সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন
আন্তর্জাতিক পরিসরে জাতীয় স্বার্থকে অটুট রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে ব্রিফিং করছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন -পিআইডি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নিউইয়র্কে স্বল্প সময়ের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, ‘প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন সবার আগে বাংলাদেশ।’ বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জাতিসংঘের সফর শেষে দেশে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কূটনৈতিক সাফল্য, বিশ্বমঞ্চে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
সফরে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক মিলিয়ে ৮০টির বেশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং ১১টি দেশের শীর্ষ নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। পাশাপাশি তিনি ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি সরকারি প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও প্রায় ৫০টি পৃথক বৈঠকে অংশ নেন বলেও জানান মাহ্দী আমিন।
মাহ্দী আমিন বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সমতা এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ আজ এক ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছে গিয়েছে। আমরা দেখেছি বিশ্বসভায় বাংলাদেশ কতটা আত্মবিশ্বাসী ছিল। আমাদের জাতীয় আত্মমর্যাদা, আত্মপ্রত্যয় এবং আত্মপরিচয় প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সফরের আটটি কর্মসূচি সরাসরি জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। তিনি জানান, এর মধ্যে ছিল সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশন, সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রাতরাশ সংবর্ধনা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া সংবর্ধনা। জলবায়ু ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্ব দেন।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, সেখানে প্রায় ২০টি দেশের শীর্ষ প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট পাঁচটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এবং বিশ্ব সম্প্রদায় তা অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে গ্রহণ করে। মাহ্দী আমিন বলেন-পাকিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইরান, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ক্রোয়েশিয়া ও হাইতির নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও শান্তিরক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রধান, বিশ্বব্যাংক, গেটস ফাউন্ডেশন ও আন্তর্জাতিক শান্তি-গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। ওয়াল স্ট্রিটের প্রায় ২৫ জন শীর্ষ বিনিয়োগকারীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ, আর্থিক খাত সংস্কার ও নতুন অর্থায়ন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। বোয়িংয়ের সঙ্গে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে অগ্রগতির কথাও জানানো হয়। এ সফরে প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান আটটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনটিতে বক্তব্য দেন বলেও জানান মাহ্দী আমিন।
দখল-ভাঙচুরে রাজনৈতিক ছাড় নেই, জাইমার নিয়োগে সরকারের সম্পৃক্ততা নেই : সাম্প্রতিক কয়েকটি দখল, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহ্দী আমিন বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে এবং তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। সরকার একটি সুষ্ঠু আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও স্পষ্ট করেছেন, অপরাধী যে-ই হোক, কোনো রাজনৈতিক ছাড় দেওয়া হচ্ছে না।
মাহদী আমিন বলেন, চাঁদ উদ্যান দখলের চেষ্টার ঘটনায় ইতোমধ্যে ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে জমি দখলের চেষ্টার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ১১ জনকে। মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও মালামাল ক্ষতির ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা সরকারের মূল অগ্রাধিকার। যদি কোনো দুষ্কৃতকারী অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাহলে কঠোর হাতে দমন করা হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এ বিষয়ে মাহ্?দী আমিন বলেন, এই নিয়োগের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের ন্যূনতম সম্পর্ক নেই। পি-থ্রি লেভেলের লিগ্যাল অফিসার হিসাবে জাইমা রহমানের নিয়োগ সরাসরি জাতিসংঘের হিউম্যান রিসোর্সেস বিভাগের মাধ্যমে হয়েছে। এখানে সরকারের কোনো অর্থায়ন বা সুপারিশের বিষয় নেই।
গ্যাস সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, ‘বিগত সময়ে দেশে ভয়াবহ ও ফ্যাসিবাদী শাসন ছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করতে চান। তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি চান না। অতীতে রিমান্ডসহ নানা নির্যাতন সহ্য করেই তারেক রহমান এই পর্যায়ে এসেছেন।’ তিনি যোগ করেন, ‘সরকারের মানবিকতাকে দুর্বলতা মনে করলে কারও জন্য ভালো হবে না।’
নিউইয়র্ক সফরের সফলতা আড়াল করতে দেশে ভিন্ন একটি ঘটনা সামনে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, গত ১৫ বছর একটি ‘ফ্যাসিস্ট সরকার’ দেশকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল বলে তারা মনে করেন। সেই ‘ভূতুড়ে অন্ধকার’ থেকে দেশকে আলোর পথে নিতে প্রধানমন্ত্রী একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করছেন। তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু কর্মকাণ্ডে অতীতের সরকারের পথ অনুসরণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। রুমন বলেন, ‘পতিত স্বৈরাচারের পথে হাঁটছে আমাদের বিরোধী দল। পলাতক সরকার যে সূত্রে দেশ চালিয়েছে, সেই মন্ত্রেই কথা বলছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপ্ট রাইটার মাহফুজুর রহমান, উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু, মো. সুজাউদ্দৌলা, সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক ও শাহরিয়ার পামির উপস্থিত ছিলেন।
