বিপর্যস্ত অর্থনীতি : বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
জনজীবনে বড় ধাক্কা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরান যুদ্ধের কারণে তীব্র জ্বালানি সংকটসহ নানা ইস্যুতে বিপর্যস্ত দেশের অর্থনীতি। সাধারণ মানুষ কোনোভাবে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় শনিবার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এতে অর্থনীতির সব খাতেই এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সরাসরি প্রভাব পড়বে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তিনটি খাত-শিল্প, কৃষি ও সেবায়। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির একদিনের মধ্যেই এই প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বাস, ট্রাক ও লঞ্চসহ গণপরিবহণে ভাড়া বাড়াতে চাপের মুখে সরকার সংশ্লিষ্ট মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছে। রোববার রাতে সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। তবে ভাড়া কত বাড়ানে হবে-এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। আজ সোমবার বিঅরটিএ থেকে এ বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হবে। এদিকে বাজারে বেশির ভাগ নিত্যপণ্যের দাম ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে। এছাড়াও শিল্প ও কৃষি উৎপাদন খাতেও আমদানি ও উৎপাদন খরচ নির্ঘাত বাড়বে; যা এক সপ্তাহের মধ্যে স্পষ্ট হবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর ফলে একদিকে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, অপরদিকে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমে যাবে। এক কথায় সামগ্রিকভাবে অর্থনীতি নানামুখী চাপে পড়বে। তাদের মতে, বাজেট সামনে রেখে যখন দেশের বিপর্যস্ত অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ছিল, তখন সরকারের এই সিদ্ধান্ত অর্থনীতিকে আরও বাধাগ্রস্ত করবে।
এদিকে এত বিপদের পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ অন্তত জ্বালানি সংগ্রহ বা তেল পাম্পগুলোতে চলমান যে সীমাহীন দুর্ভোগ চলছে তা থেকে মুক্তি পেতে চান। অনেকে যুগান্তরের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন-কারণ যাই হোক, সরকার তো শেষ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে জনভোগান্তি কমাতে চায়, তাহলে সরকার এমন সিদ্ধান্ত আগে নিল না কেন। যদিও রোববার তেল পাম্পগুলোর দীর্ঘ লাইন প্রমাণ করেছে সরকার দাম বাড়িয়েও সংকটের সমাধান করতে পারবে না। অর্থনীতিবিদদের মতে, দুই কারণে তেলের দাম বেড়েছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপ। যদিও সরকার বলছে, তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে আইএমএফের কোনো সম্পর্ক নেই।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. এমকে মুজেরী বলেন, অর্থনীতিতে একটি বিপর্যস্ত অবস্থা যাচ্ছে। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো জরুরি। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ফলে সেটি বাধাগ্রস্ত হলো। তিনি বলেন, এর ফলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে এবং ক্রয় ক্ষমতা কমে যাবে। সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ড. মুজেরী বলেন, জ্বালানি তেলের সঙ্গে অনেক কিছু জড়িত। এর দাম বাড়ানো হলে পণ্য পরিবহণ, কৃষি ও শিল্পের উৎপাদন এবং পরিবহণ ভাড়া সবকিছুই বাড়বে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর প্রবল চাপ তৈরি হবে, এটিই স্বাভাবিক। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাবে।
এদিকে রোববার সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারি তহবিলে চাপ বাড়ায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর সঙ্গে আইএমএফের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণের বাইরে গিয়ে আইএমএফ ও ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের কাছে কোনো ঋণ নেবে না সরকার। তাদের চাপিয়ে দেওয়া কোনো শর্তও মেনে নেওয়া হবে না।
ইরান যুদ্ধ ঘিরে বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে শনিবার দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এক্ষেত্রে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ থেকে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতি লিটার অকটেনে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৯ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা থেকে ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে শিল্প, কৃষি ও সেবা খাতে সামগ্রিকভাবে জনজীবনে নানামুখী প্রভাব পড়েছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের কথা বলে হঠাৎ করে দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে সব নিত্যপণ্য ও সেবার দাম বাড়বে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর জন্য সব সময় অজুহাত খোঁজেন। এবার তাদের হাতে আরও একটি অজুহাত ধরিয়ে দেওয়া হলো। এর আগেই তেলের মজুতদারসহ এ খাতের সব ব্যবসায়ী দাম বাড়ানোর জন্য সরকারকে চাপ দিয়ে আসছিলেন। এখন তারা সফল হলেন। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের সঙ্গে নিত্যপণ্যসহ সবকিছুই সরাসরি জড়িত। সে কারণেই সব পণ্যমূল্যে ‘আগুন’ লাগবে। তার মতে, হুট করে তেলের দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি।
