নেতানিয়াহু বনাম আইজেনকোট
ফিলিস্তিন ইস্যুতে কে ভালো নাকি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলের রাজনীতিতে বর্তমানে চরম উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত বিরাজ করছে। গাজায় হামলা শুরুর তিন বছর পর ইসরাইলে এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দেশটিতে ভোটগ্রহণ হয়। দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে আবির্ভূত হয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ও ‘ইয়াশার’ পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট। গাজা, ইরান, লেবাননসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা এবং আগ্রাসনের কারণে মুসলিম বিশ্বে নেতানিয়াহু ব্যাপকভাবে সমালোচিত। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে, গাদি আইজেনকোট নির্বাচিত হলে কি গাজা ও মুসলিম বিশ্বের জন্য ইতিবাচক কিছু বয়ে আনবে, নাকি তারা দুজনই একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ? আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামতের ভিত্তিতে তুলনামূলক চিত্র-
আইজেনকোট কে এবং ফিলিস্তিন নিয়ে তার নীতি কী? : আইজেনকোট ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাবেক চিফ অব স্টাফ। নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি নীতির বিপরীতে অনেকেই তাকে বিকল্প মনে করলেও ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থান বেশ কঠোর। তিনি আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত ‘দ্বিরাষ্ট্র সমাধান’ বা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ঘোর বিরোধী। আইজেনকোট বিশ্বাস করেন, যারা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র নিয়ে কথা বলে তারা মূল সংঘাতটি বোঝে না।
দাহিয়াহ ডকট্রিন : ২০০৬ সালের লেবানন যুদ্ধে বৈরুতের দাহিয়াহপাড়া ধ্বংসের পর আইজেনকোট এই সামরিক নীতি প্রণয়ন করেন। এই নীতির মূল কথা হলো-যেখান থেকে ইসরাইলের ওপর হামলা হবে, সেখানে বিপুল ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো। গাজা এবং লেবাননে সাম্প্রতিক আগ্রাসনেও ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এই নীতি প্রয়োগ করেছে।
বসতি স্থাপন : তিনি আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ বিবেচিত পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তারা কি মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ? গাজার জন্য কে ভালো? : ফিলিস্তিন ও গাজা নীতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নেতানিয়াহু এবং আইজেনকোট মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আইজেনকোটের পররাষ্ট্রনীতিকে ‘নরম সুর, কিন্তু একই দখলদারত্ব’ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। দুজনের মধ্যে মূল পার্থক্যটি মতাদর্শিক নয়, বরং কৌশলগত। আইজেনকোট মূলত নেতানিয়াহুর কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলোর সমালোচনা করেন, যেমন জিম্মি চুক্তির ক্ষেত্রে নেতানিয়াহুর অনীহা। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং সামরিক শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে কোনো মৌলিক পার্থক্য নেই। আইজেনকোট নির্বাচিত হলেও ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন এবং শত্রুদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখবে বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা। তাই গাজার সাধারণ মানুষের জন্য আইজেনকোট খুব একটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসবেন, এমনটা ভাবার সুযোগ কম।
ইসরাইলের ভোটে ফিলিস্তিনের ভাগ্য বদলাবে না-অ্যামনেস্টি : ইসরাইলের নির্বাচন ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার রক্ষায় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবে এমন কোনো জোরালো আশার জায়গা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির মতে, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসাবে রাজনৈতিক প্রার্থীরা ফিলিস্তিনবিরোধী মনোভাবকে বেপরোয়াভাবে ব্যবহার করেছেন। এমনকি রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি অপরাধগুলো আরও বাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দিয়েছেন।
মুসলিম বিশ্ব কাকে চায়? : মুসলিম বিশ্ব নেতানিয়াহুকে একজন যুদ্ধবাজ নেতা হিসাবে দেখে এবং তার পতন কামনা করে। তবে আইজেনকোটের সামরিক পটভূমি ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিরোধিতার কারণে মুসলিম বিশ্ব তাকেও বন্ধু মনে করে না। কিছু আরব রাষ্ট্র হয়তো নেতানিয়াহুর উগ্র ডানপন্থি সরকারের চেয়ে আইজেনকোটের মতো একজন ‘পরিমিত’ সুরের নেতার সঙ্গে কাজ করাকে তুলনামূলকভাবে সহজ মনে করতে পারে, তবে মুসলিম বিশ্বের সাধারণ মানুষের কাছে তারা দুজনই ইসরাইলি দখলদারত্বের প্রতিচ্ছবি।
