প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ফের ত্রুটি
একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির রহস্য কী?
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী তথা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা কোনো সাধারণ বিষয় নয়; এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি। অথচ গত বৃহস্পতিবার টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটিতে ফের ত্রুটি ধরা পড়ে।
শুক্রবার যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উড়োজাহাজটি পুশব্যাকের পর ট্যাক্সি করার সময় সেটির স্পয়লারে রেড সিগন্যাল দেখা দেয় এবং শেষ মুহূর্তে উড্ডয়ন বাতিল করা হয়; ফলে প্রধানমন্ত্রীসহ প্রতিনিধিদলকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানের ভেতরে ও বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়, যা এক কথায় উদ্বেগজনক। রানওয়ে থেকে বিমানটি ফিরিয়ে আনার পর ত্রুটি সারিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করতে লেগে যায় দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা।
এর আগেও গত বছর প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন থেকে দেশে ফেরার বহরে থাকা উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণে গুরুতর অনিয়মের তথ্য উচ্চপর্যায়ের তদন্তে উঠে এসেছিল। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ভিভিআইপি ফ্লাইটে এ ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির পুনরাবৃত্তির কারণে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও প্রকৌশল বিভাগের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
অস্বাভাবিক কম সময়ে প্রযুক্তিগত পরীক্ষা শেষ করা, ত্রুটির পুনরাবৃত্তি হওয়া সত্ত্বেও সেদিকে নজর না দেওয়া এবং বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির প্রমাণ পাওয়ার পরও কি বিমান কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে? নারিতার ঘটনা এ প্রশ্নই নতুন করে সামনে নিয়ে এলো।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, নারিতা ফ্লাইটে যে প্রকৌশলী উড্ডয়ন উপযোগিতার ছাড়পত্র দিয়েছিলেন, তিনি আগে থেকেই বিতর্কিত এবং বিচারাধীন দুর্নীতি মামলার আসামি। গুরুতর অনিয়ম ও তদন্ত সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বারবার এমন সংবেদনশীল ফ্লাইটে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, এর জবাবদিহি হওয়া প্রয়োজন। এটি কি কেবলই তদারকির অভাব, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গাফিলতি বা ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে, তা শক্তভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করি আমরা।
ভিভিআইপি ফ্লাইটের ক্ষেত্রে পদে পদে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তর্জাতিক মানের প্রি-ফ্লাইট চেকলিস্ট অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কাজেই বর্তমান প্রেক্ষাপটে কেবল তদন্ত কমিটি গঠন বা লোকদেখানো বদলির প্রশাসনিক পদক্ষেপে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের নিরাপত্তা ছাড়পত্র দেওয়ার পেছনে যেসব প্রকৌশলী ও কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন, তাদের সবাইকে তদন্তের আওতায় আনতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দিতে হবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।
একইসঙ্গে বিতর্কিত ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভিভিআইপি ফ্লাইটের ব্যবস্থাপনা থেকে দূরে রাখার জন্য কঠোর নীতিমালা প্রবর্তন করাও সময়ের দাবি। এছাড়া বিমানে ভিভিআইপি ও ভিআইপি প্রটোকল নিশ্চিত করার জন্য একটি স্বতন্ত্র ও প্রভাবমুক্ত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এবং কারিগরিভাবে দক্ষ ‘স্পেশাল মেইনটেন্যান্স সেল গঠন’ করা যেতে পারে।
সর্বোপরি, উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও ডিজিটালাইজড মনিটরিং নিশ্চিত করতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না, রাষ্ট্রপ্রধানের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে যে কোনো ধরনের শিথিলতা অমার্জনীয় অপরাধ। এমন অপ্রত্যাশিত ও বিপজ্জনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।
