Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

শাহজালালে যাত্রীসেবা তলানিতে

বিপর্যস্ত ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা

লাগেজ চুরি ও টার্মিনালে উপচে পড়া ভিড়

Advertisement

সাইফ আহমাদ

সাইফ আহমাদ

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বিপর্যস্ত ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা

Advertisement

ঘণ্টার পর ঘণ্টা আকাশপথ পাড়ি দিয়ে ক্লান্ত-শ্রান্ত যাত্রীরা নামেন বিমানবন্দরে। ফ্লাইট থেকে নেমে ইমিগ্রেশন শেষে শুরু হয় অনিশ্চিত অপেক্ষা। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তি নিয়ে লাগেজের অপেক্ষায় প্রায়ই কেটে যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আসে না লাগেজ, মেলে না ট্রলি-মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমন অস্বস্তিতে পড়তে হয় প্রবাসীদের। ব্যাগেজ পেতে দীর্ঘ বিলম্ব, ট্রলির সংকট, লাগেজ চুরি এবং টার্মিনালে উপচে পড়া ভিড় যেন নিত্যদিনের চিত্র। প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে কর্মীদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দায় চাপানোর ঠেলাঠেলিতে প্রশ্নের মুখে পড়েছে বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা। ক্রমবর্ধমান যাত্রীসংখ্যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের প্রধান প্রবেশদ্বার কতটা যাত্রীবান্ধব হয়ে উঠতে পেরেছে, সেই প্রশ্নও উঠছে। অথচ আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়াতে দেশের বিমান চলাচল অবকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগ করছে সরকার। কিন্তু বিমানবন্দর সেবার ধারাবাহিক ব্যর্থতায় সবকিছু নস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সমস্যা শুধু যাত্রীদের ভোগান্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিদেশি পর্যটক, বিনিয়োগকারী ও অন্যান্য দর্শনার্থীর কাছে বিমানবন্দরই বাংলাদেশের প্রথম পরিচয়। ফলে এখানে নিুমানের সেবা দেশের অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সক্ষমতা সম্পর্কে তাদের মনে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক ধারণা তৈরি করবে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, একটি দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা অনেক ক্ষেত্রেই তৈরি হয় বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর। তাই আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে না পারলে বিদেশিদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। তিনি বলেন, একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা, পর্যাপ্ত ট্রলির অভাব এবং দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। বিশ্বের কোনো দেশে আমাদের মতো লাগেজ পেতে এত সময় অপেক্ষা করতে হয় না। লাগেজ হস্তান্তরে আইকাও-এর সময়ের নির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে, যা পরিপালন করতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বাধ্য।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত যুগান্তরকে বলেন, বিমানবন্দর পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। যে কোনো মূল্যে এ সমস্যা নিরসনে সরকার বদ্ধপরিকর। তবে পরিস্থিতির উন্নয়নে কিছুটা সময় প্রয়োজন। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে দেশের প্রধান বিমানবন্দরে লাগেজ পাওয়া নিয়ে চরম বিড়ম্বনার চিত্র। ৪ অক্টোবর দুপুর পৌনে ২টায় টার্মিনাল ২-এর সামনে অপেক্ষা করা প্রবাসী ইউসুফ আহমেদ জানান, সৌদি আরব থেকে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে তার ছোট ভাইয়ের ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করেছে। তবে পৌনে চার ঘণ্টা পার হলেও তার ভাই লাগেজ বুঝে পাননি। ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লাগেজ বেল্টের সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন সৌদিফেরত একাধিক প্রবাসী কর্মী। সরকারের পক্ষ থেকে বিমানবন্দর সেবা উন্নত করার নানা আশ্বাসের কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্র পুরোপুরি বিপরীত।

অথচ আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) মানদণ্ড অনুযায়ী ১৫ থেকে ২০ মিনিটে ব্যাগেজ বেল্টে প্রথম লাগেজ পৌঁছানোর কথা এবং সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিটের মধ্যে শেষ ব্যাগেজ ডেলিভারি নিশ্চিত করতে হয়।

পার্শ্ববর্তী দেশে লাগেজ ডেলিভারির সময় : প্রতিবেশী ও এশিয়ার প্রধান বিমানবন্দরগুলোয় যাত্রীসেবা ও লাগেজপ্রাপ্তির সময় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দরে রানওয়েতে ল্যান্ডিংয়ের ১২ থেকে ১৫ মিনিটে ১ম লাগেজ বেল্টে আসে। আর পুরো প্রক্রিয়া ৩০ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে ১৫ থেকে ২০ মিনিটে আসে প্রথম লাগেজ। সর্বোচ্চ ৪০ মিনিটের মধ্যে সব ব্যাগেজ হস্তান্তরিত হয়। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৫ থেকে ২০ মিনিটে প্রথম লাগেজ এবং ৪০ মিনিটের মধ্যে সম্পূর্ণ ডেলিভারি দেওয়া হয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিল্লি ও মুম্বাই বিমানবন্দরে ২০ থেকে ২৫ মিনিটে প্রথম লাগেজ এবং ৪৫ থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

অথচ বাংলাদেশ তথা দেশের শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম লাগেজ পেতে সময় লাগে বিমান অবতরণের পর অন্তত ১ থেকে দেড় ঘণ্টা। আর শেষ লাগেজ পৌঁছাতে কখনো কখনো আড়াই থেকে ৪ ঘণ্টা লেগে যায়। এশিয়ার প্রায় প্রতিটি দেশে যেখানে সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিটে লাগেজ খালাস সম্পন্ন হয়, সেখানে ঢাকার শাহজালালে লাগেজ বেল্টের সামনে দেড় থেকে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় বিদেশ থেকে আসা হাজারো যাত্রীকে।

স্কাইট্র্যাক্সের রেটিং : যাত্রী ভোগান্তি ও অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক এভিয়েশন রিভিউ ও রেটিং সংস্থা স্কাইট্র্যাক্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও। এতে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সুযোগ-সুবিধার দুর্বলতার পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বসার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় ধীরগতির বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

বিমানবন্দরের সেবা ও সুযোগ-সুবিধার মূল্যায়নে এশিয়ার কয়েকটি প্রধান বিমানবন্দরের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। স্কাইট্র্যাক্সের মূল্যায়নে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর পেয়েছে ফাইভ-স্টার রেটিং। থাইল্যান্ডের ব্যাংকক সুবর্ণভূমি ৪ স্টার। ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ও মুম্বাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পেয়েছে ফোর-স্টার রেটিং। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পেয়েছে থ্রি-স্টার। অন্যদিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পেয়েছে মাত্র টু-স্টার রেটিং।

এছাড়াও ১ অক্টোবর বিমানবন্দরে যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সেদিন ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরে ট্রাভেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ডেন্টিস্ট ডা. ওরাকাতুল জান্নাত নিজের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন। সকাল ৯টার কিছুক্ষণ আগে তার ফ্লাইট অবতরণ করলেও একটি ট্রলির জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হয় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে লাগেজ হাতে পান তিনি। অর্থাৎ উড়োজাহাজ অবতরণের প্রায় তিন ঘণ্টা পর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি দীর্ঘ লাইন, পর্যাপ্ত বসার জায়গার অভাব এবং বয়স্ক যাত্রী ও শিশুদের দুর্ভোগের চিত্রও তুলে ধরেন।

তবে এ ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, মদিনা থেকে আসা বিজি৩৩৮ ফ্লাইটের ওমরাহযাত্রীদের লাগেজ ও জমজমের পানি পেতে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়। পরে লাগেজ সরবরাহে বিলম্বের বিষয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন বিরোধী দলের চারজন সংসদ-সদস্য। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাবেক সংসদ-সদস্য ও জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান এবং বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ ঘটনার জেরে শেষ পর্যন্ত আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা এবং গ্রেফতার করা হয়। ১ দিনের রিমান্ড শেষে বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুর্বল যাত্রীসেবা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ব্যবস্থাপনাগত সংকটের প্রতিফলন। উইং কমান্ডার (অব.) এটিএম নজরুল ইসলাম বলেন, লাগেজ পেতে বা একটি ট্রলি খুঁজতে দীর্ঘসময় অপেক্ষার ভোগান্তি বিদেশফেরত যাত্রীদের মনে বাংলাদেশে আসার নেতিবাচক স্মৃতি তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণে বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান ও অভিজ্ঞতা উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

এদিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৬টি এয়ারলাইন্সের প্রায় ১৪০ থেকে ১৬০টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। এসব ফ্লাইটে দৈনিক যাতায়াত করেন ৩০ থেকে ৩৬ হাজার যাত্রী। তবে যাত্রী ও ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়লেও ব্যস্ত সময়ে সেবা নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত জনবল ও সরঞ্জাম নেই বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। সকাল ৮টা থেকে দুপুর পর্যন্ত দেশে আসা যাত্রীদের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। অন্যদিকে সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত দেশ ছাড়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ভিড় বাড়ে। ব্যস্ত সময়ে একসঙ্গে ১০ থেকে ১২টি ফ্লাইট অবতরণ করতে পারে। এতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ যাত্রী টার্মিনালে প্রবেশ করেন। বিপুলসংখ্যক যাত্রীর ব্যাগেজ খালাস ও হস্তান্তরের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্মীদের। ফলে উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামিয়ে যাত্রীদের হাতে পৌঁছে দিতে দুই ঘণ্টারও বেশি লেগে যায়।

বেবিচকের একজন সাবেক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, শুধু রানওয়ে, উড়োজাহাজের বহর, পার্কিং স্ট্যান্ড ও ফ্লাইট ওঠানামার সক্ষমতা দিয়ে কোনো বিমানবন্দরের সামগ্রিক সক্ষমতা নির্ধারণ করা যায় না। কারণ, একই সময়ে একদিকে আগত যাত্রীর ইমিগ্রেশন, ব্যাগেজ সংগ্রহ ও টার্মিনাল ত্যাগের প্রক্রিয়া চলে; অন্যদিকে বহির্গমন যাত্রীদের চাপও বাড়ে। রানওয়েতে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও ইমিগ্রেশন, নিরাপত্তা তল্লাশি, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা ও টার্মিনালের অন্যান্য সুবিধা অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত ফ্লাইটের চাপ সামলাতে বিদ্যমান অবকাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জনবল কতটা সক্ষম, তা মূল্যায়ন করা জরুরি। তা না হলে ফ্লাইট পরিচালনায় ধারাবাহিক বিলম্ব, উড়োজাহাজের ফিরতি যাত্রায় (টার্নঅ্যারাউন্ড) বিঘ্ন এবং কর্মীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। এর চূড়ান্ত ভোগান্তি পোহাতে হবে যাত্রীদের।

ট্রলি সংকট : শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট দীর্ঘদিনের। ইমিগ্রেশন শেষ করে ট্রলি পেতে অনেক সময় যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়। একসঙ্গে দুই-তিনটি ফ্লাইট অবতরণ করলেই দেখা দেয় ট্রলির সংকট। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিমানবন্দরে ট্রলি সংকট চলছে এক বছরের বেশি। বিগত হজ মৌসুমের আগেই বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা বিমানবন্দরে পর্যাপ্ত ট্রলি রাখার বিষয়ে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) লিখিতভাবে জানিয়েছিল। হজ শেষে হাজিরা ফিরলে ট্রলির তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে এবং বিমানবন্দরের ভেতরে ট্রলি নিয়ে নানা ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু এ সংকট সমাধানে নেওয়া হয় ‘জোড়াতালি’র পদক্ষেপ। সংকট সামাল দিতে সম্প্রতি কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে পুরোনো ২০০ ট্রলি শাহজালালে যুক্ত করা হয়েছে। শিগ্গিরই আরও ১৫০টি ট্রলি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানায় বেবিচক। শুধু শাহজালালই নয়-চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজারসহ দেশের প্রায় সব বিমানবন্দরেই এখন কমবেশি ট্রলি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

জানা যায়, বিমানবন্দরে বর্তমানে যাত্রীদের জন্য ৪ হাজার ৫০০টি ট্রলি রয়েছে। এর মধ্যে ব্যবহারযোগ্য ৩ হাজার ৫২৭টি। বাংলাদেশ মেশিন ট্যুলস ফ্যাক্টরিতে আরও ৫০০টি ট্রলির অর্ডার দেওয়া হয়েছে, যা ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পাওয়ার কথা।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক রাগীব সামাদ যুগান্তরকে বলেন, ব্যাগেজ সরবরাহে গতি আনতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আরও হেল্পার মোতায়েনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাগেজ সরবরাহে বিলম্ব হলে ট্রলিও দীর্ঘসময় যাত্রীদের কাছে আটকে থাকে। ফলে সেগুলো পুনরায় ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত স্থানে ফিরতে দেরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকালের শিফটে ট্রলি ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং ট্রলির অপব্যবহার রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

মিলছে না মানসম্মত গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং : এয়ারলাইন্স অপারেটরসের তথ্য অনুযায়ী, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার জন্য প্রতিটি ফ্লাইটের বিপরীতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ২ হাজার ২০০ থেকে ৬ হাজার ডলার পরিশোধ করে এয়ারলাইন্সগুলো। এছাড়া কার্গো পরিবহণে প্রতি কেজির জন্য দিতে হয় ০.০৭ ডলার। তবে এ ব্যয় সত্ত্বেও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার মান ও কার্যকারিতা নিয়ে দীর্ঘদিন অভিযোগ করে আসছে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো।

এয়ারপোর্ট সার্ভিস বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়লেও সে অনুযায়ী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে জনবল বাড়েনি। আগে দিনে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করা এয়ারলাইন্সগুলোর কোনো কোনোটি এখন চার থেকে ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এতে কর্মীদের ওপর চাপ বেড়েছে। তিনি বলেন, প্রায়ই একটি কথা বলা হয়, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে ১২শ কর্মী কাজ করে। কিন্তু এটা পুরো জনবলকে নির্দেশ করে না। এ কার্যক্রমে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। ঘাটতি পূরণে ১৬৭ জন নতুন হেল্পার নিয়োগের পাশাপাশি আরও ৮০ জন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। অতিরিক্ত জনবল ব্যাগেজ সরবরাহের মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন তিনি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বিনিয়োগ ও নতুন কর্মসংস্থান স্থবির অর্থনীতিতে শুধুই দুঃসংবাদ

অর্থনীতিতে শুধুই দুঃসংবাদ

শাহজালালে যাত্রীসেবা তলানিতে বিপর্যস্ত ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা

বিপর্যস্ত ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা

বিক্রিতে ধর্মঘট প্রত্যাহার এলপিজির দাম বাড়ছে কেন জবাব নেই

এলপিজির দাম বাড়ছে কেন জবাব নেই

দুই মহানগরে বিএনপির কমিটি নিয়ে আলোচনা প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে ত্যাগ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি

প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে ত্যাগ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম