যে কোনো সময় পে-স্কেল ঘোষণা: মুখ্য সচিব
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে এটি ঘোষণা করা হতে পারে। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার একথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, পে-স্কেল বিবেচনাধীন আছে এবং এ বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। এটা আমরা বাস্তবায়ন করব। এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। যে কোনো মুহূর্তে পে-স্কেল ঘোষণা হতে পারে।
বাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজারে কিছু সমস্যা আছে, এটাও আমরা চেষ্টা করছি। আপনারা লক্ষ্য করছেন, জ্বালানি এবং বিদ্যুতের কারণে হয়তো প্রডাকশন চেইনে কিছুটা বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এটা ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
সরকারের ৬ মাসের কার্যক্রমের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে মুখ্য সচিব বলেন, আপনারা জানেন যে, আমরা কী রকম একটা দেশ পেয়েছি। ১৭ বছর দেশটা প্রায় ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। আমরা একটা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে দেশের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। কিন্তু আপনারা লক্ষ্য করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটা পরিবর্তনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন এবং অপরিসীম পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, কিছু অগ্রাধিকার প্রকল্প নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছি। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সম্মাননাসহ অনেক কিছু আছে। খাল খনন, তারপর আমরা একটা বড় কাজ করেছি কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।
বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট উল্লেখ করে এবিএম আব্দুস সাত্তার বলেন, এখন যেটা আমরা দেখছি, সেটা হলো গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সংকট। আপনারা এটা জানেন, এই সংকটের জন্য বর্তমান সরকার দায়ী নয়। জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে এবং সেটার বিকল্প ব্যবস্থা বিগত সরকার করতে পারেনি। আমরা বহুমুখী সাপ্লাই চেইন সৃষ্টি করছি। আমরা রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, এমনকি চীন থেকেও জ্বালানি আনার চেষ্টা করছি। মুখ্য সচিব বলেন, বিদ্যুতের ব্যাপারেও কিছু দুর্ঘটনার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে, একই রমক সমস্যা গ্যাসের ক্ষেত্রেও হয়েছে। তিনি বলেছেন, অল্পদিনেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
পে-স্কেল ঘোষণার ফলে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে মুখ্য সচিব বলেন, ‘না, সেটা তো আমাদের মাথায় আছে। কিন্তু কী করবেন? সাধারণত পাঁচ-ছয় বছর পরপর পে-স্কেল হওয়ার কথা। কিন্তু বিগত সরকার ১১ বছর যাবত কোনো পে-স্কেল ঘোষণা করেনি। যার ফলে এই ১৮ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী আমরা চাপের মধ্যে আছি। তিনি বলেন, এখন মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের বেতন তো বাড়াতে হবে। এটা হয়তো জনগণের জন্য একটু কষ্টকর হবে। কিন্তু এটাও তো ঠিক যে, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের মূল্যস্ফীতির সঙ্গে জীবনযাত্রার সমন্বয়ের দাবি করছেন। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, পাঁচ থেকে ছয় বছরের মধ্যে পে-স্কেল হওয়ার কথা কিন্তু আজ প্রায় ১২ বছর হয়ে যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কর্মসংস্থান করব, তারপরে প্রোঅ্যাক্টিভিটি বাড়াব। বিভিন্ন ক্ষেত্রে যারা অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছেন, সেগুলো এক এক করে আমরা মোকাবিলা করব। প্রশাসনের সর্বোচ্চ দুই পদে থাকা মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন সচিবের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মুখ্য সচিব বলেন, একটু অপেক্ষা করেন, দেখেন।
