Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

তারেক-তাকাইচি বৈঠক

অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

তারেক-তাকাইচি বৈঠক

Advertisement

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার টোকিওতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের অভিন্ন মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন সূর্যোদয়ের সূচনা করেছে। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদারের এ উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় একটি সুদূরপ্রসারী মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।

জাপান বরাবরই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সুনির্দিষ্ট হিসাব-নিকাশের ভিত্তিতে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করে থাকে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটি বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) স্বাক্ষর করে এবং আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক। এ ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই রাষ্ট্রীয় সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আগামী বছর জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগের যে প্রত্যাশা করা হয়েছে, তা বাস্তবে রূপ নিলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর ত্বরান্বিত হবে। এছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে জাপান কর্তৃক ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের জরুরি ঋণ সহায়তা এবং ছয়টি বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক নির্মাণ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন বাংলাদেশের উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটাবে। আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনীতি বিনির্মাণে ‘বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব এবং মহাকাশ গবেষণায় জাপানি সহযোগিতা গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে তা আমাদের তরুণ প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দেবে।

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার বহিঃপ্রকাশ। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং আড়াইহাজার অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রমের সঙ্গে সংগতি রেখে জাপান বাংলাদেশকে শুধু অর্থনৈতিক বাজার হিসাবে নয়, উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক নীতির অন্যতম কৌশলগত অংশীদার হিসাবেও বিবেচনা করছে। তবে জাপান বাংলাদেশে বিনিয়োগের যে সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক এবং আড়াইহাজারে এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনে-এ সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে আমাদের নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। এ প্রসঙ্গে জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহর মতে, ‘মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ঘিরে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের সুফল নিশ্চিত করতে হবে।’ মুক্ত অর্থনীতির চর্চা, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ও লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জাপানের শ্রমবাজারের মানদণ্ড অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

জাপান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী ও উন্নয়ন অংশীদার। টোকিও শীর্ষ বৈঠক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির এক বড় সাফল্য। এই ঐতিহাসিক অংশীদারত্বকে সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশ ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি অর্জনের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

তারেক-তাকাইচি বৈঠক

তারেক-তাকাইচি বৈঠক

স্বীকৃতিহীন সাধনা

স্বীকৃতিহীন সাধনা

স্থানীয় সরকারে দুর্নীতির থাবা

স্থানীয় সরকারে দুর্নীতির থাবা

গ্রাম সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা

গ্রাম সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম