পড়াশোনা খরচ বাবদ আছে, এমন স্টেটমেন্ট ও সলভেন্সি সার্টিফিকেট বিক্রি করেন। অনেকে জাল সার্টিফিকেটও ব্যবহার করেন। ইতোমধ্যে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশিদের এমন অনেক ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাতে ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ভুয়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দেওয়ার বিষয়টি সামনে আনেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের অনেক ভিসা আবেদন নাকচ হওয়ার এটি অন্যতম কারণ।

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টায় শীর্ষে : ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইতালি, গ্রিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঢোকার চেষ্টা করেন বিশ্বের অনেক দেশের নাগরিক। কিন্তু এদের মধ্যে বাংলাদেশিরা এগিয়ে। বিষয়টি বড় ধরনের ইমেজ সংকট তৈরি করেছে। ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুসারে, লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা সবচেয়ে বেশি করেন বাংলাদেশিরা। ইউরোপের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীগুলোর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সংস্থাটি বলছে, এ পথ মধ্য-ভূমধ্যসাগর রুট হিসাবে পরিচিত। ২০০৯ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত-এ পথে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশি এভাবে ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। ফ্রন্টেক্সের তথ্যের বরাত দিয়ে ব্র্যাক জানায়, ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ২০ হাজার ২৫৯ জন বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেন। আর চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসেই ৪ হাজার ২৪৯ বাংলাদেশি ইতালিতে প্রবেশ করেন। একই সময়ে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিসে গেছেন ৩ হাজার ৬০৮ জন।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন) শরিফুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে নাম ও বয়সের অমিল, ভুয়া সার্টিফিকেট এবং তথ্যগত জালিয়াতির প্রবণতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি মারাউন্মোক সংকটে ফেলছে। বিদেশে গিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা এবং প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার ফলে এখন প্রকৃত শিক্ষার্থী ও বৈধ যাত্রীরাও বিভিন্ন জটিলতা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন বিমানবন্দরে বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্ট দেখলেই হয়রানি, অতিরিক্ত তল্লাশি নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড রোধ করতে জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো মৌলিক নথিপত্রের সঠিক ব্যবহারে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং দূতাবাসগুলো যেভাবে সমন্বয় করা দরকার তা হচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশের সবুজ পাসপোর্টের ভাবমূর্তি দিন দিন সংকটের দিকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের মধ্যে সুশাসন ও সচেতনতা তৈরি করা না গেলে বাংলাদেশিদের অবস্থান ভবিষ্যতে আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। যদি এরকম চলতে থাকে তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েরা হয়তো বিদেশে পড়তে যেতে পারবে না, মানুষ চিকিৎসা নিতেও বাইরে যাওয়ার সুযোগ পাবে না।

অনৈতিক পন্থা ও অদক্ষতা : বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজার মূলত সৌদি আরব, ওমান, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন ও মালদ্বীপসহ এশিয়ার দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল। তবে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দিন দিন এসব বাজার সংকুচিত হচ্ছে। প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরবে কর্মী নিয়োগ কমেছে। দক্ষ কর্মীর অভাব, নানা অনৈতিক অপরাধে এক শ্রেণির বাংলাদেশিদের জড়িয়ে যাওয়া এর অন্যতম কারণ হিসাবে ধরা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশি নাগরিকদের নতুন করে শ্রমিক হিসাবে নিয়োগের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে লাওস। একই সঙ্গে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমিক নিয়োগের কোটা অনুমোদন, ওয়ার্ক পারমিট এবং শ্রমিক শ্রেণির এলএ-বি২ ভিসা ইস্যুও বন্ধ রেখেছে দেশটি।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশিদের ডিপোর্ট বা ফেরত পাঠানোর সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ২০১৩-১৪ সালের দিকে ৩৭-৪০ হাজার বাংলাদেশি ফেরত আসার রেকর্ড থাকলেও ২০২২-২০২৫ সালে এসে তা ৭৫ হাজারের বেশি ছাড়িয়ে গেছে।

সাম্প্রতিক দুই ইস্যু : সাম্প্রতিক সময়ে আরও কয়েকটি ইস্যুতে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি আবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১২ অক্টোবর হেনস্তার শিকার হয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সারা বিশ্বে জনপ্রিয় একজন নোবেলজয়ীকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বাংলাদেশিদের হাতে হেনস্তার শিকার হতে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। বিষয়টি ঘটেছে বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিভাজনের সূত্র ধরে।

এছাড়া সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায়ও নানাভাবে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ।

মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করা প্রতিষ্ঠান অনির্বাণ সারভাইভারস ভয়েস ফাউন্ডেশনের সভাপতি আল আমিন নয়ন যুগান্তরকে বলেন, বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা কমার জন্য আমাদের কিছু প্রক্রিয়াগত দুর্বলতা আছে। গত দুই বছরে কতজন বাংলাদেশি ভিজিট ভিসায় বিদেশে গিয়ে আর ফিরে আসেননি, চাইলেই এই পরিসংখ্যানটা বের করা যায়। যারা ফেরেননি তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র চাইলে একটা অ্যাকশন নিতে পারে। কিন্তু সেরকম কোনো পরিসংখ্যান করা হয়নি। এই বিষয়গুলো জবাবদিহি ও আইনের আওতায় নিয়ে আসা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে প্রবাসীকল্যাণ, পররাষ্ট্র এবং স্বরাষ্ট্র এই তিন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা আবশ্যক। তাছাড়া, অভিবাসন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিশ্চিত করা গেলে অবৈধভাবে বিদেশে অবস্থান ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ইরানে বড় হামলা যে কোনো সময়

ইরানে বড় হামলা যে কোনো সময়

ইরাকে আর মার্কিন সেনা নেই, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী বাগদাদ

ইরাকে আর মার্কিন সেনা নেই, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী বাগদাদ

প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি

প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি

কুরআন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিয়ন্ত্রণহীন স্কুলবাসের ১৯ শিশুকে বাঁচান যুবক

কুরআন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিয়ন্ত্রণহীন স্কুলবাসের ১৯ শিশুকে বাঁচান যুবক

স্টারলিংক নিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে মাস্কের গুরুতর অভিযোগ

স্টারলিংক নিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে মাস্কের গুরুতর অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে যাজকদের যৌন নিপীড়ন, ১৩০০ জনকে ৮০ কোটি ডলার দেবে চার্চ

যুক্তরাষ্ট্রে যাজকদের যৌন নিপীড়ন, ১৩০০ জনকে ৮০ কোটি ডলার দেবে চার্চ

আরও পড়ুন

বিশ্বজুড়ে ইমেজ সংকট প্রশ্নবিদ্ধ বাংলাদেশিদের গ্রহণযোগ্যতা

প্রশ্নবিদ্ধ বাংলাদেশিদের গ্রহণযোগ্যতা

চার দিনের সফরে জাপানে প্রধানমন্ত্রী ২৫০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তির সম্ভাবনা

২৫০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তির সম্ভাবনা

স্থানীয় সরকার নির্বাচন জামায়াতের একলা চলো নীতিতে জোটে অসন্তোষ

জামায়াতের একলা চলো নীতিতে জোটে অসন্তোষ

অগ্নিগর্ভ ফ্রান্স, পুড়ছে ইউরোপ

অগ্নিগর্ভ ফ্রান্স, পুড়ছে ইউরোপ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম