বাজার অস্থির করার পাঁয়তারা
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রমজান মাসে নিত্যপণ্যের চাহিদা কিছুটা বৃদ্ধি পায়। এ সময়টিকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠে। রমজান আসতে এখনো প্রায় সাড়ে তিন মাস বাকি। এখনই সয়াবিন তেলের বাজারে কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা শুরু করেছে দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদন ও পরিশোধনকারী কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান। দুই মাস না যেতেই লিটারপ্রতি সয়াবিন তেলের দাম আরও ১৪ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে তাদের সংগঠন। সরকারের পক্ষ থেকে এতে সম্মতি না দেওয়া সত্ত্বেও খুচরা বাজারে নির্ধারিত দামের চেয়ে ১৫ টাকা বেশি দরে তেল বিক্রি হচ্ছে, যা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) তথ্যমতে, দেশের ভোজ্যতেলের বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করে চার থেকে পাঁচটি বৃহৎ কোম্পানি। অভিযোগ রয়েছে, এই কোম্পানিগুলো মাঝেমধ্যেই মিল পর্যায় থেকে সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এর মাধ্যমে ভোক্তাদের জিম্মি করে নিজেদের ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে নেওয়ার পুরোনো কৌশল এবারও প্রয়োগ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে কোম্পানিগুলো দেশীয় বাজারে দাম বাড়ানোর এই পাঁয়তারা করছে। আমদানির পাইপলাইনে পর্যাপ্ত পণ্য থাকা সত্ত্বেও ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই এবং রমজানে পণ্যের কোনো ঘাটতি হবে না। সরকারের এই অবস্থান সময়োপযোগী ও ইতিবাচক। তবে কেবল মুখের ঘোষণায় বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অতীতে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীদের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত বাজারদর পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। তাই এবার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
রমজান মাসে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বাজার সিন্ডিকেটগুলো যাতে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি আমদানির উদ্দেশ্যে কোনো পণ্যের এলসি খোলার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জটিলতা থাকলে তা দ্রুত নিরসন করে বাজারে ওইসব পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। অসাধু সিন্ডিকেটের যে কোনো অসদুপায় রুখে দিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনকে এখনই কঠোর হাতে ব্যবস্থা নিতে হবে।
