Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী

পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দল এক হয়ে ষড়যন্ত্র করছে

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দল এক হয়ে ষড়যন্ত্র করছে

চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপে মঙ্গলবার সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -সংগৃহীত

Advertisement

‘পতিত স্বৈরাচার’ ও বিরোধী দল এক হয়ে দেশে বিশৃঙ্খলার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘দেশের কয়েকটি কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি পরিষ্কার করে হাজারো মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই। পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে তারা অর্থ সরবরাহ করছে।’ এছাড়াও তিনি বলেছেন, ‘ধর্ম, বর্ণ বা পেশার ভিন্নতা নয়-বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সমান। কাউকে পেছনে ফেলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সবার সহযোগিতায় দেশ গড়তে চাই।’ মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গোৎসবের নবমীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রংপুর ও রাজশাহী সফরে গিয়ে বিভিন্ন সমাবেশ, জনসভা ও সংক্ষিপ্ত পথসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টায় ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে একটি সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হন। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন এবং রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামুসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা প্রমুখ।

রংপুর : দুপুরে নগরীর ঐতিহাসিক ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ) মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন ঐক্যের ডাক দিয়েছি, তখন একটি মহল বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সব ধর্মের মানুষই ছিল। দেশে যে স্বৈরাচার জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল, তাকে দেশ থেকে বিদায় করতে ধর্মবর্ণনির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একইভাবে রাজপথে নেমেছিল অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়ইয়ে। তাই আমরা একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারকে যারা ভোট দিয়েছে, তারও সরকার, যারা ভোট দেয়নি, তারও সরকার-সবার জন্য এই সরকার। তাই রাষ্ট্রের যে অর্থনৈতিক অবস্থা আছে, তা বিবেচনা করে সমবণ্টনের মাধ্যমে দেশের সবাই এলাকার উন্নয়ন সমানভাবে করতে চাই। এ কারণে সম্প্রতি রংপুর মহানগরের উন্নয়নের জন্য একনেকের সভায় ১৮০০ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী দুপুর ১২টায় রংপুরে ধর্মসভা পূজামণ্ডপে পৌঁছান। পূজামণ্ডপে পৌঁছে মন্দিরে উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে তিনি ‘মহিষাসুর বধ’ শীর্ষক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী রংপুর ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরের উন্নয়নে ১০ লাখ টাকা অনুদানের চেক তুলে দেন। পরে তিনি ধর্মসভায় বক্তব্য শেষে সড়কপথে রাজশাহীর উদ্দেশে সৈয়দপুরের পথে রওয়ানা দেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নেমে আনুষ্ঠানিকতা শেষে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলা পীর এলাকায় সংক্ষিপ্ত দুটি পথসভায় বক্তব্য দেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এর আগে তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নেমে সৈয়দপুর বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীদের অভ্যর্থনা গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সেলফি তোলেন এবং তাদের উপহার দেন।

রাজশাহী : ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে মঙ্গলবার বিকালে ‘আখচাষিদের মাঝে প্রণোদনা বিতরণ ও জনসভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ সরবরাহ করে দেশের ভেতরে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘অর্থ সরবরাহ করে তারা কাদের সাহায্য করছে? এই যে কিছু লোক আছে, যারা বিভ্রান্তি ছড়ায় দেশে, যারা মিথ্যা কথা বলে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছিল-এ দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

যারা একাত্তরে ধোঁকা দিয়েছিল, তারা চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও ধোঁকা দিয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে আমরা সব রাজনৈতিক দলকে দাওয়াত দিয়েছিলাম। কিন্তু জুলাইয়ের শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেসব দলের কোনো প্রতিনিধি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না। তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে তারা যেন কী টিকিট বিক্রি করেছিল। সেই টিকিট জনগণ খায় না। সেসব ভ্রান্ত রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে।’

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, এ বছরই দেশের ৪০ লাখ কৃষক কৃষি কার্ড পাবেন। জনসভা থেকে আখচাষিদের প্রণোদনা দেওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের সময় বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠন করতে পারলে বিএনপি কৃষকদের পাশে দাঁড়াবে। সরকার গঠনের সাত দিনের মধ্যে ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষক ভাইদের একটি কার্ড দিতে চাই। ইতোমধ্যে এর কাজ শুরু হয়েছে। আমরা ৪০ লাখ কৃষকের কাছে কার্ড পৌঁছে দেব এ বছরই।’

কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। এরই মধ্যে আট মাসে ৮০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। এজন্য তিস্তা ও পদ্মা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে, তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে। বাংলাদেশের পানির হিস্যা পাওয়ার জন্য যতদূর যেতে হয়, সরকার সেই চেষ্টা করবে। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব ব্যারাজ নির্মাণের কাজ শেষ করা হবে।’

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষিকে ১২ কোটি টাকা প্রণোদনা দেন। জনসভা মঞ্চে বসে তিনি ল্যাপটপের বাটন চেপে কৃষকদের এই প্রণোদনা দেন। পরে তিনি দেশের ১৫টি সুগার মিল জোনের ১৫ জন কৃষকের হাতে প্রণোদনার প্রতীকী চেক তুলে দেন।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ ঘুম থেকে চিরঘুমে ১২ প্রাণ

ঘুম থেকে চিরঘুমে ১২ প্রাণ

রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দল এক হয়ে ষড়যন্ত্র করছে

পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দল এক হয়ে ষড়যন্ত্র করছে

খালার বাড়ি যাওয়া হলো না দুই শিশুর বাবা-মেয়ের মৃত্যু মা-ছেলে হাসপাতালে

বাবা-মেয়ের মৃত্যু মা-ছেলে হাসপাতালে

বাঁওড় এলাকায় মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প তিন কোটি টাকার মাছ ছাড়তে খরচ ৪৫ কোটি

তিন কোটি টাকার মাছ ছাড়তে খরচ ৪৫ কোটি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম