স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির
বঙ্গভবন ছাড়লেন মো. সাহাবুদ্দিন
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন ও স্টাফ রিপোর্টার, সাভার
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম রোববার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন -পিআইডি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। রোববার বেলা পৌনে ১২টার দিকে স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। এরপর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এই সময় তাকে ‘গার্ড অব অনার’ দেয় তিন বাহিনীর একটি চৌকশ দল। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। এদিকে পদত্যাগের দুদিন পর বঙ্গভবন ছেড়ে রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন গ্রিন ভিলায় উঠেছেন মো. সাহাবুদ্দিন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি পরিদর্শন বইয়ে সই করে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। পরিদর্শন বইয়ের মন্তব্যে হাফিজ উদ্দিন আহমদ লেখেন, ‘জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। তাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ ও অসীম দেশপ্রেমের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ লাভ করেছি।’
‘এই পবিত্র স্মৃতিসৌধ আমাদের জাতির গৌরব, আত্মত্যাগ, ঐক্য এবং দেশপ্রেমের চিরন্তন প্রতীক। আমি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংবিধানের আদর্শ এবং আমাদের মহান শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা সমুন্নত রেখে একটি শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব-এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। আল্লাহতায়ালা আমাদের বীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত দান করুন এবং প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের অব্যাহত শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ দান করুন।’
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা : সাভার থেকে ফিরে দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত ও পরকালীন শান্তি কামনায় দোয়া করেন তিনি। এ সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জন বিভাগের সচিব খান মো. নূরুল আমীন, রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম ও রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, কাল দুপুর ১২টায় বঙ্গভবনে প্রথমবার অফিস করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতাহাতি : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জিয়া উদ্যান ত্যাগ করার পরপরই সেখানে উপস্থিত বিএনপি নেতাকর্মীদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও উপস্থিত নেতারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
গুলশানের বাসায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন : পদত্যাগের দুদিন পর বঙ্গভবন ছাড়লেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রোববার দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) নিরাপত্তাবেষ্টনীতে সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ছেড়ে যান তিনি। বঙ্গভবন ছেড়ে উঠেন রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন গ্রিন ভিলায়। গুলশানে তার বাসভবন ও আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এর আগে ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন।
বঙ্গভবন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্রে জানা যায়, আইন অনুযায়ী বিদায়ি রাষ্ট্রপতি চাইলে দায়িত্ব ছাড়ার পর আরও এক মাস বঙ্গভবনে অবস্থান করতে পারেন। তবে পদত্যাগের পরপরই মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি শুরু করেন। কয়েকদিন ধরেই তার ব্যক্তিগত মালপত্র গুলশানের বাসভবনে স্থানান্তর করা হচ্ছিল। ইতোমধ্যে তার গুলশানের বাসভবনের পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজও সম্পন্ন হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে অন্তত ৬ মাস দায়িত্ব পালন করে পদত্যাগ বা মেয়াদ শেষে পদ ছাড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আজীবন অবসরভাতা পাওয়ার অধিকারী হন। মো. সাহাবুদ্দিন যেহেতু ৬ মাসের বেশি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, তাই তিনি ২০১৬ সালের ‘রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন’ অনুযায়ী আজীবন অবসর ভাতা পাওয়ার অধিকারী। এছাড়া আইন নির্ধারিত অন্যান্য সুবিধাও তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে পদত্যাগের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি কী ধরনের রাষ্ট্রীয় প্রটোকল, নিরাপত্তা, সরকারি গাড়ি বা এসকর্ট সুবিধা পাবেন, তা সরাসরি অবসর ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা-সংক্রান্ত আইনে নির্ধারিত নেই।
