Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আচরণবিধি

তিন লাখ কপি ছাপার পর ধরা পড়ল গুরুতর ত্রুটি

তড়িঘড়ি করে আবারও সংশোধনী এনে গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে

Advertisement

কাজী জেবেল

কাজী জেবেল

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

তিন লাখ কপি ছাপার পর ধরা পড়ল গুরুতর ত্রুটি

সংগৃহীত

Advertisement

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নিয়ম লঙ্ঘন হলে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান বা সদস্য প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের বিধান যুক্ত করে নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা সম্প্রতি সংশোধন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত আচরণ বিধিমালার নয় লাখ ১৭ হাজার কপি ছাপার জন্য বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়কে (বিজি প্রেস) কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে তিন লাখের বেশি কপি ছাপাও হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে আচরণ বিধিমালার ওই ধারাতেই গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়েছে। ইসি মনে করছে, আচরণ বিধিমালায় বর্তমানে যে বিধান রয়েছে, তা বহাল থাকলে আসন্ন নির্বাচনে এর প্রয়োগ জটিল ও প্রশ্ন সাপেক্ষ হতে পারে। এতে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ও এখতিয়ার বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ বিধানের প্রয়োগ করতে গেলে আইনি জটিলতাও তৈরি হতে পারে। এই অবস্থায় ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা’ আবারও সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন সংশোধনী আনা হলে ইতোমধ্যে ছাপা হওয়া তিন লাখের বেশি আচরণ বিধিমালার কপি কোনো কাজে আসবে না। সেগুলো ছাপতে ব্যয় হওয়া রাষ্ট্রীয় টাকা অপচয় হবে। ইসির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ যুগান্তরকে বলেন, আচরণ বিধিমালার একটি অংশে কিছু সংশোধনী আনা হচ্ছে। নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা একভাবে ওই বিধান লেখা রয়েছে আর আচরণ বিধিমালায় আরেকভাবে এসেছে। আমরা দুটো বিধিমালাতেই একই ধরনের বিধান আনতে যাচ্ছি। সূত্র আরও জানিয়েছে, নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর কার্যক্রমে এবারই প্রথম ভুল এমন নয়। অক্টোবরে প্রকাশিত ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালার সংশোধনীতেও এক ডজন ভুল-ত্রুটি ছিল। এরপরই অতি গোপনে সংশোধিত গেজেটের ওপর আরেকটি সংশোধনী আনা হয়। শুধু তাই নয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। তখন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রধান আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) এবং সংসদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার সংশোধনীতেও ভুল-ত্রুটি ধরা পড়ে। পরে আবারও সংশোধনী আনা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইসি সচিবালয়ের বেশির ভাগ কর্মকর্তার বড় পরিসরে নির্বাচন আয়োজনের মতো সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই। তারা মাঠপর্যায়ে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করলেও ইসি সচিবালয়ের এ ধরনের কাজে যুক্ত ছিলেন না। এছাড়া কিছু কিছু কর্মকর্তার দক্ষতারও ঘাটতি রয়েছে। তবুও রাজনৈতিক তদবিরে তারা বহাল তবিয়তে ইসি সচিবালয়ে কর্মরত রয়েছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ইসি সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বড় ধরনের রদবদল আনার বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বাস্তবে এসব কারণেই বারবার এ ধরনের ভুল-ত্রুটি থেকে যাচ্ছে।

জানতে চাইলে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. আব্দুল আলীম যুগান্তরকে বলেন, রেওয়াজ অনুযায়ী আইন ও বিধিমালা সংশোধনীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিজেরা পড়ে থাকেন। একাধিক কর্মকর্তা মনোযোগ দিয়ে পড়লে এ ধরনের ভুল-ত্রুটি থাকার কথা নয়। কিন্তু ছোট ছোট ভুল-ত্রুটিও যেহেতু রয়েছে, বুঝতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজে মনোযোগী নন। তিনি বলেন, আইন ও বিধিতে এ ধরনের ভুল-ত্রুটি থাকা কাম্য নয়। এ ধরনের ভুল থাকলে আইন লঙ্ঘনকারীরা এর সুযোগ নেবে এবং নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে ২১ জানুয়ারি থেকে ২৭ মে পর্যন্ত পাঁচ ধাপে ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করেছে ইসি। ডিসেম্বরে প্রথম ধাপের তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচনি আইন, বিধিমালা, মনোনয়ন ফরমসহ বিভিন্ন ধরনের প্যাকেট মুদ্রণের কাজ এগিয়ে রাখতে হয়। শুধু তাই নয়, নির্বাচন কর্মকর্তাদের জন্য আগভাগে ম্যানুয়েল তৈরি করতে হয়। ওই ম্যানুয়ালে নির্বাচনি আইন, আচরণ বিধিমালা, পরিচালনা বিধিমালা এবং বিভিন্ন আইন, বিধি ও নীতিমালার কপি থাকে। নির্বাচনি কাজে ম্যানুয়াল অনুসরণ করেন রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা। বিধিমালাগুলোতে এ ধরনের ভুল-ত্রুটি থাকায় ম্যানুয়াল তৈরির কাজেও প্রভাব পড়ছে।

আচরণ বিধিমালায় যে ত্রুটি : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় এবার বেশকিছু বিষয় যুক্ত এবং কিছু বিষয় বাদ দিয়ে সংশোধনী আনে ইসি। সংশোধিত আচরণ বিধিমালার ধারা ৩২ এ প্রার্থিতা বাতিলে নির্বাচন কমিশনের কাছে ক্ষমতা রাখার বিধান যুক্ত করা হয়। এতে বলা হয়েছে, কোনো চেয়ারম্যান বা সদস্য প্রার্থী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন, যার কারণে তারা ওই পদে নির্বাচনের অযোগ্য হবেন। শুধু ওইসব ঘটনার তথ্য পেলে ইসি তদন্ত করবে এবং তদন্তে প্রমাণিত হলে তার প্রার্থিতা বাতিল করবে। একাধিক নির্বাচন কমিশনার ও ইসির কর্মকর্তারা জানান, ধারা ৩২-এর উপধারা ১ ও ২ এ এমন বিধান যুক্ত করা হয়েছে যে, যেসব ঘটনায় তারা নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হতে পারবেন, শুধু সেই সব ঘটনার তদন্ত করতে নির্দেশ দিতে পারবে ইসি। তারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যে কোনো ধরনের অনিয়মের তথ্য পেলেই ইসি ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার রাখে। এটা নির্বাচন কমিশনের ইনহেরেন্ট পাওয়ার বা অন্তর্নিহিত ক্ষমতা। কিন্তু বিদ্যমান আচরণ বিধিমালায় ইসির সেই ক্ষমতাকে সংকুচিত করা হয়েছে। অথচ এই নির্বাচনের পরিচালনা বিধিমালার ৯০(ক) উপধারায় জাতীয় সংসদের মতোই ইসিকে প্রার্থিতা বাতিলের এখতিয়ার দিয়ে সম্প্রতি নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা এবং আচরণ বিধিমালায় এ সংক্রান্ত ধারা-উপধারায় দুই ধরনের বিধান রয়েছে, যা নির্বাচনে আইনি জটিলতা ও ইসির ক্ষমতা প্রয়োগে বাধা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইসির কর্মকর্তারা জানান, আচরণ বিধিমালার ধারা ৩২ এর উপধারা ১ এবং ২ এ সংশোধনী আনা হচ্ছে। সেখানে ইসিকে প্রার্থিতা বাতিলের অবাধ ক্ষমতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

পরিচালনা বিধিতেও ভুল-ত্রুটি : জানা গেছে, পরিচালনা বিধিমালার এক ডজনের বেশি ভুল-ত্রুটি ছিল, যেগুলো সংশোধন করে ১৯ অক্টোবর পৃথক গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এর বেশির ভাগই করণিক ভুল। যেমন, ‘ব্যয়ের’ শব্দের স্থলে ‘ব্যায়ের’, ‘প্রতিটি হ্যান্ডবিল বাবদ খরচ’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘প্রতিটি লিফলেট বাবদ খরচ’ এবং ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের’ স্থলে ‘আর্থিক চেয়ারম্যান’ লেখা ছিল। এছাড়া মনোনয়ন ফরমে প্রার্থীর লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে হিজড়া শব্দ ছিল না। এতে তৃতীয় লিঙ্গের কেউ প্রার্থী হতে চাইলে বিপাকে পড়তেন। এছাড়া মনোনয়ন ফরমে বৈবাহিক অবস্থা উল্লেখ করার জন্য ‘অন্যান্য ঘর’ ছিল না, যেটা পরে যুক্ত করা হয়েছে। পরিচালনা বিধিমালায় আরও কয়েকটি স্থানে সংশোধনী আনা হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

জাপানি বিনিয়োগ : আড়াইহাজার থেকে মাতারবাড়ী গন্তব্য হতে হবে মেড ইন বাংলাদেশ

গন্তব্য হতে হবে মেড ইন বাংলাদেশ

ঢাকায় ৭শ অতিরিক্ত শিক্ষক, গ্রামে হাহাকার ক্লাস নেই, দিন কাটে আড্ডায়

ক্লাস নেই, দিন কাটে আড্ডায়

টোকিওতে অর্থনৈতিক ফোরামে তারেক রহমান ৫ অগ্রাধিকার খাতে বড় বিনিয়োগের আহ্বান

৫ অগ্রাধিকার খাতে বড় বিনিয়োগের আহ্বান

যুদ্ধে তেল গ্যাস বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি দেড় লাখ কোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা

দেড় লাখ কোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম