বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ নিয়ে সৌদির প্রতিরক্ষা জোট
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইয়েমেনের বাব আল-মানদেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে ১৪টি দেশ নিয়ে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। এই জোটে এ অঞ্চলের বাংলাদেশ ও পাকিস্তান রয়েছে। আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। যৌথ সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের কাঠামো হিসাবে এই বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট (এমএমডিএ) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই ১৪টি দেশ ৩টি জলপথে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের পথ সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এসব জলপথ ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে একটি কৌশলগত সামুদ্রিক করিডর গড়ে তুলেছে।
হরমুজ প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংকটের মূল কেন্দ্রে পরিণত হওয়ায় সৌদি আরব এই সামুদ্রিক সামরিক জোট গঠনের পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহণ হয়ে থাকে। এ জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ছাড়া এ জোটের স্বাক্ষরকারী দেশের মধ্যে রয়েছে-বাংলাদেশ, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কমোরোস।
সামুদ্রিক সামরিক জোট গঠনের এই বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদলও অন্তর্ভুক্ত ছিল। লোহিত সাগরে আগে থেকেই তাদের ‘অ্যাসপাইডস’ নামে একটি নৌ সুরক্ষা মিশন চালু রয়েছে।
সৌদির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অংশগ্রহণকারী দেশগুলো দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস পোষণ করে যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা যৌথ দায়িত্ব। যৌথ ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলার জন্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় এর মূল ভিত্তি।’
জোটের প্রতিটি দেশ ঠিক কী ধরনের জাহাজ বা বিমান দিয়ে অবদান রাখবে, সৌদির ঘোষণায় তার বিস্তারিত উল্লেখ নেই। তবে তাদের কার্যক্রমের মধ্যে থাকবে গোয়েন্দা তথ্য ও পরিকল্পনা বিনিময় করা; পাশাপাশি যৌথ মহড়া ও সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা করা। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, এ জোট ‘সম্পূর্ণরূপে আত্মরক্ষামূলক প্রকৃতির হবে এবং কোনো দেশকে লক্ষ্য করে এই জোট গঠিত হয়নি।’
সৌদি আরবকে এ জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং এর সদর দপ্তর হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তবে বিবৃতিতে সদর দপ্তরের সঠিক অবস্থান নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী গত সপ্তাহে সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধ আরোপ করেছে। এর মধ্যে তাদের জ্বালানি ট্যাংক ও উপকূলের তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালির পর লোহিত সাগর দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন প্রতিরক্ষা জোটের খবর সামনে এসেছে।
