বিমানের বহরে আসছে আরও ১১ বোয়িং
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করতে যাচ্ছে। স্থানীয় সময় বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে চুক্তি সই হওয়ার কথা। এর মধ্য দিয়ে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের উড়োজাহাজ কেনার সংখ্যা দাঁড়াবে ২৫টিতে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশের চাহিদা অনুযায়ী কেনা হচ্ছে। আমরা যে বোয়িং কেনার কথা বলছি, এ বোয়িংগুলোর পেমেন্ট এখন থেকে ধাপে ধাপে অনেকদিন পর্যন্ত হতে থাকবে। বোয়িংগুলো হাতে পাওয়া আমাদের জন্য লম্বা সময়ের ব্যাপার। সুতরাং এক্ষুনি অল্প সময়ের মধ্যে অনেক টাকা দিয়ে দিতে হবে, বিষয়টি মোটেও তা নয়।
নিউইয়র্ক সময় বুধবার বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৫ মিনিট) চুক্তি সই হবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসাইন চুক্তিতে সই করবেন। উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করতে পারেন বলে জানা গেছে। পরে বোয়িংয়ের গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডন নেলসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এর আগে ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান। প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ওই প্যাকেজে রয়েছে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। এটিই বিমানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ ক্রয়চুক্তি। আগের চুক্তির উড়োজাহাজগুলোর সরবরাহ ২০৩১ সাল থেকে শুরু হওয়ার কথা।
এয়ারবাসের প্রস্তাবও আছে : বোয়িংয়ের পাশাপাশি ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকেও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে বিমান বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত প্যাকেজে রয়েছে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি ও ছয়টি এ৩২১ নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ। এ বিষয়ে একটি কারিগরি কমিটি কাজ করছে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে বোয়িংয়ের ২৫টি, এয়ারবাসের ১০টিসহ ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে বিমানের বহরে রয়েছে ১৯টি উড়োজাহাজ। এদিকে এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাব্য চুক্তিকে শুধু বাণিজ্যিক লেনদেন হিসাবে দেখছে না ফ্রান্স। ঢাকায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে মঙ্গলবার বলেছেন, এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তি হলে তা বাংলাদেশ ও ইউরোপের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। রাষ্ট্রদূতের মতে, ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে ঢাকার সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি বর্তমান সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা। সরকার ও বিমানের ওপর আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে।’ জঁ-মার্ক সেরে-শারলে আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৫০ শতাংশ তৈরি পোশাক ইউরোপের বাজারে রপ্তানি হয়। ফলে ইউরোপের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের বিষয়।
