Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডিয়ান কবি অ্যান কার্সন

প্রাচীন ও আধুনিক জগতে অনায়াস বিচরণ

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রাচীন ও আধুনিক জগতে অনায়াস বিচরণ

Advertisement

কানাডিয়ান কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক অ্যান কার্সন এ বছর সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। ৭৬ বছর বয়সি কার্সন এমন সব রচনার জন্য সমাদৃত, যা প্রায়ই কবিতা, কথাসাহিত্য ও পাণ্ডিত্যপূর্ণ গবেষণার সীমানা অতিক্রম করে। নোবেল পুরস্কার কমিটি জানিয়েছে, তাকে নির্বাচিত করা হয়েছে তার ‘সাহসী ও উদ্ভাবনী সৃষ্টিকর্মের জন্য, যা ধ্রুপদি ঐতিহ্যের সঙ্গে এক কৌতুকপূর্ণ ও সৃজনশীল কথোপকথনের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্যের জন্য নতুন সব রূপ সৃষ্টি করেছে।’

সুইডিশ একাডেমির স্থায়ী সচিব ইনগ্রিড কার্লবার্গ বৃহস্পতিবার জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার ঠিক আগেই তিনি কল করে কার্সনকে সুখবরটি জানিয়েছিলেন। কার্লবার্গ বলেন, ‘তিনি (অ্যান কার্সন) আমাকে শুধু এটুকু বলার সুযোগ পেয়েছিলেন যে, এ মুহূর্তে তিনি আইসল্যান্ডে আছেন এবং সেখানে বাতাসের শব্দ শুনছেন। তিনি কিছুটা অবাক হলেও অত্যন্ত আনন্দিত হন। তার কণ্ঠস্বরেই আমি সেই আনন্দ টের পাচ্ছিলাম।’ তিন দশকেরও বেশি ধ্রুপদি সাহিত্য বা ‘ক্লাসিকস’-এর অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করা অ্যান কার্সন প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যেরও অনুবাদ করেছেন। নোবেল পুরস্কার পাওয়া ১২৩ সাহিত্যিকের মধ্যে অ্যান কার্সন ১৯তম নারী।

দ্য কনভারসেশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, কার্সন প্রাচীন ও আধুনিক জগতের মধ্যে অনায়াসে বিচরণ করেন-ঐতিহাসিক পার্থক্যকে মুছে ফেলে নয়, বরং সেই পার্থক্যের মধ্যেই অবস্থান করে। তার কাছে প্রাচীনকাল কখনোই কোনো সাংস্কৃতিক কর্তৃত্বের আধার কিংবা আদর্শ সব রচনার ভান্ডার নয়; বরং এটি হলো নানা কণ্ঠস্বর, খণ্ডাংশ, নীরবতা ও অনুপস্থিতির এক জীবন্ত ও অমীমাংসিত ক্ষেত্র।

প্রাচীন গ্রিক সাহিত্যের ওপর তার কাজ বা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্ভবত সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কার্সনের উপস্থাপনায় স্যাফো, সাইমোনিডিস, সোফোক্লিস কিংবা ইউরিপিডিস-কেউই কেবল পণ্ডিতসুলভ গবেষণায় পুনর্নির্মিত কোনো বস্তু হিসাবে আবির্ভূত হন না, তারা হয়ে ওঠেন আমাদের কথোপকথনের অংশীদার। তাদের কথা শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে এসে এমন সব অভিজ্ঞতার ওপর আলোকপাত করে, যা আজও আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়-যেমন : তীব্র আকাক্সক্ষা, শোক, ব্যাকুলতা, বিচ্ছিন্নতাবোধ ও নশ্বরতা। প্রাচীনকালের সঙ্গে কার্সনের এ কথোপকথন আমাদের বুঝিয়ে দেয় যে, প্রাচীন জগৎ টিকে আছে কেবল সংরক্ষিত থাকার কারণে নয়, বরং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন অর্থ সৃষ্টির ক্ষমতার কারণেই।

১৯৫০ সালে টরন্টোতে জন্মগ্রহণ করেন অ্যান। শৈশবে তিনি পরিবারের সঙ্গে কানাডার বিভিন্ন ছোট শহরে বসবাসের সুযোগ পেয়েছেন। ডয়চে ভেলে জানায়, ভাষা ও ধ্রুপদি সাহিত্যের (ক্লাসিকস) প্রতি তার আগ্রহ জাগিয়ে তোলার কৃতিত্ব তিনি তার এক প্রিয় লাতিন শিক্ষককে দিয়েছেন।

১৯৮৬ সালে প্রকাশিত তার সমালোচনামূলক গ্রন্থ ‘ইরোস দ্য বিটারসুইট’ ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এটি অন্যান্য ধ্রুপদি সাহিত্যিক, কবি-এমনকি চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। ২০০১ সালে প্রকাশিত হয় অ্যান কার্সনের কাব্যগ্রন্থ ‘দ্য বিউটি অব দ্য হাজব্যান্ড’। তিনি স্যাফো ও সোফোক্লিসের মতো প্রাচীন গ্রিক কবিদের অত্যন্ত প্রশংসিত অনুবাদও করেন।

অ্যান কার্সন কিং জেমস বাইবেল, এমিলি ডিকিনসন ও ভার্জিনিয়া উলফের মতো আধুনিক লেখকদের দ্বারাও গভীরভাবে প্রভাবিত। তিনি কবিতা বিভাগে টিএস এলিয়ট পুরস্কার, ম্যাকআর্থার ফেলোশিপ এবং পেন-নাবোকভ পুরস্কারের মতো অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় অত্যন্ত সচেতন কার্সন প্রায়ই সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তবে ২০২৪ সালে জানান, তিনি পারকিনসন রোগে আক্রান্ত।

অ্যান কার্সনকে তার সমসাময়িক অনেকের চেয়ে যা আলাদা করে তোলে, তা হলো তার বুদ্ধিবৃত্তিক দুঃসাহস ও আবেগীয় সংযমের এক অনন্য সমন্বয়। ভাষা, সাহিত্য ও মানবিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি এক অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দেন। অথচ তার রচনায় অনুপস্থিতি, অনিশ্চয়তা এবং যা পুরোপুরি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। তার প্রতি এক গভীর মনোযোগও সর্বদা বিদ্যমান থাকে। রসবোধপূর্ণ, কখনো কখনো মর্মভেদী এবং প্রায়ই অপ্রত্যাশিত-এমন সব বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত তার লেখা পাঠকের কাছ থেকে গভীর মনোযোগ দাবি করে। তবে সেই মনোযোগের বিনিময়ে তিনি উপহার দেন এক বিরল ও তীব্র অভিজ্ঞতা। কার্সনের লেখা পড়ার সময় পাঠকের মনে হয়, তিনি এমন এক লেখকের সংস্পর্শে এসেছেন, যিনি ভাষার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে যেমন পূর্ণ সচেতন, তেমনই ভাষার ভেতরেই নতুন নতুন সম্ভাবনারও সন্ধান পান।

নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয় আজীবন সৃষ্টিকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ। বিশ্বসাহিত্যের ক্ষেত্রে এটিকে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার হিসাবে গণ্য করা হয়। বিজয়ী পুরস্কার হিসাবে কার্সন পাবেন ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা বা ১২ লাখ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ কোটি ৭৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা)।

সোমবার চিকিৎসায় পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে চলতি বছরের নোবেল মৌসুম শুরু হয়। আজ শান্তি এবং ১৩ অক্টোবর অর্থনীতিতে এবারের নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে স্টকহোমে অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন সুইডিশ রাজা কার্ল ষোড়শ গুস্তাফ।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

শান্তিতে নোবেল আজ, পুরস্কারের দৌড়ে এগিয়ে কারা?

শান্তিতে নোবেল আজ, পুরস্কারের দৌড়ে এগিয়ে কারা?

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন

সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন

কেন নোবেলজয়ীদের ছবি এভাবে আঁকা হয়? নেপথ্যে যে কারণ

কেন নোবেলজয়ীদের ছবি এভাবে আঁকা হয়? নেপথ্যে যে কারণ

রসায়নে নোবেল পেলেন হেনরি কাগান ও কেনসো সোয়াই

রসায়নে নোবেল পেলেন হেনরি কাগান ও কেনসো সোয়াই

শান্তিতে নোবেল: শেষ মুহূর্তের আলোচনায় যেসব নাম

শান্তিতে নোবেল: শেষ মুহূর্তের আলোচনায় যেসব নাম

কিভাবে চালু হলো নোবেল প্রাইজ, যেভাবে বাছাই করা হয় বিজয়ীর নাম

কিভাবে চালু হলো নোবেল প্রাইজ, যেভাবে বাছাই করা হয় বিজয়ীর নাম

আরও পড়ুন

বাইরে আন্দোলন, ভেতরে চুক্তি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনসিটি

ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনসিটি

বিশ্ব ডাক দিবস আজ মুমূর্ষু ডাকঘর, নেই সেবা

মুমূর্ষু ডাকঘর, নেই সেবা

বিটিআরসির সিদ্ধান্তে বাড়তি সুবিধা এস আলমের কোম্পানির পোয়াবারো, নতুন বিতর্ক

এস আলমের কোম্পানির পোয়াবারো, নতুন বিতর্ক

শাহজালাল বিমানবন্দর ঘিরে অপরাধ ভাড়ায় খাটে দুর্ধর্ষ ডাকাতরা

ভাড়ায় খাটে দুর্ধর্ষ ডাকাতরা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম