Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

সরকার ও বিরোধী দলের সম্পর্ক

চাপে রাখলেও সংঘাত চায় না ১১ দল

Advertisement

শহীদুল ইসলাম

শহীদুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চাপে রাখলেও সংঘাত চায় না ১১ দল

Advertisement

এক সময়ের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্ক ভবিষ্যতে কেমন যাবে এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা আছে। কেউ কেউ সংসদে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলকে ‘অনুগত বিরোধী দল’ বলে মনে করছেন। আবার কারও মতে, বিরোধী দল হিসাবে তারা সংসদে ও রাজপথে যথাযথ ভূমিকা পালন করছে। সরকারের নানা কাজের সমালোচনার পাশাপাশি সংসদ এবং রাজপথে কর্মসূচি নিয়ে সরব রয়েছেন তারা। কিন্তু এ সত্ত্বেও ভেতরে ভেতরে একটা অলিখিত যোগাযোগ ও সমঝোতায় দুপক্ষ চলছে বলে অনেকেই মনে করছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন এক জোটে থাকা বিএনপি এবং জামায়াত সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে যাবে না। বিরোধী দল এমন কিছু করবে না যাতে তৃতীয় পক্ষ সুযোগ নিতে পারে। তবে বর্তমান বিরোধী দল আগের সংসদের জাতীয় পার্টির মতো আওয়ামী লীগের অনুগত নয় বলে দাবি করেছেন সরকারি ও বিরোধী দলের নীতিনির্ধারক নেতারা। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ যারা করেন তারা পতিত ফ্যাসিস্টের দোসর। আরেকটা ওয়ান-ইলেভেনের উসকানি দিচ্ছে এই মহলটি-এমনও বলছেন কেউ কেউ।

বর্তমান সংসদে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারি দলের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের সংরক্ষিত আসনসহ রয়েছে ৯০টি আসন। পর্যবেক্ষদের মতে, নব্বই জনের বিরোধী দল সংসদীয় গণতন্ত্রে ছোট নয়।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে সরকারি দলের অবস্থানের বিপরীতে সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই সোচ্চার রয়েছে বিরোধী দল। ওইদিন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সংসদে ভাষণ দেওয়ার প্রতিবাদে বিরোধীদলীয় সদস্যরা ওয়াক আউট করেন। পরে নানা ইস্যুতে বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে আরও কয়েকবার ওয়াক আউট করেছে।

বিরোধী দল সংবিধান সংস্কার চায় জুলাই সনদের ভিত্তিতে। অন্যদিকে সরকারি দল সংবিধান সংশোধন করতে চায়। এ বিষয়ে সংসদে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে তিনটি নাম চাওয়া হলেও বিরোধী দল দেয়নি। তারা বলছেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করতে হলে সংস্কার প্রয়োজন, সংশোধন হলে সেখানে মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা যায় না। সেক্ষেত্রে বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে এবং সুপ্রিমকোর্ট তা বাতিল করে দিতে পারে বলে যুক্তি দিচ্ছে বিরোধী দল।

এমন পরিস্থিতি সংবিধান সংস্কারের দাবিতে বিরোধী দল রাজপথে কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। মিছিল-মিটিং বিভাগীয় সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন শেষে সামনে রয়েছে চার বিভাগীয় শহরে লংমার্চ এবং ঢাকায় মহাসমাবেশের কর্মসূচি। তারপরও বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে যে, বর্তমান বিরোধী দল সরকারের অনুগত। তারা মানুষকে দেখানোর জন্য কিছু কর্মসূচি পালন করছে।

সদ্য সমাপ্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনেও বিরোধী দল প্রার্থী দিয়েছিল। তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বিএনপির বিজয়ী রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করেছেন। তিনি ছাড়াও বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্য তাকে অভিনন্দন জানিয়ে কোলাকুলি করেন। শফিকুর রহমান ফেসবুক পোস্টেও মির্জা ফখরুলকে ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে অভিনন্দন জানান। তার আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্ত্রীর জানাজা শেষে সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংসদ নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে কিছু রাজনৈতিক বিষয়াদিও স্থান পায়। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে শপথ নেওয়ার আগেই জামায়াত আমির, এনসিপির আহ্বায়ক এবং চরমোনাই পীরের সঙ্গে তাদের বাসভবনে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তারেক রহমান। অনেকের মতে, এসব ঘটনা সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা পালন করেছে। যদিও বিরোধী দল রাজপথে কর্মসূচি দিচ্ছে; কিন্তু হরতাল, অবরোধ, অসহযোগ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের মতো কোনো কর্মসূচি এ পর্যন্ত দেয়নি।

এতে অনেকে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য বিরোধী দল হিসাবে ‘অনুগত’ কিনা। কারণ, বিএনপি এবং জামায়াত দীর্ঘদিনের রাজপথের সহযোগী। এখন তারা কেউ সরকারে এবং কেউ বিরোধী দলে থাকলেও সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে যাবে এমনটি অনেকেই বিশ্বাস করেন না।

বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী এ প্রসঙ্গে শনিবার যুগান্তরকে বলেন, আমি মনে করি বর্তমান বিরোধী দল সরকারের অনুগত। এখন পর্যন্ত তাদের কার্যক্রমে তাই মনে হয়েছে। তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে জামায়াত হতে পারে আরেকটি জাতীয় পার্টি। তবে সেটা কারও কাম্য নয়।

জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, বিরোধী দলের মডেল তো হলো তারা তাদের দৃষ্টিতে জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজের সমালোচনা করবে, ওয়াক আউট করবে, সংসদ বর্জন করবে। সংসদের বাইরেও তারা সমালোচনা করবে, সরকারকে যৌক্তিক পরামর্শ দেবে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানও দেবে। এর বাইরে জাতীয় পার্টির মতো অনুগত বিরোধী দলও আমরা দেখেছি। তবে বর্তমান বিরোধী দলের কার্যক্রমে ওই রকম কিছু এখন পর্যন্ত দেখি না। আরও কিছুদিন পরে হয়তো এ সম্পর্কে মন্তব্য করা যাবে।

বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, জাতীয় সংসদকে প্রাণবন্ত করতে বর্তমান বিরোধী দলের ভূমিকা ভালো। যেসব বিষয়ে যতটুকু বিরোধিতা করার তা তারা করছেন। জনগণের স্বার্থে বিরোধী দল সংসদে কথা বলবে সেটাই স্বাভাবিক। তবে রাজপথে তাদের ভাষা গণতন্ত্রের ব্যাকরণে পড়ে না। আলাল বলেন, সরকার ফ্যাসিস্টের পথে হাঁটছে, গদি ছেড়ে দে, আরেকটি বিপ্লব অনিবার্য ইত্যাদি যেসব কথা তারা বলছেন তা গঠনমূলক বিরোধিতার পর্যায়ে পড়ে না। এরপরেও যদি কেউ বলে যে বিরোধী দল অনুগত, সেটা তারা বলতে থাকুক। বর্তমানে পত্র-পত্রিকা স্বাধীন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যে যা ইচ্ছা লিখতে পারে। তবে এটা হলো একটি মহলের উসকানিমূলক কথা।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এ প্রসঙ্গে যুগান্তরকে বলেন, আমরা যদি পাতানো বিরোধী দলই হতাম তাহলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী রুখে দেওয়ার কথা বলতেন না। বিএনপির সদ্য বিদায়ি মহাসচিব বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তো রীতিমতো প্রকাশ্যে আমাদের নির্মূলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও কয়েকদিন আগে বলেছেন, আমাদের সামনে তারা আর কোনো সুযোগ দেবেন না। গত ৬ মাসে বিএনপি ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলায় জামায়াতের ৬ জন নেতাকর্মী মারা গেছেন। এরপরেও যারা আমাদের অনুগত বিরোধী দল বলতে চান তাদের অন্য এজেন্ডা আছে।

এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার যুগান্তরকে বলেন, যারা অনুগত বিরোধী দল বলেন তারা চায় দেশে আবার সংঘাতের রাজনীতি ফিরে আসুক, মারামারি, হানাহানি শুরু হোক এবং এক-এগারোর পরিস্থিতি তৈরি হোক। হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতি আবার শুরু হোক এমন উসকানি দিচ্ছে মহল বিশেষ। আমরা ১১ দল গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ জনগণের দাবি নিয়ে সংসদে যেমন সোচ্চার আছি; তেমনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজপথে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করছি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বড়াইগ্রামে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ ঘুম থেকে চিরঘুমে ১২ প্রাণ

ঘুম থেকে চিরঘুমে ১২ প্রাণ

রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দল এক হয়ে ষড়যন্ত্র করছে

পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দল এক হয়ে ষড়যন্ত্র করছে

খালার বাড়ি যাওয়া হলো না দুই শিশুর বাবা-মেয়ের মৃত্যু মা-ছেলে হাসপাতালে

বাবা-মেয়ের মৃত্যু মা-ছেলে হাসপাতালে

বাঁওড় এলাকায় মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প তিন কোটি টাকার মাছ ছাড়তে খরচ ৪৫ কোটি

তিন কোটি টাকার মাছ ছাড়তে খরচ ৪৫ কোটি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম