Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

ভারতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি

ব্যাপক ধরপাকড়েও বেগবান আন্দোলন

ব্যারিকেড সরানো ও ইন্টারনেট স্বাভাবিক করার নির্দেশ সুপ্রিমকোর্টের

Advertisement

Icon

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

দিল্লিকে দুর্গ বানিয়েও শেষ রক্ষা হলো না। যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন ঠেকাতে ৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, হাজার হাজার মানুষকে আটক, মেট্রো পরিষেবায় বিধিনিষেধ-কোনো কিছুই শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের অস্বস্তি আড়াল করতে পারল না। এ অবস্থায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার কঠোর ঘোষণা দিয়েছেন সিজেপি নেতারা। রোববার তারা বলেন, লড়াই থামবে না। এ সরকারের ঘণ্টা বেজে গেছে। পতন আসন্ন।

এ অবস্থায় রোববারও ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। দিল্লিতে পুলিশের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন তরুণ-তরুণীরা। এ সময় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দ্য স্ক্রলের প্রতিবেদনে বলা হয়, সন্ধ্যায় বিক্ষোভ করতে নেমে আবারও গ্রেফতার হন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নেহা বোরা। ক্রমেই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে আন্দোলন। রোববার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে বড় বিক্ষোভ হয় পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। এছাড়া ভারতের আরও কয়েকটি শহরে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

পুলিশের জিম্মি থেকে মুক্তি পেয়ে সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা রোববার দুপুরে প্রেস ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারা বলেন, নিজ দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে সরকার যেভাবে যুদ্ধংদেহী মনোভাব নিয়েছে, তাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের লজ্জিত হওয়া উচিত। দেশকে তারা গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

এর আগে শনিবার সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ভেতর থেকে তিন সিজেপি নেতা-অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে গ্রেফতার করা হয়। রোববার সকালে তাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে হাজির করা হয়। এক বছর তারা কোথাও শান্তিভঙ্গ করতে পারবেন না-এমন শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে বেলা ২টায় সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির পরবর্তী কর্মসূচির কথা জানানো হয়। সেখানে সিজেপি নেতা আশুতোষ ও সৌরভ জানান, তাদের লড়াই থামছে না। বরং দিনদিন তা আরও তীব্র হবে। পুরো ভারতে তা ছড়িয়ে যাবে।

সবাইকে রাস্তায় নেমে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে দেশের যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানান সৌরভ। তিনি বলেন, ‘রাস্তায় নেমে সবাই জানান, মানুষকে বোঝান, গোটা ব্যবস্থা দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। দেশটা চলছে স্রেফ দুজন মানুষকে বাঁচানোর জন্য। একজন নরেন্দ্র মোদি, অন্যজন অমিত শাহ।’ সৌরভ বলেন, ‘সারা দেশে সরকার ভয়ের বাতাবরণ সৃষ্টি করেছে। এটা করা হয়েছে স্রেফ একজনকে বাঁচাতে। এখানেই মোদি-শাহের প্রতি আমাদের প্রশ্ন-জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচানোর এত তাগিদ কেন?’

সৌরভ বলেন, ‘যে রক্ষাকবচ দেশের কারও নেই, প্রধানমন্ত্রীর নেই, প্রধান বিচারপতিরও নেই, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও দুই নির্বাচন কমিশনারকে সেই রক্ষাকবচ কেন দিয়েছে মোদি সরকার? কেন তাদের জন্য অন্যায় অযৌক্তিক আইন করা হয়েছে? কেন বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনাসংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তের জন্য আজীবন তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না? তাদের দিয়ে অন্যায় কাজ করানোর জন্য?’ তার প্রশ্ন-‘জ্ঞানেশ কি এমন কিছু জানেন, যা গোপন? ২০২৪-এর নির্বাচনে বারাণসীতে হারতে থাকা নরেন্দ্র মোদি কী করে জিতে গেলেন, সেই রহস্য গোপন রাখতে কি এ রক্ষাকবচ?’

একদিন আটক থাকার পর রোববার মুক্ত হন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিও। জার্মানি থেকে ভারতে আন্দোলনে সংহতি জানাতে আসা রাঠি পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ তোলেন। সংবাদ সম্মেলনে কোকরোচদের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অভিজিৎ দীপকেকে দেখা যায়নি। দীপকের আটকের খবরে দাদি মারা যান। মুক্ত হয়েই মুম্বাইয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। গাড়িতে তাকে চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।

আশুতোষ রাঙ্কার অভিযোগ, শনিবার তাদের আটকের সময় পুলিশ অমানবিক আচরণ করেছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও সৌরভ দাসকে আটকের সময়ও পুলিশ সংবেদনশীলতার পরিচয় দেয়নি। দীপকের দাদির মৃত্যুসংবাদও তাকে জানানোর ক্ষেত্রে অসংবেদনশীল আচরণ করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগও তুলেছে সংগঠনটি। সৌরভের দাবি, বিক্ষোভকারীদের ধরতে পুলিশ জুতা পরে একটি শিখ গুরুদ্বারে প্রবেশ করেছিল। এতে শিখ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ভাবাবেগ আহত হয়েছে।

শনিবারের ঘটনাকে জরুরি অবস্থার সঙ্গে তুলনা করে আশুতোষ বলেন, স্বাধীন ভারতে এমন পরিস্থিতি আগে দেখা যায়নি। জরুরি অবস্থার সীমাও অতিক্রম করেছে বিজেপি সরকার। জ্ঞানেশ কুমারকে রক্ষা করতে কেন্দ্র কেন এত তৎপর, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এ পরিস্থিতির জন্য লজ্জিত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সৌরভ দাস নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (এনআরসি) প্রসঙ্গে বলেন, এ প্রক্রিয়ায় ভারতের প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার দায় নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্ব এড়াতে পারে না।

ব্যারিকেড সারানো ও ইন্টারনেট চালুর নির্দেশ সুপ্রিমকোর্টের : আন্দোলন দমনের প্রশ্নে সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে সুপ্রিমকোর্টের হস্তক্ষেপে। রোববার শুনানিতে ভারতের শীর্ষ আদালত জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের নামে কাউকে বেআইনিভাবে আটক করা চলবে না। মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা, ইন্টারনেট চালু করা এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের পথে অপ্রয়োজনীয় বাধা সরানোর নির্দেশ দেন আদালত। ৩০৩টি মেট্রো স্টেশনের মধ্যে ৪৫টি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চেয়েছেন আদালত; অর্থাৎ নিরাপত্তার যুক্তিতে দিল্লির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্তব্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগীয় পরীক্ষার মুখে পড়ল।

দ্বিতীয় দিনে বিক্ষোভ, ধরপাকড় : দিল্লিতে ধরপাকড়ের প্রতিবাদ রোববারও অব্যাহত ছিল। কনট প্লেস এলাকায় বিক্ষোভকারীরা জমায়েত হলে পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় আটক হন কয়েকজন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে দিল্লির প্রেস ক্লাবের সামনেও কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। পুলিশ তাদের বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়; আটক করা হয় কয়েকজনকে।

এছাড়া বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর কর্মসূচি ঘিরেও উত্তেজনা ছড়ায়। কলকাতায় রোববার শিয়ালদহ থেকে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো মিছিল বের করে। তারাও জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও এনআরসি বাতিলের দাবি জানান। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে বিছিন্নভাবে বিক্ষোভ মিছিলের খবর পাওয়া গেছে।

অভিজিৎ দীপকে

মোদি সবচেয়ে বড় কাপুরুষ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘দেশের সবচেয়ে বড় কাপুরুষ’ বলে মন্তব্য করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। মুক্ত হওয়ার পর রোববার তিনি বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কাপুরুষ নরেন্দ্র মোদি।’

রোববার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীনভাবে এয়ার ইন্ডিয়ার উড়োজাহাজের ভেতরে প্রবেশ করে দীপকেকে আটক করে পুলিশ। তার আটকের খবরে মারা যান মুম্বাইয়ে থাকা তার দাদি। মুক্ত হওয়ার পর গাড়ি থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন দীপকে। পরে কোকরোচরা দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করে। দাদির মৃত্যুতে শোকাহত দীপকেকে গাড়িতে বারবার চোখের পানি মুছতে দেখা গেছে।

মোদির সমালোচনা করে রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ককরোচ নেতা দীপকে লিখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মোদি ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ। এত বড় কাপুরুষ ও জুলুমবাজ এ দেশ আগে কখনো দেখেনি।’

দীপকের সঙ্গে মুক্তি পেয়েছেন সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাও। দীপকেদের মুক্তির পর সিজেপি এক বিবৃতি বলেছে, ‘আরশোলারা কখনো মরে না। অবশেষে দীপকে, সৌরভ এবং রাঙ্কাকে ছাড়তে বাধ্য হলো দিল্লি পুলিশ।’ আর দিল্লি পুলিশ পৃথক বিবৃতি জারি করে বলেছে, ৫০ হাজার টাকার বন্ডে তিনজনকে ছাড়া হয়েছে। আগামী এক বছর তাদের ভালো আচরণ করতে হবে এবং শান্তি ভঙ্গ হয়-এমন কিছু তারা করতে পারবেন না।

নেহা বোরা

গণতন্ত্রের জন্য লড়াই চলবে

ভারতে জেন-জি আন্দোলনের উজ্জ্বল মুখ নেহা বোরা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দেশটির কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন। রোববার তিনি বলেন, ভারতের গণতন্ত্রের জন্য তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক হন নেহা। তিনি বারবার তার বিরুদ্ধে পুলিশি হেনস্তার অভিযোগ করে আসছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে নেহা বলেন, ‘যারা সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে ভিন্ন কাজ করতে থাকেন, তখন জনগণের উচিত তাদের চোখ খুলে দেওয়া, দাবির কথা জানানো। আমরা এ অবজ্ঞাকে স্বাভাবিক হতে দিতে পারি না। গণতন্ত্রের লড়াই চলবে; আমরা ছেড়ে দেব না।’

বিক্ষোভ চলাকালে আটক হওয়া অন্তত সাত হাজার জনের মধ্যে নেহাও ছিলেন। দিল্লির যন্ত্ররমন্তরে যাওয়ার পথে ১২ কিলোমিটার দূরেই তাকে পুলিশ আটক করে। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী পুলিশ তার গলায় পেছন ধরে জোর করে ধরে আছেন। এর আগে নেহা বারবার পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ করেন।

ধ্রুব রাঠি

আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল

জনপ্রিয় ভারতীয় ইউটিউবার ও অধিকার কর্মী ধ্রুব রাঠি বলেছেন, তাকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি, বরং বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। তার দাবি, শনিবার সকালে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার পর টানা ২২ থেকে ২৩ ঘণ্টা তাকে আটকে রাখা হয়। পরে গভীররাতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

রোববার সকালে উত্তর ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামে নিজ বাড়ি থেকে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন ধ্রুব রাঠি। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের অভিযোগও তোলেন তিনি। ভিডিওবার্তায় ধ্রুব রাঠি বলেন, শনিবার সকাল ৭টার দিকে তার বাড়ির বাইরে ৫০ জনের বেশি লোক জড়ো হন। তার মা দরজা খুললে সাধারণ পোশাকে থাকা কয়েকজন তাকে ধাক্কা দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন। এরপর তারা সরাসরি তার শোয়ার ঘরে চলে যান। তিনি বলেন, তখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুম থেকে ওঠার পর তাকে কথা বলা বা কিছু করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি জুতা পরার সময়টুকুও দেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় তার মা চিৎকার করছিলেন।

ধ্রুব রাঠির অভিযোগ, তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার নিজের ও তার বাবা-মায়ের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে এক থানা থেকে অন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানায় আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তাকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি ফোন ব্যবহার করতেও দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, তাকে বারবার বলা হচ্ছিল, এটি গ্রেফতার বা আটক নয়; তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু দীর্ঘ ২২ থেকে ২৩ ঘণ্টা আটকে রাখার পর তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ ঘটনাকে অপহরণ ছাড়া আর কী বলা যায়। ধ্রুব রাঠি জানান, তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় তার বাবা-মায়ের সঙ্গে সাধারণ পোশাকে থাকা ব্যক্তিদের ধস্তাধস্তি হয়। ওই সময় বাড়িতে তিনি ও তার বাবা-মা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। হাতে জখমের দাগও দেখান ধ্রুব।

ভারতের পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এভাবে একজন নাগরিককে বাড়িতে ঢুকে শোয়ার ঘর থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং আমার পরিবারের সঙ্গে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। আমি কোনো আইন ভাঙিনি; বরং সত্যের পক্ষে কথা বলেছি। নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনা করে তিনি দেশে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ চলছে। তার ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা জরুরি অবস্থার সময় দেখা যেত; উত্তর কোরিয়ার মতো দেশে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বিস্ফোরণে ফের কাঁপল বিমানবন্দর রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বাংলাদেশিসহ নিহত ১২

ভারতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি ব্যাপক ধরপাকড়েও বেগবান আন্দোলন

ব্যাপক ধরপাকড়েও বেগবান আন্দোলন

সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী চাঁদাবাজ দখলদারদের জায়গা বিএনপিতে নেই

চাঁদাবাজ দখলদারদের জায়গা বিএনপিতে নেই

রূপপুরে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু

রূপপুরে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম