পোশাক খাতে অস্থিরতা
১৪৪ উসকানিদাতা চিহ্নিত
Advertisement
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের তৈরি পোশাকশিল্প অস্থিতিশীল করার উসকানিদাতা হিসাবে ১৪৪ জনকে চিহ্নিত করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। ইতোমধ্যে তাদের ৩৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারেও চলছে অভিযান। সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী-নাশকতার নির্দেশদাতা হিসাবে সাবেক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নাম বেরিয়ে এসেছে। আর উসকানিদাতা হিসাবে এসব নেতাকর্মীর পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নেতার নাম জানা গেছে। তারাই নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা করছেন।
সূত্র জানায়, গত ৩১ অক্টোবর নিষিদ্ধ ঘোষিত শ্রমিক লীগের নেতা আজগর আলীকে গ্রেফতার করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিজের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রাখতেই গাজীপুর জেলা গার্মেন্ট টেইলার্স ওয়ার্কার্স ফেডারেশন নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। আজগর এ সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সাবেক মন্ত্রী মোজাম্মেল শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি ও নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন। এমনকি গ্রেফতারের সময় মোজাম্মেলের ফোন থেকে তার মোবাইল ফোনে বারবার কল আসছিল। আজগরের বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অনেক লোককে গার্মেন্টে তিনি চাকরির সুযোগ দিয়েছিলেন। এ কারণে গার্মেন্ট শ্রমিকদের অনেকেই তার অনুগত।
সূত্র জানায়, পোশাকশিল্পে সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিষিদ্ধ সংগঠনের যেসব নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সাবেক সংসদ-সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর এপিএস মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ, শ্রমিক লীগ ফতুল্লা আঞ্চলিক শাখার সভাপতি হাবিবুল কবির, একই শাখার সিনিয়র সহসভাপতি আলমগীর হোসেন, শ্রমিক লীগ নেতা কাউসার আহমেদ পলাশের সহযোগী পারভেজ, যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম মোল্লা, সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি হযরত আলী, কাঁচপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, সোনারগাঁ সরকারি কলেজের ছাত্রলীগ নেতা ফাহিম প্রধান, ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ নেতা মো. হৃদয়, মোহাম্মদ পারভেজ, নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ নেতা আল ইমরান, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাজি আক্তার নূর, আড়াইহাজারের বিশনন্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা আল মামুন পারভেজ।
সূত্র জানায়, মিরপুর থেকে সম্প্রতি যে ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা সবাই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। তাদের মধ্যে কামাল গাজী হলেন শ্রমিক লীগের সহসাধারণ সম্পাদক। গাজীপুর থেকে গ্রেফতারকৃত নিষিদ্ধ সংগঠনের ১০ জনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশন গাজীপুর জেলার সভাপতি মোরশেদ আলম কাউছার, গ্রিন বাংলা গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশন গাজীপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক রোজিনা আক্তার সুমি, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের তথ্য সম্পাদক মোস্তফা কামাল, ‘গাজীপুর গার্মেন্ট শ্রমিক’ নামের ফেসবুক পেজের এডমিন ফুয়াদুর রহমান নির্জন ও শ্রীপুর থানা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আলতাফ হোসেন।
সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে পোশাকশিল্পে আন্দোলনে উসকানিদাতা হিসাবে গোয়েন্দারা যাদের চিহ্নিত করেছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন সম্পাদক খায়রুল মামুন মিন্টু ও বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ সারোয়ার। এছাড়া এই তালিকায় আছেন স্বাধীন বাংলা গার্মেন্ট শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আল কামরান, জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ইউনিটির সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ফরিদ ও টেক্সটাইল গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশন ঢাকা জেলার সভাপতি মিজানুর রহমান (বড়)। একই সঙ্গে উসকানিদাতাদের তালিকায় রয়েছেন সবুজ বাংলা গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ইসমাইল হোসেন ঠাণ্ডু, বাংলাদেশ শ্রমজীবী গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান (ছোট) এবং ইউনাইটেড ফেডারেশন অব গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি ইমন শিকদার। পাশাপাশি সম্মিলিত গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মোছা. নাজমা আক্তার, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের শ্রমিক কল্যাণ সম্পাদক রাসেল প্রামাণিক, বাংলাদেশ গার্মেন্ট লেবার কংগ্রেস আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম (ছোট) এবং বাংলাদেশ বিপ্লবী গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান জীবনও এ তালিকায় রয়েছেন।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে উসকানিদাতা হিসাবে বেশকিছু শ্রমিক সংগঠনের নেতা, কারখানার কর্মী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার নাম উঠে এসেছে। ট্রেড ইউনিয়ন ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন-সিপিবির সদস্য ও গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষ, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, ঢাকা ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সহসভাপতি জয়নাল আবেদীন, বাংলাদেশ সোয়েটার ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মনজুরুল ইসলাম মঞ্জু, বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার, গার্মেন্ট শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক মোশরেফা মিশু, মুক্ত গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশন গাজীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক সাগর আহমেদ (বাদশা) এবং গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি ডলি আক্তার রেহেনা।
গাজীপুরের আন্দোলনে উসকানিদাতার তালিকায় থাকা অন্যরা হলেন সদর মেট্রো থানা জাতীয় শ্রমিক লীগের সিনিয়র সহসভাপতি লুৎফর রহমান, মহানগর শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কবির আহমেদ মণ্ডল, বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন গাজীপুর শাখার সভাপতি রাসেল মণ্ডল, বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জালাল হাওলাদার ও সভাপতি আমিনুল ইসলাম। তালিকায় অন্য সংগঠনের নেতাদের মধ্যে আছেন মাদারল্যান্ড গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি সালেহা ইসলাম শান্তনা ও সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন ইসলাম, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক স্মৃতি আক্তার, গার্মেন্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সত্যজিৎ বিশ্বাস, বাংলাদেশ গার্মেন্ট টেক্সটাইল অ্যান্ড লেদার ওয়ার্কার্স গাজীপুর শাখার সহসভাপতি মোহাম্মদ তাওহিদ মিয়া, বাংলাদেশ মেটাল, কেমিক্যাল, গার্মেন্ট ও দর্জি শ্রমিক ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ মিয়া, গার্মেন্ট শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের ইকবাল কবির, একতা গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কফিল উদ্দিন, জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহীন ভূঁইয়া ও প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য লীগের সভাপতি হাসনা আলম আসমা, সম্মিলিত গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের মানিক ও আলম এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আতিকুর রহমান।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংগঠনভিত্তিক নেতাদের পাশাপাশি আন্দোলনের উকানিদাতা হিসাবে স্থানীয় বেশ কয়েকজন পোশাক কারখানার শ্রমিকও যুক্ত। তাদের মধ্যে রয়েছেন কালিয়াকৈর ও এর আশপাশের বিভিন্ন কারখানার সিনিয়র অপারেটর বাহাদুর মিয়া, হিমেল সরকার, বাবু মিয়া, কাজী ওয়াহিদ, আনিসুর রহমান, সিনিয়র অপারেটর খুকি বেগম, জুনিয়র অপারেটর ফজলুর রহমান, কোয়ালিটি ইন্সপেক্টর নাসির উদ্দিন ও আমির হোসেন, অপারেটর গিয়াস উদ্দিন ও দীপঙ্কর চন্দ্র বর্মণ, অপারেটর (সুইং সেকশন) রত্না বেগম (কানা), মোসাম্মৎ নাসরিন, গাজীপুর সদরের পলাশতলীর সিনিয়র অপারেটর আবু তালেব, প্রতাপপুরের সিনিয়র অপারেটর জসীমউদ্দীন, নীলফামারীর সুইং সেকশনের অপারেটর শ্যামলী আক্তার, লক্ষ্মীপুরের সিনিয়র অপারেটর মতিন উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জের জাহাঙ্গীর (কালিয়াকৈরে অবস্থানরত), সিরাজগঞ্জের ফিনিশিং সেকশনের আইরন ম্যান আব্দুল আলিম, জামালপুরের হেলপার আব্দুল ওয়াহাব এবং হা-মিম গ্রুপে কর্মরত আখতারুজ্জামান। পাশাপাশি কালিয়াকৈর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও সাবেক যুবলীগ নেতা খাত্তাব মোল্লা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি সেলিমের নামও উসকানিদাতা হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে এ আন্দোলনে উসকানিদাতা হিসাবে বেশ কয়েকজন শ্রমিক নেতার তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি এম এ শাহীন, একই সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন। এই তালিকায় আছেন শ্রমিক নেতা মাহবুব আলম ইসমাইল, জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি গাজী নূরে আলম, গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রবিন এবং শ্রমিক ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শরিফ হোসেন।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পলাতক নেতাকর্মীরা এবং সাবেক প্রভাবশালীরা পরিচয় গোপন করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। গাজীপুর অঞ্চলে প্রায় দুই হাজার ৭০০টি পোশাক কারখানা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কেবল ভোগড়া রোডেই রয়েছে প্রায় ৩০০টি। ৫০টিরও বেশি বড় কারখানায় প্রতিটিতে ৫ হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মরত। সম্প্রতি শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে স্টারলিং অ্যাপারেলস, অ্যাপেক্স ফুটওয়্যার, ট্রপিক্যাল নিটেক্স লিমিটেড ও অ্যাসেন্সিয়াল ক্লোদিং লিমিটেডের ঘটনাগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।
পুলিশ জানায়, আন্দোলনের বিভিন্ন পয়েন্টে মাস্ক পরা সন্দেহভাজন বহিরাগতদের উসকানি দিতে দেখা যাচ্ছে। তারা শ্রমিক নন, বরং নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য। তারা পরিচয় গোপন করে সংহতি প্রকাশ ও নাশকতার উদ্দেশ্যে শ্রমিকদের মধ্যে অনুপ্রবেশ করেছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস আই সাজবুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সাবজুল শ্রমিক মিছিলে অংশ নেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট প্রচার করে অসন্তোষ উসকে দেন।
পুলিশের একটি সূত্র বলে, পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করতে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র চলছে। সাধারণ শ্রমিকদের আবেগ ও ন্যায্য দাবিকে পুঁজি করে একটি মহল এই খাতে বড় ধরনের নাশকতার ছক কষেছে-এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে গত ১০ অক্টোবর গোয়েন্দা প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এর ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর রাজনৈতিক শাখা থেকে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং এসপিদের চিঠিও দেওয়া হয়। ওই চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, পোশাক শ্রমিকদের বেতন ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। চিঠিতে আরও বলা হয়-আগামী ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার নতুন নিম্নতম মজুরি বোর্ড ঘোষণা করবে। তাই এ পর্যন্ত কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দিয়ে শ্রমিকসহ সবাইকে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানানো হয়। এর পরও দানা বাঁধতে থাকে শ্রমিক অসন্তোষ। গত ১ নভেম্বর থেকে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, পোশাকশিল্প খাতে চলমান অস্থিরতা ও অসন্তোষ সৃষ্টির নেপথ্যে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের বড় উসকানি আছে। আমরা এরই মধ্যে একাধিক নেতাকে আটক করেছি। তাদের একজন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রচার সম্পাদক। তার থেকে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। শিগ্গিরই সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হবে।
এদিকে পোশাক শিল্পাঞ্চলে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় পুলিশ ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনে এসব অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যসহ শতাধিক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৩ জনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপি। মিরপুর, আশুলিয়া ও গাজীপুর এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কয়েকটি মামলা হয়েছে। মিরপুরে সহিংসতার ঘটনায় একাধিক মামলায় অন্তত ৬০ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বাকিদের গ্রেফতারে চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিল্পাঞ্চলে যৌথ বাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাচ্ছে।

