যুক্তরাষ্ট্রকে ৭ দিনের কর্মপরিকল্পনা দিল ইরান
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত বা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরান সাত দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সামনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এ পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন। এ প্রস্তাবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্তাবলি বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে আছে সব ধরনের সংঘাত বা বৈরিতা বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া।
মার্কিন গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে শুক্রবার আল-জাজিরা এ খবর জানায়। এতে বলা হয়, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে ইরান একটি প্রস্তাব পাঠায়। এতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধ তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। তেল ও গ্যাস রপ্তানি এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রভাবের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের ওপর বিধিনিষেধ এ সংঘাতের একটি প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে সাংবাদিকদের সামনে এ প্রস্তাবটি তুলে ধরা হয়। এমন একসময়ে এ প্রস্তাব এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধটি প্রায় সাত মাস পূর্ণ করতে চলেছে। পারস্পরিক লঙ্ঘনের অভিযোগের জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারকটির (এমওইউ) মেয়াদ আগস্টে শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে চুক্তিতে ফিরে আসার খুব একটা লক্ষণ দেখা না গেলেও তেহরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে এমনটা সম্ভব।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এ প্রস্তাব কার্যকর হলে গাজা ও লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে সাত দিনের মধ্যে সংঘাতের অবসান ঘটবে। পাশাপাশি ওয়াশিংটনকে ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ (যার পরিমাণ অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হয়) অবমুক্ত করতে হবে, ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং নৌ-অবরোধ তুলে নিতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার শেষদিনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অবিলম্বে শুরু হবে।
প্রস্তাবটি সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও এতে অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ১৭ জুন স্বাক্ষরিত চুক্তিতে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা রাখা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা ভেস্তে যায়। অস্পষ্ট শব্দচয়নের কারণে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয় এবং উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে পালটাপালটি অভিযোগ তোলে। অবশেষে ৭ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তিটি ‘বাতিল’ বলে ঘোষণা করেন।
আরাঘচি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি পরিকল্পনা পেশ করেছি।’ হোয়াইট হাউজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, প্রশাসন ‘মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা’ চালিয়ে যাচ্ছে। নিউইয়র্ক টাইমস এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন কোনো চুক্তির বিষয়ে তাড়াহুড়া করবে না।
ইরানের নিরাপত্তাবিষয়ক একটি সূত্র আল-জাজিরাকে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের শর্ত ও প্রতিশ্রুতিগুলো মেনে নেয়, তবে আরও কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবটি ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা খুব একটা এগোচ্ছে না। জেনেভা গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক ইতিহাস ও রাজনীতির অধ্যাপক সাইরাস শায়েক বলেন, ‘মূলত পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তনই হয়নি।’
হুথির সঙ্গে লড়াইয়ে যোগ দিতে পারে পাকিস্তান-তুরস্ক
ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত সৌদি ভূখণ্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নের বিষয়ে জরুরি আলোচনা করতে রিয়াদে যাচ্ছেন পাকিস্তান ও তুরস্কের সেনা কর্মকর্তারা। সৌদি আরবের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা সেখানে যাচ্ছেন। তুরস্কের জেনারেল স্টাফের প্রধান জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু সৌদি সফরে যাবেন-শুক্রবার এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। আল-জাজিরা জানতে পেরেছে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও শিগ্গিরই সৌদি রাজধানীতে পৌঁছাবেন।
সৌদি ভূখণ্ডে হুথিদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক প্রধানদের নিয়ে একটি বৈঠক আয়োজনের জন্য সৌদি আরবের আহ্বানের পরই এ ঘটনাপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার হুথিরা জানায়, তারা সৌদির বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর ওপর কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাইফ ও ইয়ানবুর দিকে ধেয়ে আসা ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এ সময় মক্কা, জেদ্দা ও ইয়ানবুর জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়।
