হারের জন্য ট্রাম্পকে দুষছেন রিপাবলিকানরা
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভরাডুবির কারণে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোয় ভোটাররা ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির নেতারা তাকে নীতি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্ট হিসাবে ট্রাম্পের মেয়াদ যখন শেষ পর্যায়ে, তখন তার মিত্র ও কৌশলীরা হোয়াইট হাউজের কর্মী পরিবর্তন, শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ও পরাজয়ের জন্য দায়ী নীতিগুলো পরিবর্তনের কথা বলছেন। এর মধ্যে ইরান যুদ্ধ ও শুল্ক বন্ধের দাবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রবীণ রিপাবলিকান কৌশলবিদ জন ফিহেরি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলকে ট্রাম্পের জন্য ‘বিরাট বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেন। ফিহেরি বলেন, ‘তার নিজের ঘর গোছানো প্রয়োজন। এখন থেকে প্রতিটি দিন তিনি আরও বেশি দুর্বল ও অকার্যকর হয়ে পড়বেন।’
তবে নির্বাচনের এ ফলকে নিজের কর্মপন্থা পরিবর্তনের কারণ হিসাবে দেখার কোনো ইঙ্গিত ট্রাম্প দেননি। মঙ্গলবার গভীর রাতে ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, ‘আমি এটিকে আমার ওপর কোনো আঘাত বলে মনে করি না।’
এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের প্রচেষ্টাকে বাধা দেওয়ার, প্রশাসনকে তদন্ত করার এবং তার মনোনীত ব্যক্তিদের চ্যালেঞ্জ জানানোর ক্ষমতা থাকবে। ফলে ট্রাম্প, যিনি ইতোমধ্যে তার নির্বাহী ক্ষমতা অত্যন্ত জোরালোভাবে ব্যবহার করেছেন-ভবিষ্যতে আরও বেশি একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার ওপর রিপাবলিকান নেতাদের চাপ রয়েছে। কার্যত তিনি দলের বারোটা বাজিয়ে চলেছেন। এ কারণে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মুখেও এখন ট্রাম্পের বিরোধিতার সুর।
হোয়াইট হাউজে কর্মী রদবদল ও তদন্তের প্রস্তুতি
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, হোয়াইট হাউজের ভেতরে উচ্চপদস্থ সহযোগীরা কর্মী ছাঁটাই, মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরুর প্রস্তুতি চলছে। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এ মুহূর্তে এখানে থাকাটা অত্যন্ত হতাশাজনক।
সবার মনোবল তলানিতে ঠেকেছে।’ তিনি জানান, নির্বাচনের ছয় সপ্তাহ আগেই অভ্যন্তরীণ জরিপে সতর্ক করা হয়েছিল যে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই পরাজয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছেন। কিন্তু রাজনৈতিক পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করা সত্ত্বেও ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে নিজের অবস্থান বদলাতে রাজি হননি। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত তিনি এসব নিয়ে মোটেও মাথা ঘামাননি। তিনি কারও কথাই শুনতে চাননি।’
রিপাবলিকানদের উদ্বেগ কেবল ইরান যুদ্ধেই সীমাবদ্ধ ছিল না। মিশিগান ও আইওয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোয়, যেখানে সিনেট আসন নিয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল, সেখানে আয়োজিত ফোকাস গ্রুপগুলোয় রিপাবলিকান রাজনৈতিক উপদেষ্টারা ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মুখে পড়েন।
কারণ, অনেক রিপাবলিকান ও স্বতন্ত্র ভোটার হোয়াইট হাউজের বলরুম এবং ওয়াশিংটনের বিভিন্ন সংস্কারকাজের ওপর ট্রাম্পের অতিরিক্ত মনোযোগের বিরোধিতা করেছিলেন। একজন রিপাবলিকান রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘ট্রাম্প যদি আগামী দুই বছর এই একই বাজে বিষয় নিয়ে পড়ে থাকেন, তবে পরবর্তী নির্বাচনেও আমাদের শোচনীয় পরাজয় ঘটবে।’
অথচ বুধবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের নিয়ে হঠাৎই বলরুম নির্মাণের স্থানটি পরিদর্শনে যান এবং এ প্রকল্পের পেছনে তার সময় ব্যয় করার বিষয়টি সমর্থন করেন। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এটি বেশ আরামদায়ক।’ হোয়াইট হাউজ জনসমক্ষে এক আপসহীন অবস্থান নিয়েছে; তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্পের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছে-‘একটি বার্তা : ট্রাম্প এখনো আপনাদের প্রেসিডেন্ট।’
ট্রাম্পকে নিয়ন্ত্রণে রাখার অঙ্গীকার ডেমোক্র্যাটদের
রয়টার্স জানায়, ডেমোক্র্যাটরা তাদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পাওয়া বড় জয়কে কাজে লাগিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে নিয়ন্ত্রণে রাখার অঙ্গীকার করেছেন। ফলে ওয়াশিংটনে আগামী দুই বছর অচলাবস্থা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবারের ভোটে ট্রাম্পের দল মার্কিন সিনেটে ৫৪-৪৪ ব্যবধানে হেরে যায়। একইভাবে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানরা হারে ২৪৫-১৪৭ ব্যবধানে।
এ অবস্থায় হাউজে ডেমোক্রেটিক দলের নেতা হাকিম জেফ্রিস বুধবার বলেন, নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠ পক্ষটি মূলত ব্যয়সাশ্রয়ী জীবনযাপন এবং জবাবদিহির ওপর গুরুত্ব দেবে। নিউইয়র্কের আইনপ্রণেতা জেফ্রিস, যিনি হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার পথে রয়েছেন, বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য কাজ করি না। আমরা কাজ করি আমেরিকান জনগণের জন্য। আর হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভস যে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি পূর্ণাঙ্গ অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করত, সেই দিন শেষ হয়ে গেছে।’
