Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

উচ্ছেদ নিয়ে মিরপুরে সংঘর্ষ-ভাঙচুর

চার মামলায় আসামি দুই হাজার

দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে : প্রশাসক

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন ও মিরপুর (ঢাকা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চার মামলায় আসামি দুই হাজার

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাতে হকার উচ্ছেদ অভিযানে ভাঙচুর-অগ্নিকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করে পুলিশ -যুগান্তর

Advertisement

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর থানায় তিনটি এবং কাফরুল থানায় একটি মামলা হয়েছে। মিরপুর থানার তিন মামলায় এজাহারনামীয় ১৭ জনসহ অজ্ঞাতনামা ১২০০ থেকে ১৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। কাফরুল থানার মামলায় অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। দুই থানার চার মামলায় মোট আসামি প্রায় দুই হাজার। এ ঘটনায় অন্তত ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উচ্ছেদ এলাকায় নতুন করে কোনো দোকান বসতে দেখা যায়নি। বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রয়েছে সেখানে। মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ স্কুল পর্যন্ত ফুটপাত পুরোপুরি ফাঁকা। সকালে উচ্ছেদ করা স্থান পরিদর্শনে আসেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। ফুটপাত দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে বলে জানান তিনি।

মিরপুর থানার তিন মামলার বাদীরা হলেন ডিএনসিসির সহকারী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনির হোসাইন, মিরপুর-১০ নম্বর ট্রাফিক পুলিশের টিআই মো. আমজাদ হোসেন এবং মিরপুর থানার এসআই আবীর গোলদার। কাফরুল থানায় সরকারি কাজে বাধা, মারধর, হামলা, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ও পোড়ানোর ঘটনায় মামলা করেন ডিএনসিসির পরিবহণ তত্ত্বাবধায়ক মো. মহসীন রেজা।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে হোপ মার্কেটের দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। একপর্যায়ে হোপ মার্কেটসংলগ্ন বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেটের নিচে থাকা ভাসমান দোকান সরাতে গিয়ে ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায়। মসজিদে আগুন লাগার গুজব ছড়িয়ে হকাররা উচ্ছেদকারীদের ওপর হামলা করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, একপর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেটসহ সিটি করপোরেশনের চালক, শ্রমিক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও কর্মচারীদের ওপর হামলা করা হয়। সিটি করপোরেশনের গাড়ি ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে মিরপুর ও কাফরুল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশের পিকআপভ্যান ভাঙচুর এবং ১০ নম্বর ট্রাফিক পুলিশ বক্সে হামলা করা হয়।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করেছে। কাফরুল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে সিটি করপোরেশন বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান চলছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি দেখা যায়। মিরপুর-১৩ নম্বর বিআরটিএ, লাজফার্মা, হোপ স্কুল ও মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুলের আশপাশের গলিতেও হকাররা দোকান বসাননি। মিরপুর গার্লস আইডিয়ালের শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, সারা বছর রাস্তা ও ফুটপাত এভাবে ফাঁকা থাকলে শিক্ষার্থীসহ সবাই নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। জনগণের চাহিদা অনুযায়ী এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এটি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, নগরবাসীর প্রতি সিটি করপোরেশনের নৈতিক দায়িত্বও। এ কাজে নগরবাসীর সহযোগিতা চান তিনি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

আরও হার্ডলাইনে বিএনপি

আরও হার্ডলাইনে বিএনপি

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ভাঙচুর দখলচেষ্টা সংসদ-সদস্য পদও গেল মিষ্টির

সংসদ-সদস্য পদও গেল মিষ্টির

ফেনীতে সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিছু দল অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে

কিছু দল অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে

কানাডায় নূর ইসলাম পরিবারের সন্দেহজনক লেনদেন

কানাডায় নূর ইসলাম পরিবারের সন্দেহজনক লেনদেন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম