খুলনায় ধরা পড়ছে না আলোচিত অপরাধী
Advertisement
আহমদ মুসা রঞ্জু, খুলনা
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কূলকিনারা করতে পারছে না পুলিশ। একসময়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের অভ্যন্তরীণ খুনোখুনি এখন সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব ফেলেছে। চাঁদা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ভাঙচুর করছে সন্ত্রাসী বাহিনী। সরকারি কর্মকর্তাদের তুলে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, পুলিশ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, স্কুলছাত্রী ও পথচারীরা আক্রান্ত হচ্ছেন। এসব ঘটনায় পুলিশ কিছু আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারলেও নেপথ্যের কারিগররা অধরাই থেকে যাচ্ছে।
খুলনা নগরের দক্ষিণ টুটপাড়ার কলেজ শিক্ষক ধনঞ্জয় ২৪ অক্টোবর গাছতলা এলাকায় নিজের দোকানে গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ বলছে, চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
১৮ অক্টোবর মধ্যরাতে টুটপাড়া আমতলা মোড়ে এক যুবকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। নগরীর পিটিআই মোড়ের আলোচিত রেস্টুরেন্ট চাইনিজ প্যালেসে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। রেস্টুরেন্টের মালিক মাসুদ হোসেন বলেন, কেন হামলা চালাল বা ভাঙচুর করল তা বুঝতেই পারছি না। আমাদের কাছে কেউ কোনো চাঁদা চায়নি। এই ঘটনার তিন দিন আগে নগরীর জনবহুল এলাকা কমার্স কলেজের সামনে সন্ধানী ক্লিনিকে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বি কোম্পানির সদস্যরা। চাঁদা না দেওয়ায় ১০-১২ জন দুর্বৃত্ত এই হামলা চালায়।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, খুলনায় একের পর এক হত্যা, গুলি, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র মহড়ার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। রাজনৈতিক দলের সাবেক নেতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও সরকারি কর্মকর্তাও অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন। কোথাও গুলিতে প্রাণ যাচ্ছে, কোথাও অস্ত্রের মুখে তুলে নেওয়া হচ্ছে মানুষকে। আবার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে। এসব অপরাধের পর অনেক ক্ষেত্রে মামলা হচ্ছে না, আবার মামলা হলেও দ্রুত আসামি গ্রেপ্তার হচ্ছে না।
৭ অক্টোবর নগরীর কে ডি ঘোষ রোড থেকে সদর সাবরেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। প্রায় ৪০ মিনিট পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ একজনকে আটক করলেও ভুক্তভোগী মামলা না করায় আইনানুগ ব্যবস্থা এগিয়ে নিতে জটিলতা তৈরি হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খুলনা থানার ওসি মো. লোকমান হোসেন রিপন বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা মামলা করছেন না, বা সন্ত্রাসীদের ভয়ে মুখ খুলছে না। আমরা তাদের সহযোগিতা পেলে সব অপরাধী গ্রেপ্তার হবে।
খুলনা মহানগর পুলিশের অপরাধ শাখার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ১০ মাসে খুলনা মহানগর ও জেলায় মোট ৬৯টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কেএমপিতে ৩৪টি হত্যা মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৬ জন। এ সময়ে গুলি করে জখম করার ঘটনা ঘটেছে অর্ধশতাধিক।
কেএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) এম শাকিলুজ্জামান বলেন, ১০ মাসে যেসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে তার মধ্যে অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। ৩৪ হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামি রয়েছে ২১৪ জন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে ১৪৮ জন। এছাড়া খুনের ঘটনার কেসগুলোর ৯০ শতাংশ সমাধান করতে পেরেছি। বাকি যেসব হামলা ভাঙচুর এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছে এর বিরুদ্ধেও পুলিশ সক্রিয় রয়েছে।
বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেপ্তার ২ : সদর থানাধীন চানমারি ও শিপইয়ার্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ ‘আশিক গ্রুপের’ দুই অস্ত্রধারীকে গ্রেফতার করেছে এসআরবি-৬। তারা হলো ছাহিল মাহমুদ (২৫) এবং শাহাদাত হোসেন শুভ (২৩)। এসআরবি জানায়, বুধবার রাতে আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর থানাধীন আহমাদিয়া মাদ্রাসা রোডের চানমারি শিপইয়ার্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ওই দুই অস্ত্রধারীকে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সদর থানায় অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
