অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের অভিমত
বেসরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধির চাপ বাড়বে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নতুন পে-স্কেল শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়াবে না, এর ঢেউ ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো অর্থনীতিতে। ভঙ্গুর বেসরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধির চাপ বাড়বে। জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। বাড়বে মূল্যস্ফীতিও। অথচ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও বৈশ্বিক অস্থিরতায় এমনিতেই চাপে শিল্প-বাণিজ্য। অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারি বেতন বৃদ্ধির প্রভাব সামলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশ্ন উঠেছে বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে, নাকি বাড়বে শুধু ব্যয়ের বোঝা। জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক ড. এম কে মুজেরী যুগান্তরকে বলেন, নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বেতন বৃদ্ধির প্রভাব কিছুটা পড়বে। তবে বেসরকারি খাতে বেতন বৃদ্ধির চাপ বাড়বে। তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে তাদের মধ্যে ব্যয় বাড়ার একটি সম্ভাবনা তৈরি হবে। এর প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়তে পারে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বাইরে যারা বেসরকারি ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন, তাদের কোনো নির্দিষ্ট পে-স্কেল নেই। চাকরির টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনের (সুনির্দিষ্ট শর্ত) ভিত্তিতে তারা কাজ করেন। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে তাদের মধ্যেও বেতন বাড়ানোর একটি দাবি তৈরি হতে পারে। এই অর্থনীতিবিদ বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে যারা বেসরকারি খাতে আছেন, তাদের বেতন বাড়ানোর সুযোগ সীমিত। কারণ তাদের আয়-ব্যয়ের পরিস্থিতি এবং প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ এবং যারা বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাদের ওপরও এর একটি চাপ তৈরি হবে। কারণ সরকারি চাকরিজীবীদের মতো তাদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার নির্দিষ্ট কাঠামো নেই। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ওপরও এক ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের সামনে এই মুহূর্তে বেতন বাড়ানোর দাবি বিবেচনা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের ওপরও এ নিয়ে বড় ধরনের চাপ ছিল। যদিও সরকারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো নয়, তারপরও সরকারকে বাধ্য হয়ে এ কাজটি করতে হয়েছে।
বাংলাদেশ নিটপণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এই বেতন কাঠামো বেসরকারি খাতে বেতন বাড়ানোর চাপ তৈরি করবে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে বেতন বাড়ানোর ক্ষমতা বেসরকারি খাতের নেই। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির প্রয়োজন আছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি মূল্যস্ফীতি আরও বাড়াবে। বাস্তবতা হলো-অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাত কোনোভাবেই বেতন বৃদ্ধির চাপ সহ্য করতে পারবে না। কেননা গ্যাস-বিদ্যুতের কারণে একদিকে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থার কারণে রপ্তানি কমেছে।
জানতে চাইলে সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বেড়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে দুর্নীতি বন্ধ হবে কি না। এক্ষেত্রে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে না। বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে দুর্নীতির বন্ধ হয় না। কারণ দুর্নীতি আমাদের ডিএনএ’র সঙ্গে মিসে আছে। রন্দ্রে রন্দ্রে জড়িয়ে আছে এই দুর্নীতি। তিনি বলেন, দুর্নীতি বন্ধের জন্য দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন জরুরি। এজন্য সরকারকে রেডিকেল সার্জারিতে (বিশেষ অপারেশন) যেতে হবে। সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু সেটা কতটা নেওয়া হবে সেটি বিবেচ্য বিষয়।
