Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

মহাসড়কে বাঁকে বাঁকে মৃত্যুকূপ: রাজশাহী

শত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক বছরে ১৯০ প্রাণহানি

Advertisement

তানজিমুল হক

তানজিমুল হক

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক বছরে ১৯০ প্রাণহানি

Advertisement

রাজশাহী অঞ্চলের মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক যেন একেকটি মৃত্যুফাঁদ। অপরিকল্পিত সড়ক নির্মাণ, অবকাঠামোগত ত্রুটি ও ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় এসব বাঁকের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রায়ই ঘটছে মুখোমুখি সংঘর্ষসহ প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। ঝরছে প্রাণ, পঙ্গুত্ব বরণ করে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন অনেকে। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো ঠিক করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। রাজশাহী অঞ্চলের ছয়টি সড়ককে ঝুঁকিপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক। চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরিপুর থেকে গোদাগাড়ী ও পবা হয়ে রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ আমচত্বর পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার সড়কে রয়েছে ৩৩টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। এর মধ্যে রাজশাহী-গোদাগাড়ী অংশের মাত্র ছয় কিলোমিটারে রয়েছে ১৬টি তীব্র বাঁক। কামারপাড়া ও অভয়া এলাকায় দ্রুতগতির বাস ও বালুবাহী ডাম্প ট্রাকের সংঘর্ষে গত এক বছরে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন।

পুঠিয়া-বাঘা আঞ্চলিক সড়কেও রয়েছে ১৬টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জমি অধিগ্রহণের জটিলতা ও প্রভাবশালীদের বাধার কারণে বাঁকগুলো সোজা না করেই সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। বিশেষ করে চারঘাট অংশে রয়েছে অন্তত ১০টি বিপজ্জনক বাঁক।

রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের বনপাড়া থেকে পুঠিয়ার ঝলমলিয়া ও বেলপুকুর পর্যন্ত অংশও দুর্ঘটনাপ্রবণ। সড়কের বাঁকের ত্রুটি এবং মহাসড়কের ওপর পশুর হাট ও স্থানীয় বাজার থাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দূর থেকে দেখতে পান না চালকরা। এছাড়া রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক, খড়খড়ি থেকে বাগমারার তাহেরপুর সড়ক এবং কাশিয়াডাঙ্গা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমনুরা সড়কেও রয়েছে বিপজ্জনক বাঁক। তাহেরপুর সড়কের চাঁনপাড়া এলাকায় মাত্র ৪০০ ফুটের মধ্যে চারটি বাঁক থাকলেও নেই সতর্কতামূলক সাইন। কাশিয়াডাঙ্গা-আমনুরা সড়কে রয়েছে ৩৫টি ভয়াবহ বাঁক।

নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় মঙ্গলবার বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১২ জন নিহত এবং অন্তত ৩২ জন আহত হন। ২০১৪ সালেও বড়াইগ্রামে এক দুর্ঘটনায় ৩৮ জন প্রাণ হারান।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের মোট সড়ক দুর্ঘটনার ১২ দশমিক ২১ শতাংশ ঘটেছে রাজশাহী বিভাগে। প্রাণহানির হার ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ। জেলা ও মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে রাজশাহী জেলায় ১৫০টি এবং মহানগরে ৫০টি দুর্ঘটনায় অন্তত ১৯০ জন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ১৭৫টি মামলা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রায় অর্ধেক মোটরসাইকেল-সংশ্লিষ্ট; ট্রাক ও ডাম্প ট্রাকের কারণে ঘটেছে প্রায় ৪০টি দুর্ঘটনা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আলামিন সরকার টিটু বলেন, সড়কের অসংখ্য বাঁক, যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার অভাবে দুর্ঘটনা ঘটছে।

‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর রাজশাহী জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আমানুল্লাহ বিন আখতার আবিদ বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশস্ত সড়ক ও অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। দুর্ঘটনাপ্রবণ অনেক সড়ক এক লেনের, যেখানে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। সওজের রাজশাহী বিভাগের দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, দুর্ঘটনা রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, যানবাহন ও চালকের কাগজপত্র যাচাই এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। অপরিচিত সড়কের বাঁক সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনভিজ্ঞ চালকরাও দুর্ঘটনায় পড়ছেন।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

টার্গেট ডিসেম্বর রাজনীতি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কারা

আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কারা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন রূপরেখা প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব উচ্চকক্ষ থেকে

প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব উচ্চকক্ষ থেকে

থাইল্যান্ডে বসে চালাচ্ছেন দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র শেখ পরিবারের ‘ঘনিষ্ঠ’ রাজী ফখরুল এখনো বেপরোয়া

শেখ পরিবারের ‘ঘনিষ্ঠ’ রাজী ফখরুল এখনো বেপরোয়া

হামলার আশঙ্কায় বন্ধ ব্যাংক-ভূমিসেবাসহ বহু ওয়েবসাইট সাইবার সুরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

সাইবার সুরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম