Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

রূপপুরে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু

Advertisement

Icon

পাবনা ও ঈশ্বরদী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট সফলভাবে রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি (নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া) অর্জন করেছে। রোববার বিকাল ৩টা ৩৪ মিনিটে রিঅ্যাক্টরটি ক্রিটিক্যাল অবস্থায় পৌঁছায়। প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন রোববার বিক্রিয়া শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে যাওয়ার বড় ধরনের অগ্রগতি এটি, যাকে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। পরিচালক জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্বে যেতে নিতে হবে আরও দুটি অনুমোদন।

এর মধ্য দিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে স্বনির্ভর ও নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক শৃঙ্খল বিক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান জানান, এনপিসিবিএলের নেতৃত্বে পরিচালিত কমিশনিং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জিত হলো। এটি বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতিতে বড় পদক্ষেপ।

ড. জায়েদুল জানান, ক্রিটিক্যালিটি অর্জনের পর রিঅ্যাক্টরের গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটারগুলো নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, এ অর্জনের ফলে রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে প্রথমবারের মতো সংযুক্ত হওয়ার (গ্রিড সিনক্রোনাইজেশন) পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছে।

পরবর্তী পর্যায়ে অনুমোদিত কমিশনিং কর্মসূচি অনুযায়ী রিঅ্যাক্টর ফিজিক্স পরীক্ষা, বিভিন্ন সিস্টেম ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই, ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গ্রিড সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হবে। এনপিসিবিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রকৌশলী, অপারেশন ও কমিশনিং বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সহযোগিতায় এই পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য, রিঅ্যাক্টর ক্রিটিক্যালিটি অর্জন বাংলাদেশের জন্য কেবল একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়; এটি দেশের বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও পারমাণবিক প্রযুক্তি সক্ষমতার বিকাশে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, নির্মাণ ও কমিশনিং কার্যক্রমের পর বাংলাদেশ এখন প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১ জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জানা গেছে, ক্রিটিক্যালিটি অর্জন থেকে শুরু করে গ্রিড সিনক্রোনাইজেশন এবং পরবর্তী ধাপগুলো সর্বোচ্চ নিরাপত্তামান, অনুমোদিত কারিগরি পদ্ধতি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান অনুসরণ করে সম্পন্ন করা হবে।

নভেম্বরের শেষে বিদ্যুৎ উৎপাদন : আগামী নভেম্বর মাসের শেষের দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম। সংস্থাটির মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ জানান, আগামী ২০ নভেম্বর থেকে মাসের শেষ নাগাদ উৎপাদন শুরু হতে পারে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভালভে জটিলতা দেখা দেওয়ায় এতদিন অনুমোদন আটকে ছিল। স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাপ কমানোর ওই ভালভের সমস্যা সমাধানে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসে। বিভিন্ন কৌশলে এটি মেরামতের পর একাধিক পরীক্ষায় তা সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়। এতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালুর পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বিস্ফোরণে ফের কাঁপল বিমানবন্দর রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

ভারতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি ব্যাপক ধরপাকড়েও বেগবান আন্দোলন

ব্যাপক ধরপাকড়েও বেগবান আন্দোলন

সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী চাঁদাবাজ দখলদারদের জায়গা বিএনপিতে নেই

চাঁদাবাজ দখলদারদের জায়গা বিএনপিতে নেই

রূপপুরে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু

রূপপুরে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম