মুখ্যমন্ত্রীসহ পিটিআই সমর্থক আটক
ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তা করাচিতে ১৪৪ ধারা জারি
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিসহ কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) শত শত নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। আফগানিস্তান সীমান্ত লাগোয়া প্রদেশটিতে জরুরি শাসন জারির পর এ ধরপাকড় শুরু হয়।
রোববার প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করেন। একই সঙ্গে প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করা হয়। ওই সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ ও পিটিআই নেতা সোহেল আফ্রিদি। কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা প্রদেশটি ইসলামপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা দমনে প্রাদেশিক সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে জরুরি শাসন জারি করা হয়। পিটিআই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলটির অভিযোগ, ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে সমর্থকরা যেন ইসলামাবাদ অভিমুখে পদযাত্রা করতে না পারেন, সেজন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পিটিআই এ পদক্ষেপকে ‘জরুরি অবস্থার আড়ালে অভ্যুত্থান’ বলে আখ্যা দিয়েছে। পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, জরুরি অবস্থা জারির পর আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের প্রদেশ পাখতুনখোয়ায় ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের কয়েকশ’ কর্মীকে আটক করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, রোববার থেকে অন্তত ২৭৮ জন পিটিআই সমর্থক আটক হয়েছেন। প্রদেশটির বিভিন্ন স্থানে ইন্টারনেট সীমিত করারও খবর আসছে। পিটিআইয়ের মুখপাত্র ও ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুলফিকার বুখারি সরকারের এ সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এটি জরুরি অবস্থার ছদ্মবেশে অভ্যুত্থানেরই নামান্তর।’ তার অভিযোগ, বিক্ষোভ ঠেকাতেই সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এতে দেশে আরও রক্তপাত ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অভিযোগ, জঙ্গিদের তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে পিটিআই সরকার। তাই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে পিটিআই। দলটির দাবি, জঙ্গিবাদ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও সরঞ্জাম ইসলামাবাদ তাদের সরবরাহ করেনি। এর আগে ইমরান খান যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন তিনি পাকিস্তান তালেবানের সঙ্গে সমঝোতা করেন। বর্তমানে ক্ষমতাসীন পিএলএম-এনসহ বিভিন্ন দলের অভিযোগ, ইমরানের দলের সঙ্গে তালেবানদের আঁতাত রয়েছে।
এদিকে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে সম্ভাব্য বিক্ষোভ ঠেকাতে রাজধানী ইসলামাবাদে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। বিক্ষোভকারীদের পার্লামেন্টে পৌঁছানো ঠেকাতে নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্যের পরিবর্তে ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সড়ক অবরোধের প্রস্তুতি হিসাবে বিভিন্ন রাস্তায় কনটেইনারও রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে খাইবার পাখতুনখোয়ার তথ্যমন্ত্রী শফি জান দাবি করেন, পিটিআইয়ের পদযাত্রায় থাকা মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকে আটক করা হয়েছে। বন্দর নগরী করাচিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। ১১ অক্টোবর থেকে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এ সময় পাঁচজনের বেশি মানুষের যে কোনো ধরনের জনসমাবেশ, বিক্ষোভ, মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জনদুর্ভোগ কমানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উন্নয়ন বিসর্জন দেওয়া সম্ভব, নিরাপত্তা নয়, বললেন গভর্নর : খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি সোমবার প্রদেশটির শীর্ষ কমিটির বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন। দ্য ডন জানিয়েছে, প্রদেশটিতে গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারির ঠিক পরদিনই এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। বৈঠকে ভাষণদানকালে কুন্ডি-যিনি বর্তমানে প্রদেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন-দৃঢ়ভাবে বলেন, নতুন এই ব্যবস্থায় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলাই হবে প্রধান অগ্রাধিকার। প্রদেশে সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচেষ্টায় ‘সমন্বয়ের অভাব’-এর কথা উল্লেখ করে কুন্ডি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের উন্নয়ন বিসর্জন দিতে পারি, কিন্তু নিরাপত্তাকে কখনোই নয়।’
