Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

এলপিজির দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা

Advertisement

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

এলপিজির দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা

Advertisement

বাজারে গ্যাস সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কয়েকটি এলপিজি অপারেটর (কোম্পানি) বড় ধরনের মুনাফা তুলে নিতে পাঁয়তারা করছে বলে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সংস্থা দুটি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানানোয় শনিবার দেশের এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব) সঙ্গে বৈঠক করেছেন জ্বালানিমন্ত্রী। সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এলপিজি মজুতের বিষয়টি তোলা হয়। বিভিন্ন সংস্থা ও এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী দেশে চাহিদামতো এলপিজি আমদানি করা হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়-তবে সংকট কেন? কেনই বা বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে লোটাব নেতাদের কাছে জবাব চাওয়া হয়। অভিযোগ অস্বীকার করে লোটাব নেতারা জানান, এলপিজির দাম বেশি বাড়ানো হলে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসতে পারে। কারণ আন্তুর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম অনেক বেশি। বৈঠকের পর এ ব্যাপারে জানতে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে বারবার প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে, নিয়ম অনুযায়ী আজ বিকালে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির নতুন দাম (অক্টোবরের জন্য) ঘোষণা করবে।

বৈঠকে উপস্থিত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, অপারেটরা আজ (রোববার) থেকে এক লাফে বেশি দাম বাড়ানোর পক্ষে। দাম বাড়ালে তাদের আমদানির সুবিধা হবে। এ ক্ষেত্রে তাদের চাহিদামতো দাম বিইআরসি বাড়াচ্ছে না বলে জ্বালানিমন্ত্রীর কাছে লোটাব নেতারা অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, ২২ সেপ্টেম্বরের পর বাজারে এলপিজির মহাসংকট চলছে। ১ হাজার ৫৮৫ টাকার এলপিজি বিক্রি হচ্ছে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে এলপিজির আমদানি খরচ কিছুটা বেড়েছে। এ সুযোগে অনেক অপারেটর এলপিজি মজুত করে রেখেছে। সরকারি গোয়েন্দা এজেন্সিগুলোর তথ্য অনুযায়ী-অনেক এলপিজি অপারেটর আগেভাগে তাদের ট্যাংকারে এলপিজি মজুত করেছে অথবা ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে বঙ্গোপসাগরের সীমার কাছে এলপিজির জাহাজ ভাসিয়ে রেখেছে।

এদিকে, এলপিজি মজুতের অভিযোগ অস্বীকার করে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, মেঘনার ফ্রেশ এলপিজি কোনো মজুত করেনি। সেপ্টেম্বরে ফ্রেশ আগের তুলনায় অনেক কম এলপিজি আমদানি করেছে। এটা এনবিআরের রেকর্ডও আছে। এলপিজি সংকট কখন কাটবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এক-দেড় মাসের মধ্যে ফ্রেশ আরও বেশি এলপিজি আমদানির চেষ্টা করছে।

শনিবার রাতে ওমেরা পেট্রোলিয়ামের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, ওমেরাসহ কয়েকটি কোম্পানি এলপিজি মজুত করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করে। কিন্তু এটা সত্য নয়। ওমেরা কোনো এলপিজি মজুত করেনি। তিনি আরও বলেন, বাজারে এলপিজির সংকট কাটাতে সরবরাহ বাড়াতে হবে। আর এলপিজির দাম বাড়লে কোম্পানিগুলোর ক্ষতি। কারণ বেশি দাম বাড়লে গ্রাহকরা কম এলপিজি ব্যবহার করেন।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন : দেশে প্রতি মাসে দেড় লাখ টনের বেশি এলপিজি ব্যবহার হয়। এর ৯৮ শতাংশ এলপিজি আমদানি করে বেসরকারি কোম্পানিগুলো। ১২ থেকে ১৪টি কোম্পানি এলপিজির বাজার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে। দেশে ২৯টির মতো এলপিজি কোম্পানি সক্রিয় থাকলেও সেপ্টেম্বরে এলপিজি আমদানি করেছে ১০টি কোম্পানি। বিইআরসি জানায়, আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে একই পরিমাণে এলপিজি দেশে এসেছে।

এলপিজি আমদানি সম্পর্কিত স্পর্শকাতর গোয়েন্দা প্রতিবেদন যুগান্তরের হাতে এসেছে। এতে দেখা যায় বাজারের ৬৮ শতাংশ এলপিজি সরবরাহ করে মাত্র চারটি কোম্পানি-ওমেরা পেট্রোলিয়াম, পেট্রোমেক্স, মেঘনা ও যমুনা স্পেসটেক। এরপর বিএম এনার্জি ৮ শতাংশ, ইউনাইটেড আয়গ্যাজ ৭ শতাংশ, ডেল্টা ৪ শতাংশ, জেএমআই ও প্রিমিয়াম এলপিজি ৩ শতাংশ এলপিজি সরবরাহ করে। সবচেয়ে বেশি এলপিজি আমদানি করেছে ইউনাইটেড আইগ্যাজ। ২৩ হাজার ৫০০ টনের মতো এলপিজি আমদানি করে কোম্পানিটি। আগস্টে তারা আমদানি করেছিল ১২ হাজার টন। এরপর সবচেয়ে বেশি আমদানি করেছে যমুনা স্পেসটেক। ২১ হাজার টনের মতো। বিএম এনার্জি করেছে ১৮ হাজার ২৫২ টন। ওমেরা ১৪ হাজার ৫০০ টনের মতো। মেঘনা গ্রুপ ১৩ হাজার ৪০০ টনের মতো।

এলপিজির হিসাব চেয়েছে বিইআরসি : একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ১০-১২টি কোম্পানির কাছে এলপিজি বিক্রির হিসাব চেয়েছে বিইআরসি। কমিশনের সচিব নজরুল ইসলাম সরকার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, এলপিজির বাজারের বর্তমান পরিস্থিতির স্বার্থে সেপ্টেম্বরের দৈনিক এলপিজির বিক্রয়ের তথ্য প্রয়োজন। শনিবার এ চিঠি দিয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে আজ রোববারের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।

গ্যাসের দাম কত বাড়বে : এনবিআরের কাছে থেকে এলপিজি আমদানির কাগজপত্র সংগ্রহ করেছে জ্বালানি বিভাগ ও বিইআরসি। সে কাগজে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে এলপিজি আমদানির জন্য প্রিমিয়াম বাবদ খরচ হয়েছে প্রতি টনে ১৮০ থেকে ২০০ ডলার। সৌদি আরামকো সিপি প্রাইসও বাড়িয়েছে। এ সিপি প্রাইস অনুযায়ী বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম নির্ধারণ হয়। বিইআরসি এ নিয়ে কাজ করছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বিএনপি-জামায়াত দ্বন্দ্ব রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ

রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ

বিওবিসির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার

রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে দাপুটে কিশোর গ্যাং

রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে দাপুটে কিশোর গ্যাং

যোগ্যতা-অভিজ্ঞতা ছাড়াই পদায়ন বিমানের বিদেশি স্টেশনেও নৈরাজ্য

বিমানের বিদেশি স্টেশনেও নৈরাজ্য

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম