বিক্রিতে ধর্মঘট প্রত্যাহার
এলপিজির দাম বাড়ছে কেন জবাব নেই
Advertisement
বিশেষ প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এক মাসে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে তিনটি বৈঠক করেছে জ্বালানি বিভাগ, দুটিতে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। কিন্তু বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে কোথাও মিলছে না এলপিজি। ১২ কেজির সিলিন্ডার সরকারি দামের চেয়ে ৪০০-৫০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। বুধবারও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক হয়। সেখানে এলপিজির দাম কামানো নিয়ে আলাপ হয়েছে। বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম সহনীয় রাখতে সরকার কাজ করছে।
এদিকে, কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে এলপিজি সমবায় ব্যবসায়ী সমিতি। বুধবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে বৈঠকের পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। বিইআরসি এলপিজি বিক্রির কমিশন বাড়ানোর ব্যাপারে আগামী ২৯ অক্টোবর গণশুনানির আয়োজন করেছে। বুধবার বিকালে ওই সমিতির কোষাধ্যক্ষ আবু তাহের কোরাইশী যুগান্তরকে বলেছেন, অপারেটররা চাহিদামতো এলপিজি দিচ্ছে না। অনেকে আবার সরকার বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে বেশি দাম নিচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের অন্যতম অপারেটর ওমেরা এলপিজি। তারা মিলগেটে নিচ্ছে এক হাজার ৭৪২ টাকা। এরপর প্রতি সিলিন্ডারে ৫০ টাকার বেশি পরিবহণ খরচ হয়। এর বাইরে দোকান স্টাফ এবং গ্রাহক পর্যায়ে নিয়ে যেতে খরচ আছে। এতে করে প্রতি সিলিন্ডার দুই হাজারের কাছাকাছি পড়ে যাচ্ছে। বাজারে তো দুই হাজার টাকায়ও এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না, কেন-এর জবাবে আবু তাহের বলেন, অনেকে চাহিদামতো সিলিন্ডার পাচ্ছে না।
জেএমআই এলপিজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক যুগান্তরকে বলেছেন, এলপিজির সংকট আছে। তাই এই সংকটে হাতবদলের পর্যায়ে অনেকে সুবিধা নিচ্ছে। এই কারণে দাম বাড়ছে।
বৈঠকে বলা হয়-বিশ্ববাজার অস্থির। এরপরও গত মাসে চাহিদা পূরণের মতো প্রায় এক লাখ ৫৭ হাজার টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। এরপরও সংকট কেন। কেন বেশি দামে কিনতে হচ্ছে জনগণকে। জবাবে এলপিজির অপারেটররা জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে বিশেষ করে সৌদি আরব ও হুথির মধ্যে সংঘর্ষের কারণে বিশ্ববাজার নতুন করে অস্থির হয়েছে। এতে করে জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ বাড়ছে।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সাথে বৈঠকে বলা হয়, সরকার প্রথমবারের মতো এলপিজি আমদানির ওপর সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। এখন যে কেউ চাইলে ইচ্ছামতো এলপিজি আমদানি করে সরবরাহ করতে পারবে। কিন্তু এরপরও অনেকে ঠিকমতো এলপিজি আমদানি করছে না। বৈঠকে এলপিজির অপারেটররা জানিয়েছেন, আগামী মাসে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচন কেন্দ্র করে বিশ্বে অনেক কিছু ঘটছে। তাই নির্বাচনের ফলাফল না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববাজারে জ্বালানির বাজার কোন দিকে যাবে তা বলা কঠিন। লোয়াবের সভাপতি আমিরুল হক যুগান্তরকে বলেছেন, এলপিজির বাজারে স্বস্তি দিতে অপারেটররা সব চেষ্টা করছে।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এই মাসে চাহিদা মেটানোর মতো এলপিজির এলসি করা হয়েছে। আগামী নভেম্বর এবং ডিসেম্বরে এলপিজি আমদানি যাতে ঠিকমতো হয়, সেদিকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এর মধ্যে আইগ্যাস, মেঘনা (ফ্রেশ), যমুনা স্পেসটেক, পেট্রোমেক্স, বিএম এনার্জি এবং ওমেরাসহ অন্য সব কোম্পানিকে আরও বেশি করে এলপিজি আমদানির অনুরোধ করেছেন সরকারের দুই মন্ত্রী। একজন অপারেটর নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলছেন, দেশে প্রতি মাসে দেড় লাখ টনের বেশি চাহিদা আছে। এখন নতুন চাহিদা তৈরি হয়েছে শিল্প খাতে। এটা প্রায় ২০ শতাংশ। অথচ দেশে এলপিজি মজুত রাখার ক্ষমতা মাত্র ৬০ হাজার টন (সব কোম্পানি মিলে)। তাই বিশ্বে কোনো বড় সমস্যা হলে অস্থির হয়ে ওঠে জ্বালানির বাজার। জ্বালানি এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে লোয়াব নেতাদের প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক হয়েছে। সেখানে এলপিজি নিয়ে অনেক আলাপ হয়েছে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর তাগাদার কারণে বুধবারের এই বৈঠক ডাকা হয়েছে এবং জ্বালানিমন্ত্রী বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীকে এলপিজির পরিস্থিতি জানিয়ে এসেছেন। প্রসঙ্গত, এলপিজির সংকট নিয়ে লোয়াব নেতাদের সঙ্গে ২৮ সেপ্টেম্বর, ৩ অক্টোবর এবং বুধবার ১৪ অক্টোবর বৈঠক হয়েছে জ্বালানিমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে।
জ্বালানি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী এখন দেশে প্রতি বছর এলপিজির চাহিদা ১৭ থেকে ১৮ লাখ টন। ২০৩৫ সালে এই চাহিদা ৪০ লাখ টনে গিয়ে ঠেকতে পারে।
