মাদকের অবাধ কারবার
নেপথ্য কুশীলবদের দমন জরুরি
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীবাসীর জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মাদক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নিয়মিত অভিযান চালিয়ে বহু বিক্রেতা ও সেবনকারীকে গ্রেফতার এবং তাদের অস্থায়ী আস্তানা ভেঙে দিলেও কাজের কাজ খুব একটা হচ্ছে না। নগরীর ভেতরে থাকা রেললাইনগুলো বর্তমানে মাদকের এক উন্মুক্ত বাজারে পরিণত হয়েছে।
টঙ্গী থেকে কমলাপুর হয়ে নারায়ণগঞ্জমুখী রেলপথের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে গ্লোরিয়ার ঘুণ্টিঘর, মুন্সিরটেক, গোপীবাগ, সায়েদাবাদ, খিলগাঁও, কাওরান বাজার, তেজগাঁও, মহাখালী ও বিমানবন্দরসংলগ্ন রেললাইনজুড়ে চলছে গাঁজা, ইয়াবা, হেরোইন ও আইসের অবাধ কারবার।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ডিএমপির আট অপরাধ জোনে দুই শতাধিক মাদক স্পট চিহ্নিত রয়েছে, যেগুলোকে কেন্দ্র করে সক্রিয় রয়েছে কয়েকশ ডিলার এবং হাজার হাজার কারবারি। পলিথিন কিংবা বাজারের ব্যাগে মাদক নিয়ে প্রকাশ্যে ক্রেতাদের খোঁজা এবং রেললাইনের পাশের ছোট খুপরিতে বসে সেবনের সুব্যবস্থা থাকার কারণে অপরাধের মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালালেও তা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মাদক কারবারিরা পুনরায় বহাল তবিয়তে তাদের পুরোনো ব্যবসায় ফিরে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত রেললাইনের দুপাশের ভৌগোলিক সুবিধা, পাহারাদারদের সতর্কবার্তা এবং দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা থাকার কারণে পুলিশি অভিযান দিয়ে এই কারবার বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল মাঠপর্যায়ের খুচরা বিক্রেতাদের আটক করে মাদকের এই ভয়ংকর বিস্তার রোধ করা কিছুতেই সম্ভব নয়। এর স্থায়ী সমাধানের জন্য সরবরাহের মূল চেইন বা সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে এবং পর্দার আড়ালে থাকা গডফাদারদের চিহ্নিত করে তাদের কঠোর আইনের আওতায় আনতে হবে।
একইসঙ্গে সীমান্তে কড়া নজরদারি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিশ্চিত করাও জরুরি। আমরা মনে করি, শুধু প্রশাসনিক অভিযান বা ধরপাকড় নয়, সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি মাদকাসক্তদের সঠিক চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বস্তরের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলা সম্ভব নয়। তাই প্রশাসনকে অবিলম্বে আরও বেশি দৃশ্যমান ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