পণ্যমূল্য বৃদ্ধি : তেলের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর খুচরা বাজারে বেশ কয়েকটি সবজির দাম কেজিতে ৫-৭ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বেশির ভাগ সবজির দাম ৮০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। কিছু সবজির দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে কোম্পানিগুলো। সরবরাহ একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে পণ্যের বাজারে ক্রেতার হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি হয়েছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বেগুন মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১২৫ টাকা, যা একদিন আগে ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর সাতদিন আগে বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়।
পরিবহণ ভাড়া : জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর সব ধরনের গণপরিবহণে ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। পরিবহণ মালিক সমিতি ও সরকার, ইতোমধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে ইতোমধ্যে মোটরবাইকের রাইড শেয়ারিংয়ের ভাড়া বাড়িয়েছেন চালকরা। রোববার সকাল থেকে গ্রাহকদের বেশি ভাড়া পরিশোধ করে চলাচল করতে দেখা গেছে। সরেজমিন জানা যায়, মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিংয়ের ভাড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা হয়ে গেছে। কেউ ২০০ টাকার ভাড়া ২২০ থেকে ২৩০ টাকা আদায় করছেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম যুগান্তরকে বলেন, যেহেতু সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে, ভাড়াও সমন্বয় করতে হবে। আগে তেলের দাম বাড়ানোর সময় গণপরিবহণের ভাড়া কত বাড়বে, তা বলে দেওয়া হতো। এবার সেটা করা হয়নি। দ্রুতই এটা করতে হবে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে গণপরিবহণের ভাড়া বাড়বে, এটা স্বাভাবিক। তবে সেটা যৌক্তিক হতে হবে।’ বাস-মিনিবাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ নিয়ে রোববার রাতে বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে বৈঠক হয়েছে। রাত ৮টায় শুরু হয়ে ১০টার দিকে বৈঠক শেষ হয়। এতে বিআরটিএর কর্মকর্তা, পরিবহণ মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে ভাড়া কত বাড়ানো হবে, এ বিষয়ে বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আজ সোমবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে এ বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়।
বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের মূল্য এক টাকা বৃদ্ধি বা কমলে ভাড়া এক পয়সা বাড়ানো বা কমানোর রীতি দীর্ঘদিন ধরেই চলে এসেছে। এ ক্ষেত্রে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধির ফলে ভাড়া ১৫ পয়সা বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে পরিবহণ মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের পর বাস-মিনিবাসের ব্যয় বিশ্লেষণ করা হয়নি। এর মধ্যে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে খুচরা যন্ত্রাংশ ও ইঞ্জিন অয়েলের খরচ বেড়েছে। সেটাও আমলে নিতে হবে। বিআরটিএ’র একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তারা জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং পরিবহণ মালিকদের দাবি-এই দুটির সমন্বয় করে একটা প্রস্তাব সোমবার মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন। মন্ত্রী ও সচিব মিলে সেটাই রাখবেন, নাকি কিছু কমবেশি করবেন, সেটা তাদের সিদ্ধান্ত।
ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টিও আমলে নেওয়ার কথা বলেছি। এখন বাকিটা বিআরটিএ, সড়ক পরবিহণ মন্ত্রণালয়, সর্বোপরি সরকারের সিদ্ধান্ত।’
অন্যদিকে লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। লঞ্চের ভাড়া দূরত্বভেদে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন লঞ্চ মালিকরা। যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ২৯ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করতে রোববার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) চিঠি দিয়েছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল সংস্থা। এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির জন্য কমিটি গঠন করা হচ্ছে। ওই কমিটি নতুন ভাড়ার প্রস্তাব করবে।
শিল্প খাত : অর্থনীতিতে মন্দার কারণে দীর্ঘদিন দেশের শিল্প খাতে শ্লোথগতি চলছে। নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না বললেই চলে। উদ্যোক্তারা চরম হতাশ। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। এতে নতুন কর্মসংস্থান যেমন হচ্ছে না, তেমনই বিদ্যমান কর্মীও ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে আয় কমার পাশাপাশি বেকারত্বও বাড়ছে, যা মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও নিম্নমুখী ও কঠিন করে তুলছে। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি তাদের আরও বিপাকে ফেলেছে। তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি ব্যয়ও বেড়েছে। পাশাপাশি জাহাজ ভাড়া বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে শিল্প উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি জ্বালানির প্রয়োজন হয় গার্মেন্ট, টেক্সটাইল, সিমেন্ট, স্টিল, সিরামিকসহ সবরকম কারখানায় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ডিজেল লাগে। পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবে এর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিদেশে রপ্তানির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। দেশের নির্মাণ খাতের মধ্যে রড-সিমেন্ট, ইটভাটা ও নির্মাণ যন্ত্রপাতি অন্যতম। এ সবকিছুই জ্বালানিনির্ভর। জ্বালানি সংকটে রড-সিমেন্ট, টাইলস, ইট উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নতুন করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলে পণ্য উৎপাদন খরচ বাড়বে। এছাড়াও বাড়বে পরিবহণ ব্যয়। এতে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়ে আসবে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো-জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবি জোরালো হবে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ এমপ্লায়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান যুগান্তরকে বলেন, জ্বালানি তেল এখন বৈশ্বিক সমস্যা। অর্থনীতির চাপ সামাল দিতে সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে, তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা নিয়ে। যেটি সরকার করতে পারছে না। বিশেষ করে শিল্প ও গণপরিবহণ খাতে। তেলের অভাবে শিল্পের উৎপাদন এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট ট্রাক ও লরি চলাচল ব্যাহত হলে অর্থনীতি আরও চাপে পড়বে। তাই তেলের পাম্পে রেশনিং তুলে দিয়ে ২৪ ঘণ্টা তেল সরবরাহ করা উচিত। এতে সাধারণ মানুষের মাঝে আত্মবিশ্বাস ফিরবে। আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনা কমবে।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শিল্পে প্রভাব পড়বে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে-এগুলো স্বাভাবিক ঘটনা। বাংলাদেশেও তেলের দাম বাড়বে, সেটা অনুমেয় ছিল। কিন্তু দাম বাড়ালেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের সরবরাহে বড় দুর্বলতা আছে। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, পর্যাপ্ত মজুত আছে। কিন্তু তেলের পাম্পের যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখলে এর প্রতিফলিত হয় না। ফলে সরকারের এখন তেলের মজুত ও সাপ্লাই চেইনে কঠোর মনিটরিং করা উচিত।
কৃষি খাত : তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে দেশের কৃষি খাতে। বিশেষ করে ডিজেলচালিত সেচ পাম্পসংশ্লিষ্ট কৃষি ব্লক বা প্রকল্প প্রয়োজনীয় সেচের অভাবে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনই এখন দাম বাড়ায় কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে। এছাড়াও জ্বালানির কারণে বিদ্যুতের মূল্য ও জেনারেটরের খরচ বেড়েছে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যমুনা চরাঞ্চলের গোপালকেউটিল গ্রামের ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের মালিক আইয়ুব খান বলেন, প্রতিদিন পাঁচ লিটার ডিজেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। এরকম ভুক্তভোগী শুধু একজন নন, সারা দেশ থেকে যুগান্তরের প্রতিনিধিদের শত শত মানুষ তাদের এই কষ্ট ও দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন। বিশেষ করে এখন আবার তেলের দাম বাড়ানোয় নতুন করে কৃষক তথা কৃষি খাতজুড়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন : দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে ক্রমেই জ্বালানি তেলের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও বাড়বে। বেশকিছু তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ দাম বাড়ানোয় এখন খরচও বাড়বে। অনেকে মনে করেন, এ পরিস্থিতিতে ভতুর্কি কমাতে সরকার হয়তো শিগ্গিরই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চিন্তা করবে। এছাড়া ব্যয় কমাতে যদি উৎপাদন কমানোর চিন্তা করা হয়, সেক্ষেত্রে বিদ্যুতের বিদ্যমান লোডশেডিং আরও বাড়বে।
