খালার বাড়ি যাওয়া হলো না দুই শিশুর
বাবা-মেয়ের মৃত্যু মা-ছেলে হাসপাতালে
Advertisement
অহিদুল হক, বড়াইগ্রাম (নাটোর)
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বাবা-মেয়ের হাসিমাখা মুখের এই ছবি এখন শুধুই স্মৃতি। মঙ্গলবার বনপাড়ায় সড়কে দুজনই নিহত হন -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্কুল ছুটি, তাই শিশু তাসফিয়া (৮) আর লাবিব (১০) বায়না ধরেছিল খালার বাড়ি বেড়াতে যাবে। নিজের কর্মস্থল ব্যাংকও ছুটি থাকায় তাদের বায়না মেটাতে ছেলেমেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে রাজশাহীতে বড় বোনের বাসায় বেড়াতে যাচ্ছিলেন রুবিনা আক্তার (৩৬)। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছা হলো না তাদের। পথে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন তার স্বামী ও মেয়ে। রুবিনা ও তার ছেলে লাবিব হাসানও (১০) গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় তাসফিয়ার কোলে থাকা তার শখের বিড়ালটিও মনিবের সঙ্গেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এক নিমিষে শেষ হয়ে গেল একটি সাজানো সংসার।
রুবিনাকে এখনো তার স্বামী-সন্তানের মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। মঙ্গলবার ভোরে নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হন।
বনপাড়া হাইওয়ে থানায় লাশ নিতে আসা নিহত শহিদুল ইসলামের ভাগনি জামাই মমিনুর রনি জানান, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের শহীদুল ইসলামের স্ত্রী রুবিনা খাতুন পূবালী ব্যাংকের সুবিদখালী শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। আর শহীদুল ইসলাম ব্র্যাক ব্যাংকের মাগুরা শাখার ম্যানেজার ছিলেন। কিছুদিন আগে তারা দুজনই ওমরাহ করে এসেছেন। দুর্ঘটনায় শহীদুল (৪০) ও তাদের মেয়ে তাসফিয়া খাতুন (৮) মারা গেছেন। তাসফিয়া তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল, আর ছেলে লাবিব পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। রুবিনার দুলাভাই রাজশাহীর পাঠানপাড়া এলাকার বাসিন্দা শহিদুর রহমান ইস্টার্ন ব্যাংকের কর্মকর্তা। তিনি খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে স্ত্রীসহ নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি লাবিব ও তার মা রুবিনাকে দেখতে আসেন। এ সময় তিনি জানান, পূজার ছুটি কাটাতে সন্তানদের নিয়ে পটুয়াখালী থেকে রওয়ানা হন রুবিনা। পথে মাগুরা থেকে একই বাসে ওঠেন তার স্বামী। ভোরে তাদের রাজশাহীতে পৌঁছার কথা ছিল। কিন্তু দেরি হওয়ায় খোঁজ নিতে গিয়ে দুর্ঘটনার খবর জানতে পারেন।
তিনি আগেজড়িত কণ্ঠে বলেন, তারা পূজার ছুটিটা আমাদের বাসায় কাটাতে চেয়েছিল। কিন্তু একটা দুর্ঘটনায় জীবনটা এলোমেলো হয়ে গেল।
হাসপাতালের শয্যায় ব্যথায় কাতরাচ্ছেন রুবিনা আক্তার। এর মধ্যেও বারবার জানতে চাচ্ছেন স্বামী ও মেয়ে কোথায়। কিন্তু তার পরিস্থিতি ভেবে এখনো তাকে তাদের খবর জানানো হয়নি।
