প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
তৃতীয় কোনো দেশ নিয়ে আলোচনা হয়নি
Advertisement
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর কার্যকর ও ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এই সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সময় তৃতীয় কোনো দেশ, বঙ্গোপসাগর বা সমুদ্রপথ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাপান সফর নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন আর শুধু সহজ শর্তের ঋণ বা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল থাকতে চায় না। বরং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিনিয়োগভিত্তিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানের পক্ষ থেকে আগামী পাঁচ বছরে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি বেসরকারি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। তবে কোন বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য উপযোগী তা আলোচনা করে নির্ধারণ করা হবে। যেসব বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নের বিকল্পের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক হবে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
জাপান সফর নিয়ে এক প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মাতারবাড়ী ও ‘বিগ-বি’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্নের শঙ্কা প্রকাশ করা নিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচিত যৌথ বিবৃতি পড়ে বক্তব্য দেওয়া।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্য কোনো দেশের বিষয়ে আলোচনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিদেরও আলোচনায় থাকতে হবে। জাপানের সঙ্গে আলোচনাটি ছিল দুই দেশের একান্ত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নিয়ে। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থ ও দেশের স্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। সরকারের কার্যক্রম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। সংবেদনশীল কোনো বিষয় থাকলে তা সংসদেও আলোচনা করা হবে।
এলএনজি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী এলএনজি আমদানির জন্য যাননি। জাপানের এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম ও অবকাঠামো দেখতে সেটি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আরও এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের বিষয় বিবেচনা করছে। এ কারণে জাপান কীভাবে টার্মিনাল স্থাপন করেছে এবং সেটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে তা সরেজমিন দেখাই ছিল পরিদর্শনের উদ্দেশ্য। জাপানের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক মিশন পাঠানোর বিষয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের পর পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে এ মিশন পাঠানো হবে।
রোহিঙ্গা সংকট ও মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার। দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয়-সব ধরনের আন্তর্জাতিক আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাপান বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে। এ বিষয়ে জাপানকে তার ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাপানের ঋণের সুদহার বেড়ে প্রায় ৩ শতাংশে পৌঁছানোর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির ক্ষেত্রে অর্থায়নের শর্ত, সুদের হার ও বিনিয়োগের উপযোগিতা বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক বিনিয়োগ গ্রহণ করা হবে। অন্যান্য আন্তর্জাতিক অর্থায়নের বিকল্পের তুলনায় কোনটি বেশি সুবিধাজনক, তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। আগে বাংলাদেশ সহজ শর্তের ঋণ ও সহায়তার ওপর বেশি নির্ভরশীল ছিল। এখন পারস্পরিক বিনিয়োগের ভিত্তিতে সম্মানজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার নীতি নেওয়া হয়েছে।
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অবস্থান ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বিকল্প সমুদ্রপথ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, জাপান সফরে বঙ্গোপসাগর বা সমুদ্রপথ নিয়ে আলোচনা হয়নি। এ ধরনের আলোচনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের উপস্থিতি প্রয়োজন। জাপানের সঙ্গে আলোচনায় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
