ওয়াল স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত
নিউইয়র্ক ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী
Advertisement
নেসারুল হক খোকন, নিউইয়র্ক থেকে
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে উন্মুক্ত ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন।’ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীদের জন্য আরও সহজ ও পূর্বানুমেয় পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করছে।’ শুক্রবার নিউইয়র্কে জেপি মরগান চেজের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ কামস টু ওয়াল স্ট্রিট’ শীর্ষক প্রাতরাশ বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, ‘আমি ওয়াল স্ট্রিট থেকে আসিনি। একজন বাংলাদেশি হিসাবে আমার জনগণের স্বার্থে কাজ করার দায়িত্ব নিয়ে এখানে এসেছি।’ তিনি বলেন, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা তাদের ব্যবসা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কাজ করেন, আর তিনি কাজ করেন বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে। দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের লক্ষ্য হলো-ফল নিশ্চিত করা।’ তিনি জানান, আগের দিন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তিনি তুলে ধরেছেন। আর জেপি মরগানের এ আয়োজনে তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য দেশের সুযোগ-সম্ভাবনা নিয়ে সরাসরি কথা বলতে চান।
এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে ১৮ কোটির বেশি মানুষের বিশাল বাজার রয়েছে। রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান। বিশ্ব বাংলাদেশকে বড় উৎপাদন ও তৈরি পোশাকের কেন্দ্র হিসাবে জানে। তবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এখন আরও বিস্তৃত। জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের কেন্দ্রে পরিণত করাই লক্ষ্য।’
বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ একটি পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করেছে। পাশাপাশি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ডে জেপি মরগানের ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন রেফারেন্স তৈরি করেছে এবং দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করতে সহায়তা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা জানতে চান-বিধিবিধান কতটা পূর্বানুমেয়, বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত, মূলধন কতটা দক্ষতার সঙ্গে স্থানান্তর করা যায় এবং মুনাফা দেশে ফেরত নেওয়া কতটা সহজ।’
ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে চায়, যেখান থেকে আরও বড় আঞ্চলিক বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব।’ বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের সঙ্গে সরকার কাজ করতে, তাদের কথা শুনতে এবং সম্ভব হলে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে প্রস্তুত।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘শিগ্গিরই তাদের অনেককে বাংলাদেশে দেখা যাবে।’
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের বৈঠক হয়েছে। শুক্রবার নিউইয়র্কে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিশনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ ও আমিরাতের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং জনশক্তি খাতসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
জাতিসংঘ সফর শেষে নিউইয়র্ক ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী : পাঁচ দিনের নিউইয়র্ক সফর শেষে দেশে ফেরার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্ক ত্যাগ করেছেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এমিরেটসের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছে। দুবাই হয়ে তিনি দেশে ফিরবেন। তার সঙ্গে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটটি ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় দুবাই পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে রাত ২টায় ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা। এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর সকালে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
