টোকিওতে অর্থনৈতিক ফোরামে তারেক রহমান
৫ অগ্রাধিকার খাতে বড় বিনিয়োগের আহ্বান
Advertisement
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাপানের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক খাতে সরাসরি ও বড় আকারে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে আগামীতে সহযোগিতা এবং ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাত বিবেচনা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’ খাতগুলো হলো-মোটরযান উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ সহযোগিতা, রেলপথ ও সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনশিল্প। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, অবকাঠামোগত দক্ষতা এবং শুল্ক ও করব্যবস্থায় পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিতে জাপানকে শতভাগ নিশ্চয়তা প্রদান করেন সরকারপ্রধান। স্থানীয় সময় বিকালে বুধবার রাজধানী টোকিওর জেট্রো হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপ’-এ মূল বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সফরের তৃতীয় দিনেও ব্যস্ত সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী। অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিনটি বৈঠক হয়। বৈঠকে অংশ নেন জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকো, বিশ্বখ্যাত পোশাক প্রস্তুতকারক ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিংয়ের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী তাদাশি ইয়ানাই এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অরগানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমু। এদিকে ‘সংস্কার-সংস্কার’ রব তুলে বিএনপি সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি টোকিওর নিউ ওতানি হোটেলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেন, বাংলাদেশে যে সংস্কারগুলো করলে একদম প্রান্তিক মানুষটা উপকার পাবে, সেই সংস্কারগুলো যাতে বিএনপি করতে না পারে, সেজন্য একটা পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক সংলাপে প্রধানমন্ত্রী দুদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অপার সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৩৫০টি জাপানি কোম্পানির কার্যক্রম চালু থাকলেও আমাদের দেশে জাপানের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) ৫০ কোটি ডলারের নিচে। এছাড়া সর্বশেষ অর্থবছরে জাপানে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি ছিল ১৩৬ কোটি ডলার এবং একই সময়ে জাপান থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ২১৬ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য।’ সহযোগিতার প্রথাগত এই গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি বাণিজ্য ও শিল্প বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে সম্পর্ককে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী। তিনি তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, তারা একাধিকবার জাপান সফর করে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের যে শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন, তা আজ নতুন রূপ নিচ্ছে।
চলতি বছর দুদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) স্বাক্ষরের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো দেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রথম এ ধরনের সমন্বিত বাণিজ্য চুক্তি। এর আওতায় বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। বিপরীতে জাপানি ইস্পাত, মোটরযানের আধুনিক যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদান বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা উপভোগ করবে। তিনি বলেন, ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের সুবিশাল বাজার, ২৭ বছরের উদ্যমী তরুণ শ্রমশক্তি আমাদের বড় সম্পদ ছাড়াও ক্রমবিকাশমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি আমাদের মূল চালিকাশক্তি। ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ১০টি ভোক্তা অর্থনীতির একটিতে পরিণত হবে। বিনিয়োগের জন্য সুনির্দিষ্ট পাঁচটি খাতের রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মোটরযান উৎপাদনশিল্পে চলতি মাসের শুরুর দিকে বৈশ্বিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ যানবাহন সংযোজন ও উৎপাদন কারখানা স্থাপনের কাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে এটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্যও নির্ধারিত। অন্য জাপানি অটোমোবাইল ব্র্যান্ডকেও কারখানা স্থাপনের আমন্ত্রণ জানান তিনি। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো উন্নয়ন, অতি-দক্ষ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে জাপানি পুঁজির আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান জানান, বাংলাদেশ এ খাতে জাপানের অন্যতম শীর্ষ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ‘জেরা’ (JERA)-এর সঙ্গে যৌথভাবে সমন্বিত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। একটি উদ্ভাবনমুখী ‘বাংলাদেশ-জাপান প্রযুক্তি পার্ক’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা চলছে। এছাড়া মহাকাশবিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে যৌথ মহাকাশ গবেষণা ও সক্ষমতা বাড়াতে চায় ঢাকা।
সরকারপ্রধান বলেন-ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালসহ দেশের প্রধান প্রধান বিভাগীয় ও বাণিজ্যিক শহরগুলোকে সংযুক্ত করে দেশজুড়ে একটি দ্রুতগতির উড়াল রেল নেটওয়ার্ক গড়ার রূপরেখা তুলে ধরেন তারেক রহমান।
বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ ফলমূল, শাকসবজি ও খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়। জাপানি আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ফুড প্রসেসিং ইউনিট গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে জাপানি মানদণ্ড অনুযায়ী সুমিতোমো করপোরেশনের গড়ে তোলা বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (বিএসইজেড) কারখানা স্থাপনের জন্য ব্যবসায়ীদের অনুরোধ জানান।
জাপানি শিল্পোদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অকপটভাবে বলেন, আমরা আপনাদের উদ্বেগের কথা শুনেছি। ব্যবসা পরিচালনায় নিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগে আস্থা অত্যন্ত জরুরি। নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ-গ্যাস সরবরাহ, দ্রুত পণ্য খালাসের আধুনিক লজিস্টিকস এবং শুল্ক-কর নীতিতে যাতে ঘন ঘন পরিবর্তন না ঘটে-তা নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার দায়িত্ব।’
ফোরামে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক সংসদীয় উপমন্ত্রী শিনজি ওয়াকায়ামা। এতে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার রোডম্যাপ তুলে ধরেন। বিনিয়োগ সহজীকরণের গৃহীত নানা সংস্কার তুলে ধরেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। অনুষ্ঠানে একাধিক সমঝোতা স্মারকও সই হয়।
ঢাকায় কার্যালয় খোলার বিষয়ে জেবিআইসি গভর্নরকে প্রস্তাব : এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন জেবিআইসি গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকো। বৈঠকে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং রূপকল্পভিত্তিক মেগা অবকাঠামো প্রকল্পে বড় আকারের অর্থায়ন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে জেবিআইসির একটি পূর্ণাঙ্গ কান্ট্রি অফিস খোলার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন।
কৃত্রিম তন্তু ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইলে ইউনিক্লোর বিনিয়োগ আহ্বান : পরে বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ও পোশাক প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিং কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট ও সিইও তাদাশি ইয়ানাইয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের ওপর দীর্ঘকাল আস্থা রাখা এবং বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বজায় রাখার জন্য ইউনিক্লোকে সাধুবাদ জানান। তিনি ফাস্ট রিটেইলিংকে বাংলাদেশে এসব উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে সরাসরি কারখানা স্থাপনের আহ্বান জানান। সরকারপ্রধান নিশ্চয়তা দেন যে, ইউনিক্লো নতুন বিনিয়োগে এলে জমি বরাদ্দ, অবকাঠামো সুবিধা এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রসহ সব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সহজীকরণ করা হবে।
জেট্রোর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক : এদিন বেলা পৌনে ১২ টায় অনুষ্ঠিত হয় জাপান বৈদেশিক বাণিজ্য সংস্থার (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গে বৈঠক। এতে বাংলাদেশে জাপানি কারখানা স্থানান্তর, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, অর্থনৈতিক অঞ্চলে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস কার্যকর করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে যৌথ উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে আধুনিক গাড়ি সংযোজন, হাই-টেক আইসিটি যন্ত্রাংশ, গ্রিন এনার্জি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে অপার সুযোগ অপেক্ষা করছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও সংলাপের প্রতিটি পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যারা ছিলেন তাদের মধ্যে রয়েছেন-অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শীর্ষ কূটনৈতিক ও নীতিনির্ধারক কর্মকর্তারা।
ঢাকাকেও টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলার লক্ষ্য সরকারের-প্রধানমন্ত্রী : এদিকে টোকিওর নিউ ওতানি হোটেলে জাপান প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেছেন, ঢাকা শহরকেও টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, টোকিওর রাস্তাঘাটে কোনো ময়লা-আবর্জনা দেখা যায় না। অথচ ঢাকায় চারদিকে আবর্জনা জমে থাকে, এ পরিস্থিতির পরিবর্তন জরুরি। আবর্জনা থেকে জীবাণু ছড়ায়। ঢাকাবাসীকে সুস্থ রাখতে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং যথাযথভাবে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রবাসী ও দেশে বসবাসকারী সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে পারলে দেশে ও প্রবাসে থাকা সব বাংলাদেশিই এর সুফল পাবেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে অবস্থানেই থাকি না কেন, আমাদের কোনো কাজের মাধ্যমে দেশ ও দেশের মানুষের ভালো হলে তা করার চেষ্টা করতে হবে।’ স্কুলে জাপানিসহ তৃতীয় ভাষা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। তারেক রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের বিদেশি ভাষায় দক্ষ করে তোলার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে দেশ-বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে তারা বাড়তি সুবিধা পাবে। তিনি বলেন, জাপানি ভাষার শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও প্রত্যাশার তুলনায় কম আবেদন পাওয়া গেছে। দেশের স্বার্থে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসে অবস্থান করলেও সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং দেশের উন্নয়নে প্রত্যেকেরই ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।’

