Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

জাতিসংঘের বুকে একখণ্ড বাংলাদেশ

Advertisement

হক ফারুক আহমেদ

হক ফারুক আহমেদ

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিসংঘের বুকে একখণ্ড বাংলাদেশ

Advertisement

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের এখন এক অভূতপূর্ব ও শক্তিশালী উপস্থিতি বিশ্ববাসীর নজর কাড়ছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ ইসু্যুগুলোতে আলোচনা-পর্যালোচনায় অংশ নিচ্ছেন। অন্যদিকে, সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসাবে অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। সব মিলিয়ে এই সময়ে জাতিসংঘে বাংলাদেশ তার আলাদা একটি উপস্থিতির কথা জানান দিচ্ছে। এজন্যই কেউ কেউ বলছেন, জাতিসংঘের বুকে বাংলাদেশ যেন আজ আলাদা ও স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের এমন সব উজ্জ্বল নক্ষত্রের সমাহার আগে কখনো দেখা যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও এক ধরনের সরব উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে। কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের সরব উপস্থিতি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি বাড়িয়ে তুলবে। তবে এই সম্মেলন থেকে বাংলাদেশের বেশকিছু চাওয়া-পাওয়ার অর্জনও প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। তাদের মতে, নিজস্ব সমস্যার চেয়ে বৈশ্বিকভাবে নানা ইস্যুতে বাংলাদেশ কীভাবে তার ভূমিকা রাখতে পারে তার ভিত্তিতেই বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়বে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত এম সফিউল্লাহ মনে করেন, জাতিসংঘ হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফোরাম এবং এবারের সেশনটি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এই মুহূর্তে বাংলাদেশের বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বদেরও সম্মিলন ঘটেছে সেখানে। তাদের মধ্যে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. ইউনূস, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বর্তমান ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান রয়েছেন। এছাড়াও বাংলাদেশের কূটনীতিক ও আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহায়তা মিশনের প্রধান রাবাব ফাতিমা, বিশ্বখ্যাত মানবাধিকারকর্মী ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খানও রয়েছেন সেখানে। জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের এমন সব উজ্জ্বল নক্ষত্রের সমাহার আগে কখনো দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, এই সম্মেলন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের বিষয়টি সব আলোচনাতেই গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সহায়তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান বিরূপ প্রভাব, উজানের দেশ থেকে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং বিষয়গুলো সেখানে গুরত্বের সঙ্গে আলোচনা আসবে বলে মনে করি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে জাতিসংঘ সফরে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন। তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ইতোমধ্যে জাতিসংঘ সফরে বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজে অংশ নিয়েছেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় রাতে নিউইয়র্কের বিলাসবহুল লোটে নিউইয়র্ক প্যালেস হোটেলে এ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান মনে করেন, বাবা ও মায়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার ঘটনায় বড় একটি আবেগের জায়গা আছে। এর সঙ্গে আরও যুক্ত হয়েছে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্ব করার বিষয়টি।

যুগান্তরকে তিনি বলেন, এটি একটি বিশ্ব ফোরাম এবং সেই ফোরামে বৈশ্বিক ইসু্যুগুলোতে আমরা কতটুকু কন্ট্রিবিউট করতে পারলাম সেটি একটি বড় দিক। বিশ্বজনীন ইস্যুতে গঠনমূলক প্রস্তাব দেওয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশের এই সফরে গুরুত্ব বাড়বে এবং গ্লোবাল ইমেজ তৈরি হতে পারে। এবারের সাধারণ পরিষদের আলোচনাগুলো কয়েকটি বিষয়ের মধ্যে কেন্দ্রীভূত থাকবে। তার মধ্যে বিশ্বব্যবস্থার সংস্কার, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অনেকের শ্রদ্ধা না থাকা, তুলনামূলক কম ক্ষমতাধর দেশগুলোতে যুদ্ধসহ যখন যা খুশি তা চাপিয়ে দেওয়া, দুর্বল দেশগুলো কীভাবে রক্ষা করা যাবে এ বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে। এর পাশাপাশি যুদ্ধের কারণে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, সমুদ্রপথে মালামাল পরিবহণে যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে সে বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।

তিনি বলেন, পশ্চিমারা সাধারণত যেভাবে আছে সেভাবেই টিকিয়ে রাখতে চায় বিষয়গুলো। তারা হয়তো অল্প কিছু সংস্কারের প্রস্তাব করতে পারে। কিন্তু উন্নয়নশীল বিশ্ব, বিশেষ করে তার অন্যতম প্রতিনিধি দেশ চীন এবং উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশগুলো থেকে আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব আসতে পারে। সেখানে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিশ্ব পরিমণ্ডলে আলোচিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু বৈশ্বিক ইস্যুগুলোতে আলোচনায় অংশ নিলে বাংলাদেশ লাভবান হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

টার্গেট ডিসেম্বর রাজনীতি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কারা

আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কারা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন রূপরেখা প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব উচ্চকক্ষ থেকে

প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব উচ্চকক্ষ থেকে

থাইল্যান্ডে বসে চালাচ্ছেন দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র শেখ পরিবারের ‘ঘনিষ্ঠ’ রাজী ফখরুল এখনো বেপরোয়া

শেখ পরিবারের ‘ঘনিষ্ঠ’ রাজী ফখরুল এখনো বেপরোয়া

হামলার আশঙ্কায় বন্ধ ব্যাংক-ভূমিসেবাসহ বহু ওয়েবসাইট সাইবার সুরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

সাইবার সুরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম