তোরেসের গোল পুরো স্পেনের
মোজাম্মেল হক চঞ্চল, গ্লাসগো থেকে
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
২০২৬ বিশ্বকাপের রবিবাসরীয় ফাইনালে ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের পা থেকে বেরিয়ে আসা শট বদলে দিয়েছে স্পেনের ফুটবল ইতিহাস। বল জালে জড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই থেমে গিয়েছিল সময়। একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়েছিল স্টেডিয়াম, গ্যালারি আর স্পেনের কোটি মানুষের হৃদয়। সেই এক গোল স্পেনকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বকাপের চূড়ায়।
১০৬ মিনিটের সেই মুহূর্ত তৈরি হয়নি একদিনে। স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ার মাটিতে ছোট্ট ফেরান তোরেস একদিন স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশের জার্সি গায়ে বড় মঞ্চে খেলার। ভ্যালেন্সিয়া সিএফের একাডেমিতে শুরু হয়েছিল তার ফুটবলের ভিত্তি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে মূল দলে অভিষেক। এরপর ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার সিটি হয়ে বার্সেলোনায় পাড়ি। ক্লাব ফুটবলে কখনো প্রশংসা, কখনো সমালোচনার মধ্য দিয়েই এগিয়েছেন তিনি।
ফাইনালের রাতেও সহজ ছিল না কিছুই। ম্যাচ গড়িয়েছে অতিরিক্ত সময়ে। দুদলের খেলোয়াড়দের পায়ে ক্লান্তি। শরীরের চেয়ে তখন বেশি লড়াই হচ্ছিল মনের সঙ্গে। প্রতিটি পাসে সতর্কতা, প্রতিটি ট্যাকলে ভয়, প্রতিটি মুহূর্তে চাপ।
ঠিক তখনই আসে সেই সুযোগ। নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ। এক মুহূর্তের সিদ্ধান্ত। তারপর তোরেসের শট। বল জালে। ইতিহাস লেখা হয়ে যায়। গোলের পর তোরেস ছুটে যান। দুই হাত আকাশের দিকে তুলে ধরেন। সতীর্থরা দৌড়ে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন। বহু বছরের অপেক্ষা যেন কয়েক সেকেন্ডে শেষ হয়ে যায়।
ম্যাচ শেষে তোরেস বলেছেন, ‘ছোটবেলা থেকে এমন একটি মুহূর্তের স্বপ্ন দেখেছি। দেশের জন্য বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করা। এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো অনুভূতি নয়। এই গোল শুধু আমার নয়, পুরো স্পেনের।’ গোলের পরও শেষ হয়নি পরীক্ষা। বাকি সময়টা স্পেনের জন্য হয়ে উঠেছিল সবচেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা। প্রতিটি সেকেন্ড যেন একেকটি মিনিট। গ্যালারিতে সমর্থকরা প্রার্থনা করছিলেন। বেঞ্চে বসা খেলোয়াড়দের চোখে উদ্বেগ। সবাই অপেক্ষা করছিলেন শেষ বাঁশির।
অবশেষে সেই বাঁশি বাজল। মুহূর্তেই সব বাঁধ ভেঙে গেল। কেউ হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন। কেউ চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না। কেউ আকাশের দিকে তাকিয়ে দুই হাত তুলে দিলেন। তোরেসকে ঘিরে ধরলেন সতীর্থরা। সেই আলিঙ্গনে ছিল আনন্দ, স্বস্তি আর ইতিহাস ছোঁয়ার অনুভূতি।
বিশ্বকাপ ট্রফি যখন স্পেনের অধিনায়কের হাতে উঠল, তখন সবার মনে ফিরে এসেছিল ১০৬ মিনিটের সেই গোল। বহু বছর পর হয়তো মানুষ ম্যাচের সব পরিসংখ্যান মনে রাখবে না। কিন্তু মনে রাখবে সেই মুহূর্ত। মনে রাখবে তোরেসের দৌড়। মনে রাখবে দুই হাত আকাশের দিকে তুলে ধরা সেই উদ্যাপন। ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের সেই গোল শুধু বিশ্বকাপ জেতায়নি, সময়ের বুকেও নিজের জন্য চিরস্থায়ী একটি জায়গা তৈরি করে নিয়েছে।
