১২ কেজি এলপিজির সিলিন্ডার এক লাফে ১৮৩৭ টাকা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চলমান সরবরাহ সংকটের মধ্যেই সরকার রান্নার গ্যাস এলপিজির দাম প্রতি কেজি ২১ টাকা করে বাড়িয়েছে। এতে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২৫২ টাকা বেড়ে এক হাজার ৮৩৭ টাকা দাঁড়িয়েছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে। এর আগে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল এক হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে সরবরাহ সংকটের অভিযোগে অনেক বেশি দামে ভোক্তাদের কাছে বিক্রির অভিযোগ ছিল সারা দেশে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি রোববার বিকালে এই দাম ঘোষণা করে বলেছে, এখন প্রতি কেজি এলপিজির দাম দিতে হবে ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা। গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে বাজারে এলপিজির মারাত্মক সংকট চলছিল।
নতুন দর এমন সময়ে ঘোষণা করা হলো, যখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজির সংকট চলছে। বাড়তি দাম দিয়েও কোথাও কোথাও গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল না। আবার পাওয়া গেলেও ১২ কেজির সিলিন্ডার দুই হাজার ২০০ থেকে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।
এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির অভিযোগ, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে আমদানিকারকরা সরবরাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে দেন। ২৫ সেপ্টেম্বরের পর কয়েকটি ডিপো থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তবে আমদানিকারকরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, তারা বিইআরসির নির্ধারিত দামেই ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে এলপিজি সরবরাহ করছেন। তাদের দাবি, আমদানিকারক পর্যায়ে কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়নি। এর আগে গত শনিবার জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও আমদানিকারকরা একই দাবি করেন। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি ও জাহাজভাড়া বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন তারা। বাজারে কারসাজি হয়ে থাকলে তা ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতা পর্যায়ে হতে পারে বলে তাদের দাবি।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২টি কোম্পানিকে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির হিসাব দিতে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে রোববারের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। তবে রোববারের মধ্যে কেবল দুটি কোম্পানি জবাব দিয়েছে। একটি যমুনা স্পেসটেক এবং দ্বিতীয়টি টিএমএসএস। এর মধ্যে টিএমএসএসের কাছে কোনো চিঠি না দিলেও তারা নিজ উদ্যোগে বিইআরসিকে তাদের বিক্রির তথ্য জানিয়েছে। বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ রোববার যুগান্তরকে বলেছেন, ১২টি কোম্পানিকে বিক্রির হিসাব দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু একজন দিয়েছে। ওই কোম্পানি জানিয়েছে, তাদের বিক্রি করা গ্যাসের ২০ শতাংশ গেছে শিল্প খাতে। বাকি কোম্পানিরগুলোর জবাব পেলে জানা যাবে আসলে সেপ্টেম্বরে কেন সংকট হলো। বিইআরসি বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে। আসলে কারো কোনো কারসাজি বা গাফিলতি আছে কিনা।
কোনটি কত বাড়ল : বিইআরসির নতুন দাম অনুযায়ী ১৫ কেজি দুই হাজার ২৯৬, ২৫ কেজি তিন হাজার ৮২৭ টাকা, ৩০ কেজি চার হাজার ৫৯২ টাকা, ৩৫ কেজি পাঁচ হাজার ৩৫৭ এবং ৪৫ কেজি ছয় হাজার ৮৮৮ টাকা। সৌদি সিপির গড় মূল্য ৭১২ দশমিক ৫০ ডলার এবং ফ্রেইড চার্জ প্রতি টনে ২৫০ ডলার ধরে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজি বা অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা করা হয়েছে।
বিইআরসির হিসাবে, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবার এলপিজির মাসভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ৯৭৫ টাকা। এরপর কখনো দাম বেড়েছে, কখনো কমেছে। তবে কমার তুলনায় বাড়ার প্রবণতাই বেশি।
জানা গেছে, ২২ সেপ্টেম্বরের পর বাজারে এলপিজির মহাসংকট চলছে। এক হাজার ৫৮৫ টাকার এলপিজি বিক্রি হচ্ছিল আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির কারণে বিশ্ববাজারে এলপিজির আমদানি খরচ কিছুটা বেড়েছে। এই সুযোগে অনেক অপারেটর এলপিজি মজুত করে রেখেছে। সরকারি গোয়েন্দা এজেন্সিগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অনেক এলপিজি অপারেটর আগেভাগে তাদের ট্যাংকারে এলপিজি মজুত করেছে অথবা ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে বঙ্গোপসাগরের সীমার কাছে এলপিজির জাহাজ ভাসিয়ে রেখেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল এক হাজার ২৫৩ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে হয় এক হাজার ৩৫৬ টাকা। পরে ভ্যাট কমায় ১৫ টাকা কমে দাম দাঁড়ায় এক হাজার ৩৪১ টাকা। মার্চে অপরিবর্তিত থাকার পর এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বেড়ে দাম এক হাজার ৯৪০ টাকায় ওঠে।
