Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

ব্যবসায়ীদের অভিমত

সংস্কারে যত দেরি তত ক্ষতি

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সংস্কারে যত দেরি তত ক্ষতি

Advertisement

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় তিন বছর পেছানোয় আপাতত হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন ব্যবসায়ীরা। এজন্য জাতিসংঘে দেওয়া বর্তমান সরকারের চিঠিকে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞা হিসাবে দেখছেন তারা। এ সময়ের অর্থনীতির বিদ্যমান দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে দরকার প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত সংস্কার। তা না হলে উত্তরণ-পরবর্তী কঠিন প্রতিযোগিতায় পড়তে হবে বাংলাদেশকে। রোববার যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা। ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, এলডিসি উত্তরণ পেছানোর ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। এক মুহূর্তও নষ্ট না করে সরকারকে এ সময় কাজে লাগাতে হবে। কোন খাতে কী সংস্কার করতে হবে, তা নিয়ে ২০২০ সাল থেকে হাজারখানেক আলোচনা সভা, সেমিনার ও ওয়ার্কশপ হয়েছে। এসব আলোচনায় উঠে এসেছে, কোন খাতে কী সংস্কার করতে হবে। মুখ্য সচিবের দপ্তরে সব ডকুমেন্ট সংরক্ষিত আছে। এখন শুধু সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে তিন বছর পর আবার উত্তরণ পেছানোর জন্য ব্যবসায়ীদের দৌড়ঝাঁপ করতে হবে।

তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ হলে বাণিজ্য সুবিধা, নমনীয় শর্তে বিদেশি ঋণপ্রাপ্তির মতো আরও কিছু সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ। এ সুবিধা উঠে গেলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশকে প্রতিযোগী সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য রাজস্ব খাত সংস্কার, অভ্যন্তরীণ দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যবসার পরিচালন খরচ কমিয়ে আনার বিকল্প নেই। আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে-এসব বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন আলাপ-আলোচনা হলেও কোনো ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশ শুধু একটি মাত্র দেশের সঙ্গে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) করতে সক্ষম হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বৈশ্বিক জোটগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে। রাজস্ব খাত সংস্কার করতে না পারলে ব্যবসার খরচ কোনোভাবেই কমানো সম্ভব নয়।

রিজওয়ান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির স্তম্ভ হচ্ছে তৈরি পোশাক। কিন্তু এটি সবচেয়ে বড় দুর্বলতাও। এক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরের (ইউএসটিআর) নীতি পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে অর্থনীতি লাইফ সাপোর্টে যাওয়ার দশা হয়। ইউরোপে কিছু হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। এ বিষয়েও ভাবতে হবে। রপ্তানি পণ্য বহুমুখী করার পাশাপাশি বাজার সম্প্রসারণ করতে হবে। আফ্রিকা অঞ্চল, দক্ষিণ এশিয়ায় রপ্তানি বাড়াতে সরকারকে প্রয়োজনীয় নীতি-সহায়তা দিতে হবে।

বিজিএমইর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বীকৃতি। তবে কখন উত্তরণ করা হচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উত্তরণের পর বেশকিছু বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। সেগুলো মোকাবিলায় আমরা কতটা প্রস্তুত, সেটিই বড় প্রশ্ন। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ ও বাস্তবতা বুঝতে পেরেছে। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণ পেছানোয় রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভারত ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো ইতোমধ্যে বিভিন্ন বাজারের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করেছে। এসব চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারেন। ইউরোপের পাশাপাশি জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার বাজারেও এ ঝুঁকি রয়েছে। এসব বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করতে হবে।

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, এখন যে সময় পাওয়া যাচ্ছে, তা কাজে লাগিয়ে অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও উৎপাদন সক্ষমতার ঘাটতি দূর করতে হবে। তিন বা ছয় বছর পর যেন আবার বলতে না হয়, আমরা প্রস্তুত হতে পারিনি। এলডিসি উত্তরণের সিদ্ধান্তে আমরা আনন্দিত হতে পারি। কিন্তু সেই আনন্দে হাততালি দিয়ে বসে থাকলে চলবে না। এখনই কাজ শুরু করতে হবে। যেসব বাজারে শুল্ক আরোপের ঝুঁকি রয়েছে, সেসব বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

এক্ষেত্রে সরকারকে প্রয়োজনীয় নীতিসহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। তাহলে ব্যবসায়ীরা পণ্যের মান ও বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন। সরকারকে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করতে হবে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের সুতা, কাপড়সহ পশ্চাৎমুখী শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শুধু তৈরি পোশাক রপ্তানি করে আগের মতো সুবিধা পাওয়া যাবে না। বাণিজ্যচুক্তি থাকলেও সব দেশে সব পণ্যে একই সুবিধা মিলবে না। তাই পশ্চাৎমুখী শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত জ্ঞান, দক্ষতা এবং গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। সরকার যেসব নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিচ্ছে, সেগুলোর অন্তত ৮০ শতাংশ বাস্তবায়ন করা গেলেও ব্যবসায়ীরা এগিয়ে যেতে পারবেন।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে দিনভর আন্দোলন বিক্ষোভ সহিংসতা তাণ্ডব

বিক্ষোভ সহিংসতা তাণ্ডব

২০২৬-২০২৯ মেয়াদি রোডম্যাপ সরকারের টেকসই এলডিসি উত্তরণে পাঁচ পক্ষ নিয়ে সংস্কার

টেকসই এলডিসি উত্তরণে পাঁচ পক্ষ নিয়ে সংস্কার

ডিসেম্বর সামনে রেখে একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী

ডিসেম্বর সামনে রেখে একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী

রেকর্ড ভেঙে ফেল ৫ লাখ ৯৪ হাজার শিক্ষার্থী সামনে এলো শিক্ষাব্যবস্থার গভীর সংকট

সামনে এলো শিক্ষাব্যবস্থার গভীর সংকট

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম