Logo
Logo
×

Advertisement

ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প রদ্রির

Icon

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

বিশ্বকাপ শুরুর আগে রদ্রিকে ঘিরে ছিল প্রশ্ন। হাঁটুর চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরলেও চেনা ছন্দে ছিলেন না। বিশ্বকাপের শেষদিনে তিনি দাঁড়ালেন শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পেদের পেছনে ফেলে টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বল’ উঠেছে রদ্রির হাতে। অথচ, পুরো বিশ্বকাপে রদ্রির কোনো গোল নেই। নেই গোলে সহায়তা করার নজিরও। নেতৃত্ব আর মাঠে তার ভূমিকা চোখ এড়ায়নি ফিফার।

রদ্রি বিশ্বকাপে স্পেনের প্রতিটি জয়ের কেন্দ্রে ছিলেন। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণকে সুরক্ষা দেওয়া, আক্রমণের ভিত গড়ে তোলা এবং প্রতিপক্ষের ছন্দ নষ্ট করা-সব মিলিয়ে দলকে অবিশ্বাস্য ছন্দে রেখেছিলেন তিনি। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে জিতেছেন চারটি প্রিমিয়ার লিগ, তিনটি লিগ কাপ, দুটি এফএ কাপ, একটি করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ক্লাব বিশ্বকাপ, উয়েফা সুপার কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড। স্পেনের জার্সিতে জিতেছেন ২০২২-২৩ নেশন্স লিগ, ইউরো ২০২৪ এবং এবার বিশ্বকাপ। ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকায় আছে ২০২৪ সালের ব্যালন ডি’অর ও ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল।

রদ্রির গল্প ছিটকে গিয়েও ফিরে আসার। ২০২৪ সালে ব্যালন ডি’অর জয়ের বছরে আর্সেনালের বিপক্ষে ম্যাচে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন। প্রায় আট মাস পর তিনি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ফেরেন। শুরুতে ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। কোচ পেপ গার্দিওলাও স্বীকার করেছিলেন, রদ্রি হয়তো কিছুটা তাড়াহুড়া করেই মাঠে ফিরেছেন। বিশ্বকাপে তিনি গল্পটা নতুন করে লিখলেন। ফাইনালের পর আবেগাপ্লুত রদ্রি বলেন, ‘আমরা এখনো যেন বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না কেমন লাগছে। আমরা যেন মেঘের ওপর ভাসছি।’ চোট থেকে ফিরে আসার কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘এটা আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি। আমি চাই নতুন প্রজন্ম আমার গল্প থেকে শিখুক জীবনে পড়ে গেলে আবার উঠে দাঁড়ানো যায়। এটাই আমার জীবনের দর্শন। কখনো সব কিছু ভালো যায়, কখনো খারাপ। ইতিবাচক মানসিকতাই মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়।’ ফাইনালের আগে সতীর্থদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে বলেছিলাম, আমাদের সাহস নিয়ে খেলতে হবে। প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে হবে। জিতব কী হারব, সেটা পরে দেখা যাবে। কিন্তু ভয় পেলে চলবে না। আমরা সাহস দেখিয়েছি। সেই সাহসেরই পুরস্কার পেয়েছি।’

এই সাফল্যে রদ্রি এখন সেই বিরলদের কাতারে, যেখানে আছেন জার্ড মুলার, বেকেনবাওয়ার ও জিনেদিন জিদানের মতো কিংবদন্তিরা। যারা দেশের হয়ে ইউরো ও বিশ্বকাপ, ক্লাবের হয়ে ইউরোপসেরা ট্রফি এবং ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। রদ্রি বিশ্বকাপে ৭৯০টি সফল পাস দিয়েছেন, যা আগের বিশ্বকাপে তার গড়া ৬৩৮ পাসের রেকর্ড ভেঙে নতুন নজির। ফাইনালে ৯৯ মিনিট মাঠে থেকে ১০৫টি পাসের মধ্যে ১০১টিই সফল পাস দেন। ট্যাকল ও দীর্ঘ পাস দুই ক্ষেত্রেই ছিলেন ম্যাচসেরা।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

আর্জেন্টিনার হারের ৫ কারণ

আর্জেন্টিনার হারের ৫ কারণ

তোরেসের গোল পুরো স্পেনের

তোরেসের গোল পুরো স্পেনের

আসলামের কলাম স্পেনের তারুণ্যের জয়

স্পেনের তারুণ্যের জয়

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প রদ্রির

অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প রদ্রির

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম