Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

আন্দোলনে ফ্যাসিস্টদের ইন্ধন রয়েছে

Advertisement

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

আন্দোলনে ফ্যাসিস্টদের ইন্ধন রয়েছে

সচিবালয়ে সোমবার তৈরি পোশাকশিল্প মালিক (বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বক্তৃতা করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ -সংগৃহীত

Advertisement

তৈরি পোশাক খাতে সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিরসনে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সোমবার সকালে পৃথকভাবে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিল্পের উৎপাদনশীলতা ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শ্রমিক, মালিক ও সরকারকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট সমর্থকদের ইন্ধন রয়েছে।

পোশাকশিল্পের মালিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে প্রকৃত পোশাকশ্রমিক কিংবা ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিগত কয়েকদিনের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আন্দোলনের নামে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং শিল্প খাত ধ্বংস করতে সুযোগসন্ধানী ও ফ্যাসিস্টের সমর্থকরা মুখে মাস্ক পরে আন্দোলনস্থলে অনুপ্রবেশ করেছে এবং ভুয়া স্লোগান দিয়ে সহিংসতা ছড়াচ্ছে। দুঃখজনক বিষয় হলো, এর পেছনে কিছু শিল্পমালিক জড়িত। সাবেক সংসদ-সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীও এর সঙ্গে জড়িত আছেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শ্রমিকনেতা ও সংসদ-সদস্য শিমুল বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে পোশাক কারখানার মালিকদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু শিল্পমালিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারখানা বন্ধ করেছেন। তাদের তালিকা দিতে মালিক সংগঠনের নেতাদের বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত শ্রমিকনেতা ও সংগঠনগুলোর নামের তালিকাও চাওয়া হয়েছে। পোশাকশিল্পের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ২৪ ঘণ্টা নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে যোগাযোগের জন্য নির্দিষ্ট ব্যক্তি ঠিক করা হয়েছে। মালিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও যোগাযোগের নির্দিষ্ট ব্যক্তি থাকবেন। এজন্য পুলিশের সদর দপ্তরে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে সুরক্ষা অ্যাপসের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা কোনো শিল্পকারখানা বন্ধ হোক, সেটা চাই না। এক মুহূর্তের জন্য বন্ধ হোক, সেটা চাই না। শ্রমিক আন্দোলনের নামে যারা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। এ অস্থিরতার পেছনে প্রকৃত কোনো শ্রমিক জড়িত নয়। মন্ত্রী অভিযোগ করেন, কিছুদিন ধরে পতিত স্বৈরাচারের ফ্যাসিবাদের সমর্থিত কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। যারা সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে, তাদের পেছনে যারা ইন্ধন দিচ্ছেন, তারা চিহ্নিত হয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ এবং কিছু কিছু প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। অডিও আছে, ভিডিও আছে এবং বিভিন্ন সহিংস ঘটনার ভিডিও আছে।

সরকার ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বোর্ডের প্রথম সভা দ্রুততম সময়ের মধ্যেই অনুষ্টিত হবে। আলোচনা করে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, প্রতি তিন বছর পরপর শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের যে দাবি, সেটা সরকার কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই গঠনের উদ্যোগ নেয়। মালিকপক্ষের প্রতিনিধির নামও তারা দিয়েছিলেন। কিন্তু শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নাম দিতে তারা কয়েকদিন সময় নিয়েছিলেন। গত পরশু রাতে তারা তাদের প্রতিনিধির নাম দিয়েছেন। শ্রমিক-মালিকপক্ষের নাম নিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। ডিসেম্বরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তি, পলাতক নেতা যারা ফিরতে চায় তারা দ্রুত ফিরুক। সেটা ডিসেম্বর লাগবে কেন? আমরা তাদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই।

সোমাবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে তৈরি পোশাক খাতে সাম্প্রতিক অস্থিরতা নিরসন, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনা এবং শিল্পকারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী বলেন, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সড়ক-মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তারা শ্রমিকের বন্ধু হতে পারে না। তিনি শ্রমিকদের কোনো অপপ্রচারে কান না দিয়ে অবিলম্বে কাজে ফেরার ও নিজ নিজ কর্মস্থলে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় যেসব নিরপরাধ শ্রমিক বা নেতা গ্রেফতার হয়েছেন, তাদের আইনানুগ মুক্তির বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেন। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী গার্মেন্ট শ্রমিক মেহনতী মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে একটি শ্রমিকবান্ধব ও শিল্পবান্ধব মজুরি নির্ধারণের নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এবং নবগঠিত ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আক্তার সব পোশাকশ্রমিকদের অবিলম্বে কারখানায় ফিরে গিয়ে উৎপাদন সচল রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তারা কোনো আনুষ্ঠানিক ধর্মঘট বা কারখানা বন্ধের ডাক দেননি, বরং কতিপয় বহিরাগত এসে কারখানায় ঢিল মেরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের মূল দাবি ছিল ন্যূনতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন, যা সরকার কোনো সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত গঠন করেছে। খুব দ্রুতই এই মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে শ্রমিক পক্ষের জোরালো প্রস্তাবনা তুলে ধরা হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে কোনো শ্রমিক সংগঠন পাশে দাঁড়াবে না। তাই কারখানার উৎপাদন সচল রেখে নিয়মতান্ত্রিকভাবে মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে হবে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই যৌক্তিক ও মানসম্মত নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় শ্রমিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ তৃণমূল গার্মেন্ট শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মির্জা আল শামীম, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা, বিপ্লবী গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অরবিন্দু বেপারী বিন্দু, বাংলাদেশ পোশাকশ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আকাশ আহম্মেদ বাবুল ( আকাশ আহমেদ), স্বাধীন গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাকিল হোসেন মোবারক (মো. শাকিল), জাতীয় তৃণমূল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আমীর হামজা খান, বাংলাদেশ পোশাকশ্রমিক ঐক্য পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমান, শ্রমিক দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু, রেডিমেড গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি লাভলী ইয়াসমীন, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি জাকির হোসেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক ও মালিক উভয়পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শিল্প পরিচালিত হয়। মালিকের পুঁজি ও শ্রমিকের শ্রমের সমন্বয়েই শিল্প গড়ে ওঠে, অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয় এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ে। তাই শিল্প চালু রাখা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং দেশের রপ্তানি অব্যাহত রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, দেশে বেকারত্বের হার যেন আরও না বাড়ে, সেজন্য মিল-কারখানা চালু রাখা জরুরি।

শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী দক্ষতায় গড়ে তুলতে হবে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী : জবি প্রতিনিধি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তালমিলিয়ে চলতে হলে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর, উদ্ভাবনী ও গবেষণাভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। শুধু সনদ অর্জন নয়, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। সোমবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদদীনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইফ নূরুল ইসলাম মনি, আরও ছিলেন সংসদ-সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার, হুইফ ও সংসদ-সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমিন, বিভিন্ন বিভাগের ডিন ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

পোশাক খাত নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রতিবেদন অস্থিরতার নেপথ্যে আ.লীগ

অস্থিরতার নেপথ্যে আ.লীগ

আন্দোলনের নামে অরাজকতা

আন্দোলনের নামে অরাজকতা

মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক আন্দোলনে ফ্যাসিস্টদের ইন্ধন রয়েছে

আন্দোলনে ফ্যাসিস্টদের ইন্ধন রয়েছে

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা দাবি শ্রমিক অসন্তোষে ৬৭৯ পোশাক কারখানা বন্ধ

শ্রমিক অসন্তোষে ৬৭৯ পোশাক কারখানা বন্ধ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম